Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

টানা বর্ষণে ফসল ও মত্স্য খামারে ব্যাপক ক্ষতি : চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
টানা পাঁচ দিন ধরে প্রবল বর্ষণের ফলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে বাড়ছে। ফলে জেলার ৩ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ। জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়াতেই এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। এদিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কক্সবাজারে পানিবন্দি ৩ লক্ষাধিক মানুষ : কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার ৩ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ। জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়াতেই এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। এছাড়াও কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলায়
আরও অন্তত দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদের মধ্যে সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিতে তলিয়ে আছেন।
পানিবন্দি হয়ে পড়া এসব এলাকায় ব্যাপক হারে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বীজতলা ও চিংড়ি ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। শনিবার সকালে কক্সবাজার শহরেই পাহাড় ধসে পড়ে সাকিব নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তার মাসহ আরও দুই মহিলা।
একদিকে পূর্ণিমার জোয়ার আর অন্যদিকে টানা ৫ দিনের বৃষ্টিপাত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শনিবার সদর উপজেলার পাহাড়ি এলাকা সংলগ্ন পাদদেশে বসবাসকারী ৭০ পরিবারকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির কারণে শনিবার দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খরুলিয়া এলাকায় অন্তত এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পানি নেমে গেলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টায় ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২২৪ মিলিমিটার।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, গভীর সাগরে সঞ্চালনশীল মেঘ সৃষ্টির কারণে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের আশঙ্কাও করছেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে এসব এলাকার পানি কোথাও সরতে না পেরে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, কক্সবাজার সদর উপজেলার বাংলাবাজার, পিএমখালী, চান্দেরপাড়া, মল্লিকপাড়া, এসএমপাড়া, কক্সবাজার শহরের কলাতলী, নাজিরারটেক, সমিতিপাড়া ও হাজিপাড়া অন্যতম।
কক্সবাজার শহরের সমিতির স্কুলশিক্ষক ও সাংবাদিক মোস্তফা সরওয়ার জানান, নাজিরারটেক, সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইলসহ কয়েকটি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। এসব এলাকার দীর্ঘ প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা কোমর সমান পানি জমে গেছে।
এদিকে বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, বড় বাজারসহ বেশকিছু এলাকা পানিতে ডুবে যায়। শনিবারও টানা বর্ষণের কারণে এসব এলাকা কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাজারঘাটা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বৃহত্তর ঈদগাঁও : সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁও অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।
সরেজমিন পরিদর্শন করে সংবাদকর্মী মিজানুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, তিন দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি ঈদগাঁও নদীর দু’কূল উপচিয়ে উপকূলবর্তী লোকালয়ে প্রবেশ করে। গত শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ বন্যা-আতঙ্কে থাকায় প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে ঈদগাঁও বাজারের দুই সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পানিবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানিয়েছেন, নদীতে পাহাড়ি পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙনকবলিত অংশ পালপাড়ায় আরও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙনের কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও এলাকাবাসীর মতে, ঢলের পানিতে বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের ইসলামাবাদের গজালিয়া, ওয়াহেদরপাড়া, খোদাইবাড়ি, চরপাড়া, বাঁশঘাটা, হিন্দুপাড়া, দক্ষিণ খোদাইবাড়ির লামারপাড়া, ইসলামপুর, পোকখালী, চৌফলদণ্ডী, ভারুয়াখালী ও জালালাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার সহস্রাধিক পরিবারের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
এলাকাবাসী জানান, উপকূলীয় ইউনিয়ন চৌফলদণ্ডী ও পোকখালী ইউনিয়নের মহেশখালী সাগর চ্যানেলের বেড়িবাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়ায় এলাকার জনসাধারণ বন্যা-আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
ইসলামাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় সাগরের পানি প্রবেশ বন্ধ করে দেড় শতাধিক পরিবারকে রক্ষা করেছেন।
তিনি জানান, দুপুরের পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় নদীতে পানির স্রোত কমতে শুরু করে। অনেক এলাকায় এ সময় পানি নেমে গেলেও অধিকাংশ এলাকা পানিতেই ডুবে আছে।
চকরিয়া : চকরিয়ায় টানা ৪ দিনের বৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে অর্ধশতাধিক বাড়িঘরসহ ফসলি জমি, ক্ষেতের শাক-সবজি, বীজতলা, চিংড়ি ঘের এবং রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে আছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চকরিয়া পৌর এলাকা ও চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ৫ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকে পাহাড়ি এলাকাসহ আশ্রয় কেন্দ্র, বেড়িবাঁধ, দ্বিতল স্কুল ও উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। বেশিরভাগ মানুষ বসতঘর ও মালামাল রক্ষার্থে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ ঘরে অবস্থান করছেন।
সরেজমিন ঘুরে আসা সমাজকর্মী জহিরুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার অঝোর ধারায় বিরতিহীনভাবে বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট প্লাবনে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ সড়ক, রোপা ধানসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে কোমর পানিতে। মানবিক বিপর্যয়ের পরিবেশ দেখা না দিলেও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।
তিনি জানান, অতি বৃষ্টিপাতে পৌর শহরে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। থানা সেন্টার এলাকা হয়ে পড়েছে পানিমগ্ন। অবিরত বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ এখনও পাওয়া যায়নি।
উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল জানান, সেকান্দরপাড়া ও ঈদমনিপাড়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, বানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে।
কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান আলী মনছুর, চকরিয়া পৌরসভার সাবেক কমিশনার ফজলুল করিম সাঈদী জানান, ঢলের পানির তোড়ে তাদের এলাকাসহ আরও বেশক’টি এলাকায় মাতামুহুরীর তীর ভেঙে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ভেসে গেছে প্রায় শতাধিক বসতঘর। ভেঙে গেছে অসংখ্য কাঁচা-পাকা ঘর ও রাস্তাঘাটসহ বহু স্থাপনা।
হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, টানা বৃষ্টিতে এ পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে ইউনিয়নের রাখাইনপাড়া আগে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে বিস্তীর্ণ নিম্ন্নাঞ্চলও ব্যাপক পানিতে প্লাবিত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে পাহাড়ি এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মাইকিং করা হচ্ছে।
খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে খুটাখালীর ফরেস্ট অফিসপাড়া ও জয়নগরপাড়া প্লাবিত হয়েছে। পাগলির বিলের একাংশ এলাকাও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
তাছাড়াও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পূর্বপাড়ায় কাবিখা প্রকল্পে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানান, নিম্নাঞ্চলে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত।
চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহিদুল ইসলাম ফোরকান জানান, পৌর শহরের রক্ষাবাঁধ ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি জানান, ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াপদা বেড়িবাঁধটি ১৭ দিনও অতিবাহিত হয়নি। ফের বেড়িবাঁধটি বিধ্বস্ত হয়েছে ক’দিনের বর্ষণে। পানিতে তলিয়ে গেছে পৌরসভার অন্যতম দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ পৌর দাখিল মাদরাসা। সংলগ্ন ঘরবাড়িও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
অন্যদিকে মানবিক বিপর্যয় রোধে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন—এমনটি জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবদিন। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে যারা বসবাস করছেন, তাদের সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
টেকনাফ : সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লানপাড়ার ফকিরামুরা ও ওরুমজুরা, নাইট্যংপাড়া; সদরের পল্লানপাড়া, মোরাপাড়া, জাহালিয়াপাড়া, হাবিবছড়া, রাজারছড়া; সাবরাং ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া, ডাঙ্গারপাড়া, উত্তরপাড়া, মাঝেরডেইল, ক্যাম্পপাড়া, জালিয়াপাড়া, মগপুরা, বিলপাড়া, হারিয়াখালী, কচুবনিয়া, কাটাবনিয়া, ঘোলাপাড়া, লাফারঘোনা; হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া, জাদিমোরা, নয়াপাড়া, লেদা, আলীখালী; হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী, ঘিলাতলী, কাটাখালী, উলুবুনিয়া; বাহারছড়া উপকূলীয় এলাকার শাপলাপুর, চৌকিদারপাড়া, বৃহত্তর শীলখালী, বাইন্যাপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা, চিংড়িঘের, পানের বরজ, সুপারি বাগান ও ফসলাদির চাষাবাদের জমি ডুবে গেছে।
টেকনাফ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, জোয়ার ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার ৬৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া সাংবাদিকদের জানান, টানা ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ২২ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে জেলার আরেক দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্চু জানান, তার ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামু উপজেলার ২০টি, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ৮০টি, কুতুবদিয়া উপজেলার ৫০টি এবং উখিয়া উপজেলার ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
উখিয়া : গত তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষণের ফলে উখিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অতিবর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল সমুদ্রের জোয়ারের স্রোতে নাফ নদী, বাঁকখালী, রেজু খাল, মনখালী বড়খালসহ বিভিন্ন খাল ও ছড়ার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উখিয়া উপজেলা সদরের উখিয়া স্টেশনের কাঁচা তরকারি ও মাছবাজার, উখিয়া ভূমি অফিস, পুরাতন থানা সড়ক, কাজীপাড়া, মৌলভীপাড়া, হাজিরপাড়া, দোছড়ি, মাইল্যারকুল, পশ্চিম হাজিরপাড়া, কোনারপাড়া, ঘিলাতলী, মধুরছড়া, মাছকারিয়া, শৈলেরডেবা, কুতুপালং, ডিগলিয়াপালং, টাইপালং, থাইংখালী, বালুখালী, পালংখালী, রহমতেরবিল, মুছারখোলা, রত্নাপালংয়ের তেলিপাড়া, ভালুকিয়া, করইবনিয়া, থিমছড়ি, চাকবৈটা, গয়ালামারা, হলদিয়া পালংপাতাবাড়ী, বড়বিল, পাগলিরবিল, রুমখাঁ চৌধুরীপাড়া, লম্বরীপাড়া, গোরারদ্বীপ, উপকূলীয় জালিয়াপালংয়ের পাইন্যাশিয়া, সোনারপাড়া, মাঙ্গালাপাড়া, নিদানিয়া, ইনানী, মো. শফিরবিল, পাটুয়ারটেক, চেপটখালী ও মনখালী এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম, মত্স্য খামার ও পুকুর প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয়। এসব এলাকার কয়েকটি মুরগির খামার পানিতে তলিয়ে যায়। তিন দিনের টানা বর্ষণের ফলে চিংড়ি চাষ সমৃদ্ধ ইউনিয়ন পালংখালীতে থাইংখালী ও বালুখালী, ধামনখালী ও মুছারখোলার প্রায় ১১শ’ একর বাগদা চিংড়ির খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ৫ শতাধিক কাঁচা ঝুপড়ি ধসে পড়েছে। এছাড়াও পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
পালংখালীর বাগদা চিংড়ি চাষী একরামুল হক চৌধুরী বাবলু জানান, প্রবল বর্ষণে থাইংখালী ও পালংখালী এলাকার চিংড়ি খামার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চন্দনাইশ : গত তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টির নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় দিনমজুররা বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। ভারি বর্ষণে গ্রামের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, পুকুর ও সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে আউশ-আমন ক্ষেতের বীজতলা। চন্দনাইশে লালুটিয়া সাতছড়ি, বরুমতি ও শঙ্খ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার কসাইপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কে পানি ছুঁই ছুঁই করছে। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় আরাকান সড়ক ডুবে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। গতকাল দোহাজারী ব্রিজ পয়েন্ট এলাকায় শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমার ২ ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শঙ্খ নদীর দু’পাড়ে সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ মাইঙ্গাপাড়া, বাজালিয়া, মৈশামুড়া, খাগরিয়া, আমিলাইশ ও চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী চাগাচর, বৈলতলী, যতেরমুখ, ডেবারকুল এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে।