Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নারী নির্যাতন : মান্দায় তরুণীকে ৩ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ : হবিগঞ্জে ইভটিজিং করায় ৩ জনের জেল

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নওগাঁর মান্দায় এক তরুণীকে তিনদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাত্রাবড়বাড়ি গ্রামে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় বানিয়াচঙ উপজেলার শেখের মহল্লার ৩ কিশোরকে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ৭ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
মান্দায় তরুণীকে ৩ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ : নওগাঁর মান্দায় এক তরুণীকে তিনদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষিত ওই নারী গত শনিবার সেখান থেকে পালিয়ে থানায় এসে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ভারশোঁ মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষিতা জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুবাস চন্দ্র কিংকর ওরফে কিনু নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। কিনু বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে দেলুয়াবাড়ি বাজারে ডেকে নেয়। পরে ওই রাতেই তাকে ভারশোঁ মধ্যপাড়া গ্রামে মোস্তফার বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়। ওই বাড়িতে কিনু তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
শুক্রবার রাতে ভিকটিমকে গ্রামের আলমগীর হোসেনের নির্জন বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাবেক ইউপি সদস্য হারেজ আলী, আলমগীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
ভিমটিম শনিবার ভোররাতে সেখান থেকে পালিয়ে মোস্তফার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় থানায় গিয়ে শনিবার রাতে কিনু, হারেজ মেম্বার, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গতকাল নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
হবিগঞ্জে ইভটিজিং করায় ৩ জনের জেল-জরিমানা : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাত্রাবড়বাড়ি গ্রামে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় বানিয়াচঙ উপজেলার শেখের মহল্লার ৩ কিশোরকে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ৭ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার রাতে এই দণ্ডাদেশ দেন হবিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহেলা রহমত উল্লাহ।
এলাকাবাসী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, যাত্রাবড়বাড়ি গ্রামের মইনুল হক সম্প্রতি বানিয়াচঙ উপজেলা সদরে বিয়ে করেন। শনিবার যাত্রাবড়বাড়ি গ্রামে তার নিজের বাড়িতে আয়োজন করা হয় বৌভাত অনুষ্ঠানের। বানিয়াচঙ থেকে কনের পরিবারের লোকজনও বৌভাতে আসেন। এদিকে বিকালের দিকে হবিগঞ্জ শহরের জেকে অ্যান্ড এইচকে হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী বাড়িতে যাওয়ার পথে যাত্রাবড়বাড়ি বাজারে এলে কনের বাড়ি থেকে বৌভাত অনুষ্ঠানে আসা নাহিদ, রাহাত ও সাকির নামে ৩ কিশোর মোবাইল ফোনে মেয়েটির ছবি তোলার চেষ্টা করে এবং মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ পরিস্থিতিতে মেয়েটি ভয় পেয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওই কিশোররা মেয়েটির হাতে ধরে টানা হেঁচড়া করে এবং হাতে মারাত্মক আঘাত করে। এ সময় মেয়েটি চিত্কার শুরু করে। চিত্কার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে কিশোররা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় মেয়েটিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গ্রামের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ৩ কিশোরকে আটক করে হবিগঞ্জ সদর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহেলা রহমত উল্লাহ ও এসআই মনিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হবিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহেলা রহমত উল্লাহ মেয়েটির ওপর নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাসপাতালে গিয়ে তার জবানবন্দি নেন। পরে রাত ৮টার দিকে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ৩ কিশোরকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড ও নাহিদকে ৫ হাজার, রাহাত এবং সাকিরকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। রাতেই তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
কেশবপুরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : যশোরের কেশবপুরের পাত্রপাড়া গ্রামে এক দিনমজুরের মেয়ে শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার বাবা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগটি কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, পাত্রপাড়া গ্রামের দিনমজুর হাবিবুর রহমান মোড়লের শিশু মেয়ে ২৮ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে পার্শ্ববর্তী শিকারপুর গ্রামের মজুব্বর মোড়লের ছেলে রানা মোড়ল একাকী পেয়ে ঘরের ভেতর তাকে যৌন নিপীড়ন চালায়। আক্রান্তের চিত্কারে তার মা এগিয়ে এলে লম্পট রানা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে রানা মেয়েটির বাবা হাবিবুর রহমানকে বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। গতকাল জুন বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন নির্যাতিতার বাবা। এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।