Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

চট্টগ্রামে গ্যাসের জন্য হাহাকার : সার বিদ্যুত্ শিল্প উত্পাদনে ধস : নিশ্চয়তা নেই নতুন সংযোগের

মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
চট্টগ্রামে গ্যাসসঙ্কট দিন দিন বাড়ছে। চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও সরবরাহ করতে পারছে না কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। সাড়ে চারশ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের অভাবে নতুন কলকারখানা স্থাপন করার কাজ প্রায় বন্ধ। চালু কারখানাগুলোও বন্ধের পথে। ধস নেমেছে বিদ্যুত্ ও সার উত্পাদনে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে গ্যাসচালিত দুটি বৃহত্ সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) এবং চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গত প্রায় চার বছর ধরে টাকা জমা দিয়েও গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না ১৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক।
এদিকে আবাসিক পর্যায়ে নতুন গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হলেও চট্টগ্রামের গ্রাহকদের গ্যাস পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন সংযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, রাইজার সংগ্রহসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সহসাই নতুন সংযোগের দেখা পাচ্ছেন না চট্টগ্রামবাসী।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রামে বর্তমানে মাত্র ১৫৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রিড থেকে ১৪৬ মিলিয়ন, সাগরবক্ষের গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু-১১ থেকে ৬ মিলিয়ন ও খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলছে।
ভয়াবহ এই সঙ্কটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কাফকো ও সিইউএফএল সার কারখানা। এ দুই কারখানায় যথাক্রমে ৬৩ ও ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দরকার হলেও এখানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রাউজান তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ৯৫ মিলিয়ন চাহিদার স্থলে ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দেড়শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার শিকলবাহা পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার শিকলবাহা রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট ও শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্যাসচালিত বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সাড়ে ৪শ’ মেগাওয়াট উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, গৃহস্থালি গ্যাস সংযোগের জন্য প্রায় ১৫ হাজার আবেদন জমা পড়ে আছে। আর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদন জমা রয়েছে ১২৬টি। গ্যাসের অপ্রতুলতায় এসব সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না। ১২৬টি শিল্পকারখানা আবেদন করার পরও গ্যাস না পেয়ে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও এগুলো উত্পাদনে যেতে পারছে না শুধু গ্যসের অভাবে। তাই দিনের পর দিন গুনতে হচ্ছে লোকসান।
অপরদিকে যেসব শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ রয়েছে, সেগুলোও পাচ্ছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। শতাধিক শিল্পকারখানায় গ্যাস দেয়া হচ্ছে রেশনিংয়ের মাধ্যমে। রেশনিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে এগুলোর নিরবচ্ছিন্ন উত্পাদন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত ৭২টি স্টিল রিরোলিং মিল গ্যাস রেশনিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
চিটাগং চেম্বারসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন গত কয়েক বছর ধরেই গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এলেও তাতে কোনো সুফল মিলছে না।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গত কয়েক বছরে অনেকবারই সরকারের ওপর মহলে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যখন চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ছিল ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট, তখন যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হতো, এখন চাহিদা বাড়ার পর তার চেয়ে সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা চট্টগ্রামের প্রতি এক ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে গ্যাস সংযোগের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও চট্টগ্রামে নতুন সংযোগ পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা। কেজিডিসিএলের ঠিকাদাররা জানান, এখন পর্যন্ত রাইজার সংগ্রহের টেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়নি। এই রাইজার সংগ্রহে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। রাইজার ছাড়া নতুন সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে না বলে তারা জানান।
এদিকে নতুন আবাসিক সংযোগকে কেন্দ্র করে কেজিডিসিএলের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেটের কাছে ধরনা না দিলে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সংযোগ পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে, কেজিডিসিএলের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট নতুন সংযোগ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বার্নারপ্রতি ১০ হাজার থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বিশেষ করে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো একেকটি ফ্ল্যাটবাড়ি কিংবা প্রকল্পের জন্য মোটা অঙ্কের টাকায় চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে। এক্ষেত্রে নতুন আবেদনকারীদেরও দ্রুত সংযোগের ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। আবেদন করে বছরের পর বছর ধরে যারা বসে আছেন, অথচ সিন্ডিকেটের সঙ্গে লেনদেন করছেন না, তাদের সংযোগ পাওয়ার বিষয়টি সুদূর পরাহত হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের এমডি জামিল আহমেদ আলীম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য কেজিডিসিএল কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি করা হচ্ছে। ওই কমিটি আবেদনের সিরিয়াল অনুযায়ী সংযোগ দেয়ার সুপারিশ করবে। এক্ষেত্রে সিরিয়াল এগুনো বা পেছানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। যারা আগে আবেদন করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযোগ দেয়া হবে বলে তিনি জানান।