Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শেখ হাসিনার ইঙ্গিত পেয়েই এরশাদ একক নির্বাচনে : এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা রাজনৈতিক : হানিফ

জাকির হোসেন
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ইঙ্গিতেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পতিত সামরিক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা লাগাতার বলে যাচ্ছেন । কারণ, গণতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এখন বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এরই অংশ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাইরে দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার নীলনকশার অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে অংশ নেবেন এরশাদ। এ বিষয়টি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এইচ এম এরশাদ নিশ্চিত করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ফলে আগামী নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি হবে বিরোধী দল এবং এরশাদ হবে বিরোধীদলীয় নেতা। আর এ কারণেই এরশাদ এরই মধ্যে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী দলকে শক্তিশালী করার কাজ করছেন। মহাজোট ছাড়ার বিষয়টি যে এরশাদের একটি রাজনৈতিক প্রহসন এ বিষয়টি গতকাল পরিষ্কার করেছেন খোদ আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাহবুব-উল আলম হানিফ। গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে হানিফ বলেছেন, ‘মহাজোটের বন্ধন অটুট আছে, এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা রাজনৈতিক’। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে এরশাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে এটা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। এরশাদ নিজেই জানেন না তার গন্তব্য কোথায়। কারণ, তিনি হলেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ‘পরগাছা’। দুর্নীতিপরায়ণ এবং অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ যদি জেলে না যেতে চান তবে তাকে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে থাকতেই হবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই নির্ধারণ করে দেবে এরশাদ কোন জোটে থাকবেন। বিষয়টি ইঙ্গিতের ওপর খুব একটা নির্ভরশীল নয়। শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে এককভাবে নির্বাচনের পরও যদি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিজয় না হয় তবে এরশাদকে আওয়ামী লীগের বিপরীতে অবস্থান নিতেই হবে। অন্যথায় তাকে দেশ ছাড়তে হবে।
এদিকে এইচ এম এরশাদ এরই মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে একাধিকবার তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের জন্য সুপ্রিমকোর্টে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি না থাকে এবং বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে কেউ বসে থাকবে না। জাতীয় পার্টি দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নেবে। এ বিষয়ে তিনি এর আগে কয়েক দফা দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও এ ব্যাপারে তার বৈঠক হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এইচ এম এরশাদ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের অংশ নেয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিশ্চিত করেছেন বলে মহাজোটের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা আমার দেশকে জানিয়েছেন। সামরিক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার শাসনামলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকার প্রেক্ষিতে গৃহপালিত বিরোধী দল তৈরি করেছিলেন। এখন সেই এরশাদ অনুরূপ বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন—এ আলোচনা সমালোচনা এখন চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে।