Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিরোধী দলের ওয়াকআউট : ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার বাজেট পাস : ঘাটতি ৫৫ হাজার কোটি

সংসদ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে। আজ ১ জুলাই থেকেই এ বাজেট বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেয়ায় বাজেট পাসের আগ মুহূর্তে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। পরে বিরোধী দল ছাড়াই কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। নির্দিষ্টকরণ বিলে তিন লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯ কোটি ৮৫ লাখ ১১ হাজার টাকা পাস করানো হয়। বাজেট পাসের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের জন্য দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে এডিপির আকার ৬৫ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার। ঘাটতি ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক থেকে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেবে সরকার। গত ৬ জুন বাজেট উপস্থাপনের পর এর ওপর মোট ৫১ ঘণ্টা সাধারণ আলোচনা হয়েছে।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাস : নতুন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট তিন লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯ কোটি ৮৫ লাখ ১১ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল সংসদে পাস হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে গৃহীত অর্থের পরিমাণ দুই লাখ চার হাজার ৩১০ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় এক লাখ ৪০ হাজার ২৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টে বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতন ইত্যাদি দায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব : নতুন বাজেটের ওপর সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতের ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ২০ সংসদ সদস্যের এক হাজার ২৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র সাতটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে আসা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে—জনপ্রশাসন, আইন, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুত্ ও সেতু বিভাগ। কিন্তু পাঁচটি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনা করার পর স্পিকার সময়স্বল্পতার কথা বলে আলোচনা বন্ধ করে দেন। স্পিকার বিদ্যুত্ ও সেতু বিভাগ নিয়ে বিরোধী দলকে আলোচনার সুযোগ দেননি। এতে বিরোধী দল আপত্তি জানালে সরকারি দল নানা যুক্তি উপস্থাপন করে। একপর্যায়ে স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। ছাঁটাই প্রস্তাবকে অবান্তর দাবি করে সবই কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে বিরোধী দল মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা বন্ধ করে স্পিকার নিজের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। যে সময়টুকু বিতর্কের জন্য দেয়া হয়েছে, এ সময়ে আলোচনাই শেষ হয়ে যেত।
বাজেট পাসের আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে আসা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মনে করেন, এসব ছাঁটাই প্রস্তাব পাস হলেই সরকারের পতন হবে। অতএব, প্রস্তাব প্রত্যাহার কার হোক। না হলে এগুলো সবই নাকচ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, হলমার্কের ঘটনা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি আবারও বলছি এটা একটা চুরি, জালিয়াতি। যেখানে প্রতি বছর চার লাখ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ দেয়া হয় সেখানে এই চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না। এটা আমি আবারও বলছি। আর পদ্মা সেতু প্রকল্পে চুরির কোনো নিদর্শন নেই। বিশ্বব্যাংক এতে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রমাণ ছাড়া সবাই কথা বলছে। দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে যেভাবে চলছে এতো ভালো আর কখনও ছিল না বলে মনে করেন তিনি।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দ : জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট থেকে সবচেয়ে বেশি ৪৫ হাজার ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অর্থ বিভাগ খাতে। আর খাতওয়ারী সবচেয়ে কম ১০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সুপ্রিমকোর্ট খাতে। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৩৫ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
জাতীয় সংসদ খাতে ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খাতে ৬২৪ কোটি ৬০ লাখ ২৩ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ খাতে অনধিক ৩২ কোটি টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় খাতে ৪৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা, অর্থ বিভাগ খাতে ৪৫ হাজার ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ খাতে এক হাজার ৩৮৬ কোটি ছয় লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খাতে ৫৯৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ খাতে ১৬১ কোটি ১৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা, পরিকল্পনা বিভাগ খাতে ৫৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ খাতে ১২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ খাতে ২৪২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতে ১৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খাতে ৭২৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ১৪ হাজার ৫৪১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ খাতে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ খাতে ৮০০ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খাতে নয় হাজার ৫৮৮ কোটি ৬২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ খাতে ২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ৯৩৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ১৩ হাজার ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে ৩৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে নয় হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে ৬৩২ কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে দুই হাজার ২১৩ কোটি ৪০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৪৪৯ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে ১৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৭৮১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় খাতে ৫১১ কোটি ৯৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ২৩৫ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ২৯১ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খাতে ৭০৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ খাতে ১২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ খাতে এক হাজার ৮৫ কোটি ৩১ লাখ ২৩ হাজার টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় খাতে দুই হাজার ২৮৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় খাতে ১৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ খাতে দুই হাজার ২৯১ কোটি টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় খাতে ১২ হাজার ২৭৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৬২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় খাতে ৭৯৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় খাতে ৭৫৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে দুই হাজার ৫৯২ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় খাতে ১০ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় খাতে ছয় হাজার ৫২৪ কোটি চার লাখ ৮৬ হাজার টাকা, সড়ক বিভাগ খাতে পাঁচ হাজার ৫৫১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় খাতে পাঁচ হাজার ৬৮০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় খাতে ৮১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খাতে ৩০৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় খাতে এক হাজার ৩৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ৭৫৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, বিদ্যুত্ বিভাগ খাতে নয় হাজার ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা, সুপ্রিমকোর্ট খাতে ১০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ৭৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে ৩৫৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন খাতে ৩৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, সেতু বিভাগ খাতে সাত হাজার কোটি টাকা।
বিরোধী দলের ব্রিফিং : ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সুযোগ না দেয়ায় গতকাল বাজেট পাসের কিছুক্ষণ আগে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। মঞ্জুরি ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ৫৬টি দাবির মধ্যে ৭টি বিষয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও এর মধ্যে দুটি মন্ত্রণালয় নিয়ে তাদের আলোচনা করতে দেয়া হয়নি। ওয়াকআউটের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে স্পিকার ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পথ বন্ধ করে নিজের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। বাজেট পাসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংসদে না থাকতে পারায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার নিন্দা জানান তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলের সংসদ সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, ’৯০ সালের পর এই প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিন থেকে যোগ দিয়ে পুরো অধিবেশনে ছিল বিরোধীদল। কিন্তু শেষদিনে সরকার এমন একটি কাজ করে বসলো যা দুঃখজনক। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধীদল ঐক্যমতের ভিত্তিতে ৫৬টি দাবির মধ্যে ৭টি দাবির ওপর বিরোধীদলের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা নির্ধারণ করা হয়। সেই মতে আলোচনা চলছিল। ৫টি দাবির ওপর আলোচনা শেষ করেন স্পিকার। কিন্তু শেষ দুটি ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সুযোগ দেবেন না বলে স্পিকার জানান। এম কে আনোয়ার বলেন, এটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত ছিল না। শেষ মুহূর্তে স্পিকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেননি। নিজের প্রতি ন্যায় বিচার করনেনি। তিনি খারাপ নজির সৃষ্টি করলেন।
তিনি বলেন, সরকার চাচ্ছে না বিরোধীদল বিদ্যুত্ ও যোগাযোগ নিয়ে সংসদে কথা বলুক। তারা অনেক কিছু লুকিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনে সফলতার দাবি করলেও সারাদেশে চরম লোডশেডিং বিরাজ করছে। পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার ছলচাতুরি করছে।
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ৫টি ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষ হয়েছে। বাকি দুটির ওপর আলোচনায় অসুবিধা কোথাও। সরকার ও বিরোধীদল এটা নিয়ে ঝগড়া করে যে সময় ব্যয় করেছে, সেই সময়ের মধ্যে আলোচনা শেষ করা সম্ভব হতো।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, জাফরুল হাসান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, হারুন অর রশিদ, নাজিমউদ্দিন, রাশেদা বেগম হীরা।