Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দলীয় প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগ ১৮ দলের : কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান মান্নানের : আজমতের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

আলাউদ্দিন আরিফ ও নাসির আহমদ
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৭ এমপি ও অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে মাঠে নামিয়েও স্বস্তিতে নেই ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। নিজ প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য তারা নানারকম কূটকৌশল প্রয়োগ করছে। নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য দলীয় লোকজন দিয়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। আনা হচ্ছে বিশেষ জেলার পুলিশ। এমনকি ছাত্রলীগ নেতাদের পুলিশের পোশাক পরিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে। পছন্দের লোক দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ করেছেন খোদ ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান ও তার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ব্রি. জে. (অব.) হান্নান শাহ। এসবের প্রতিকারে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট না পাওয়া পর্যন্ত ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১৮ দলীয় জোটসমর্থিত প্রার্থী আবদুল মান্নান। এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে অধ্যাপক মান্নান ইশতেহার দেয়ার পর গতকাল ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ১৪ দলীয় জোটসমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তার মূল প্রতিশ্রুতি নবগঠিত সিটির প্রতিটি বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে জবাবদিহিমূলক স্বচ্ছ প্রশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। তার সমালোচকরা বলছেন, বরাবরই পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল টঙ্গী পৌর প্রশাসন। আজমত নিজেও মিস্টার টেন পার্সেন্ট নামে বেশ বদনাম কুড়িয়েছেন। তার কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি আষাঢ়ে গল্পের মতো।
গতকাল দুপুরে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় ১৮ দলের নির্বাচন মনিটরিং অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন ১৮ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ব্রি. জে. (অব.) হান্নান শাহ। তিনি বলেন, সরকার প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার পদে দলীয় লোক নিয়োগ করেছে। বাইরে থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর লোক আনা হয়েছে। একজন ডিআইজিসহ বিশেষ জেলার পুলিশ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টে দলীয় বিবেচনায় লোক দিয়ে অধ্যাপক মান্নানের কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। অবিলম্বে এসব দলীয় লোকজন প্রত্যাহার করে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান হান্নান শাহ। গতকাল বেলা ২টায় গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
হান্নান শাহ বলেন, অধ্যাপক মান্নানের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে সাদা পোশাকধারী লোকজন যাতায়াত করছেন। কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট মান্নানের কর্মীদের হয়রানি করছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগের দলীয় লোক দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মো. নুরুজ্জামান নামে পুলিশের একজন ডিআইজিকে দিয়ে গাজীপুর পুলিশ পরিচালনা করছে সরকার। গাজীপুরে কর্মরত বিশেষ জেলার সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হান্নান শাহ বলেন, প্রশাসনের উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তিরাও সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি বিভিন্ন অফিস ও প্রকল্পের গাড়ি নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করছেন। পূবাইল ইউনিয়নের মেঘডুবিতে স্বাস্থ্য সচিব এম এম রিয়াজ উদ্দিনকে দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক গাজীপুরে মসজিদের ইমাম, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দোয়াত-কলমের পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তার নিয়োগ দেয়া এসব লোকজনকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান হান্নান শাহ।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হান্নান শাহ বলেন, শনিবার গাজীপুরের কাউলতিয়ায় তোফায়েল আহমেদ মাইক ব্যবহার করে পাঁচ শতাধিক চেয়ার নিয়ে নির্বাচনী সভা করেছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন কিছুই বলেনি। বিপরীতে আমরা কোনো পথসভা করতে চাইলে অনুমতি পাওয়া যায় না। আমাদের পথসভায় বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। সেখানে আচরণবিধির বিষয়গুলো উঠে আসছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার করছেন। একটি মাইকে মাত্র একটি হর্ন ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তারা একাধিক হর্ন লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন হান্নান শাহ।
ওই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, চিত্র পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, চিত্রনায়ক হেলাল খান, অভিনেতা বাবুল আহমেদ, কণ্ঠশিল্পী হাসান চৌধুরীসহ জাসাসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল মান্নানও কেন্দ্র দখল ও দলীয় লোকজনের মাধ্যমে প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার নিয়োগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ ভোট দিলেও কারচুপি করে ফলাফল ঘুরিয়ে দেয়া হতে পারে। তাই প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট না পাওয়া পর্যন্ত ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। অধ্যাপক মান্নান জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আরও বলেন, জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারীদের এখনও গ্রেফতার ও তাদের দখল থেকে অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ অবস্থায় সেনা মোতায়েন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
আজমতের ১০ দফা ইশতেহার : গত ২৬ জুন অধ্যাপক মান্নান নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর গতকাল ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ১৪ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ। ইশতেহারে তিনি গাজীপুরে বিশ্বমানের নগরপ্ল্যান তৈরি করে আধুনিক নাগরিক সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে জেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আজমত উল্লাহ বলেন, গাজীপুরকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল, রেসিডেন্সিয়াল ও কমার্শিয়াল জোনে বিভক্ত করে বিশ্বমানের নগর প্ল্যান তৈরি করা হবে। সিটির প্রতিটি বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে জবাবদিহিমূলক স্বচ্ছ প্রশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। নগরভবনকে আধুনিকীকরণ, পাঁচটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাগরিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকদের নিয়ে উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হবে।
ইশতেহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকাকে সংযুক্ত করে সুপ্রশস্ত রাস্তা, টঙ্গী থেকে জয়দেপুর পর্যন্ত রেললাইনের পাশে সুপ্রশস্ত রাস্তা, জয়দেবপুরে রেলক্রসিং, ভোগড়া বাইপাস মোড়, মীরেরবাজার, কোনাবাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক-মহাসড়কের ওপর ফ্লাইওভার ও ফুট ওভারব্রিজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে জিজিসির ব্যবস্থাপনায় কবরস্থান, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন পার্ক, পাঠাগার, খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মসজিদ, মন্দির, গির্জা, শ্মশানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নির্মাণে সহায়তা প্রদান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাসস্ট্যান্ড, পাবলিক টয়লেট ও যাত্রীছাউনি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচনী ইশতেহারে।
কর্মজীবী মায়ের শিশুসন্তান পরিচর্যার জন্য ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বস্তিবাসীদের স্থায়ীকরণ ও হকারদের পুনর্বাসনে হকার্স মার্কেট নির্মাণের পদক্ষেপ, পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ এবং নির্যাতন প্রতিরোধে মনিটরিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে আলোচনা করে সহনশীল ভাড়া নির্ধারণের অঙ্গীকার রয়েছে এ ১০ দফার মধ্যে।
ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আক্তারুজ্জামান, সরিয়ে দেয়া মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল, গাজীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজ উদ্দিনসহ অনেকে।
মান্নানের গণসংযোগ : অধ্যাপক মান্নান রোববার সকালে গাজীপুর শহরের সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে গণসংযোগ করেন। বেলা ১১টায় তিনি যান গাজীপুর মহিলা কলেজ ও পরে আজিমদ্দিন কলেজে। দুপুরে গাজীপুরের কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে এবং গাজীপুর সদর হাসপাতাল এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকালে তিনি চান্দপাড়া, ভোগড়া, দীঘিরচালা ও চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এমএ মান্নানের পক্ষে গতকালও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সাবেক এমপি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হাসান উদ্দিন সরকার, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জাহিদ, শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদ, জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান প্রমুখ। গণসংযোগ সমন্বয় করেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবুল। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী ও বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান, রাবেয়া সিরাজ ও শাহানা আক্তার শানু, ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা এসএম রুহুল আমীন, জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ. মান্নান জমাদার, জাসাস কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. সোহরাব উদ্দিন, গাজীপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. হোসেন আলীর নেতৃত্বে একটি দল কোনাবাড়ি, কাশিমপুর ও জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করে। এ সময় গাজীপুর পৌর জামায়াতের আমির মো. খায়রুল হাসান ও সেক্রেটারি মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন, শিবিরের জেলা সভাপতি আবু নাঈম মোল্লা, ডুয়েট সভাপতি বাহাদুর হোসেনসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে খেলাফত ইসলামের সভাপতি মুফতি আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা লোকমান হোসেন, ডা. রমজান আলী, হেফাজতের মুফতি ফজলুর রহমান, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা লেহাজ উদ্দিন ও মাওলানা মোখলেছুর রহমানসহ একটি দল বাসন সড়ক এলাকা থেকে শুরু করে চান্দনা চৌরাস্তা, জয়দেবপুর বাজার, বিএমটিএফ, ছায়াবীথিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
আজমতের পক্ষে গণসংযোগ : নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ১৪ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে ততই গণসংযোগ বাড়ছে। আজমত নিজে গতকাল গাজীপুর পৌরসভা, ছায়াবীথি, বটতলা, মুন্সিপাড়া, জয়দেবপুর, চান্দনাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতা এখন গাজীপুরে আজতম উল্লাহর পক্ষে গণসংযোগ করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এমপি মোহাম্মদ নাসিম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহম্মেদ, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক শামীম, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদুর রহমান রিপন, মাহমুদুল হাসান রোটনসহ অনেকে।
এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭ জন এমপিকে মাঠে নামানো হয়েছে। গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে যে ৫৭ জন এমপিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা হলেন—ঢাকা-১৪ আসনের এমপি আসলামুল হক, নাটোর-৪ মো. আবদুল কুদ্দুস, পাবনা-৩ মো. মকবুল হোসেন, মাগুরা-২ বীরেন শিকদার, নওগাঁ-২ সাধনচন্দ্র মজুমদার, টাঙ্গাইল-২ আমানুর রহমান রানা, সিরাজগঞ্জ-১ তানভীর শাকিল জয়, নাটোর-৩ জুনাইদ আহমেদ পলক, রাজশাহী-৬ মো. শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-৫ মো. আবদুল ওয়াদুদ, রাজশাহী-৪ মো. এনামুল হক, পাবনা-৫ গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, ঝিনাইদহ-৩ মো. শফিকুল আযম খান, নড়াইল-১ মো. কবিরুল হক, গাইবান্ধা-২ মাহবুব আরা বেগম গিনি, ভোলা-৪ আবদুল্লাহ আল ইসলাম, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মাওলা রনি, নওগাঁ-৬ মো. ইসরাফিল আলম, বরিশাল-১ তালুকদার মো. ইউনুস, জামালপুর-৪ মো. মুরাদ হাসান, শেরপুর-১ মো. আতিয়ার রহমান আতিক, ময়মনসিংহ-৫ কেএম খালিদ, নেত্রকোনা-১ মোশতাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৩ মঞ্জুুর কাদের কোরাইশী, নেত্রকোনা-৫ ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, ঢাকা-৪ সানজিদা খানম, ঢাকা-৭ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ফরিদপুর-১ মো. আবদুর রহমান, শরীয়তপুর-৩ নাহিম রাজ্জাক, হবিগঞ্জ-৩ মো. আবু জাহির, পিরোজপুর-১ একেএমএ আউয়াল (সাইদুর রহমান), পিরোজপুর-২ মো. শাহ আলম, টাঙ্গাইল-৬ খন্দকার আবদুল বাতেন, মহিলা আসন-২ অপু উকিল, মহিলা আসন-৮ অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, মহিলা আসন-৯ চেমন আরা বেগম, মহিলা আসন-১৩ বেগম নাজমা আক্তার, মহিলা আসন-২২ বেগম মাহফুজা মণ্ডল, মহিলা আসন-২৫ ফরিদা আখতার, মহিলা আসন-২৬ বেগম রওশন জাহান সাথী, মহিলা আসন-৩০ বেগম শাহীন মনোয়ার হক, মহিলা আসন-৩৩ বেগম সাফিয়া খাতুন, মহিলা আসন-৪৬ বেগম ফজিলাতুন নেছা, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা আসন-১৮ বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, কুমিল্লা-৮ নাছিমুল আলম চৌধুরী, কুমিল্লা-৬ আকম বাহাউদ্দিন বাহার, মহিলা আসন-৪ আসমা জেরিন ঝুমু, খুলনা-১ ননী গোপাল মণ্ডল, বরগুনা-১ ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, মহিলা আসন-১৬ বেগম পারভীন তালুকদার, দিনাজপুর-১৬ আসনের মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এর বাইরেও আওয়ামী লীগের এমপি নুরুন্নবী শাওন, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এটিএম শামসুজ্জামান, রামেন্দু মজুমদারসহ বিপুল সংখ্যক নেতা আজমতের পক্ষে গণসংযোগ করছেন।
পেশাজীবী ফোরামের মতবিনিময় সভা : এদিকে গাজীপুর জেলা পেশাজীবী ফোরামের উদ্যোগে গতকাল বিকালে জেলা শহরের ট্রাস্ট কমিউনিটি সেন্টারে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে রক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান। পেশাজীবী ফোরামের গাজীপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ, ড্যাবের সভাপতি ডা. এজেডএম জাহিদ, ড. শহীদুজ্জামান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লা মিঞা, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বাংলাদেশী’র সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী ফোরামের উপদেষ্টা ফখরুজ্জামান খান। আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা এসএম ছানাউল্লাহ, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শহিদ উজ্জামান, গাজীপুর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, ডা. আবুল কালাম, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম মোস্তফা, নূরুল কবীর শরীফ, মাওলানা সিদ্দিক হোসাইন, শিক্ষক নেতা মোবারক হোসেন, সাহাব উদ্দিন, অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন, আক্তারুল আলম, জিয়া পরিষদ নেতা আসাদুজ্জামান সোহেল, আসাদুজ্জামান আকাশ, মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হান্নান শাহ গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোট কারচুপির আশঙ্কায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।