Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঝকঝকে বাথরুম

তাহমিনা তাসির
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বর্ষাকালে ঘন ঘন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। বৃষ্টিতে ভিজুক বা না ভিজুক, হুটহাট করেই ছোট-বড় বা বয়স্ক যে কেউই বর্ষাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছি। আসল কথা হচ্ছে, এ সময়ে নিজেদের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি বাড়ির চারপাশটারও যত্ন নেয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি। আসলে এ সময়ে আমরা শুধু ঘরের যত্ন নিই, সময় নেই এই অজুহাতে বাথরুমের প্রতি নজর দেয়া হয় কম। কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে বাথরুম পরিষ্কার রাখাটাও জরুরি। চলুন তবে জেনে নিই কিছু টিপস।
১. বাথরুম পরিষ্কার রাখার প্রধান শর্ত হচ্ছে মেঝে পরিষ্কার রাখা তা সে যেমন মেঝেই হোক। পুরনো আমলের বাড়িতে সাধারণত মোজাইক বা টাইলস কিছুই নেই; তা বলে কি মেঝে অপরিষ্কার থাকবে তা নিশ্চয় নয়। মেঝে যেমনই হোক, মেঝে ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। টাইলসের মেঝে সাধারণত গেঞ্জি কাপড় দিয়ে মুছতে বেশি সুবিধা হয়। এছাড়া বাজারের সুন্দর ও সহজে ব্যবহার উপযোগী মপ পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে পারেন। আর মোজাইক করা মেঝে হলে ঝাড়ু দিয়ে পানি কেচে তারপর মুছে ফেলুন।
২. নিয়মিত ব্যবহারের পর প্যান বা কমোডে হলুদ দাগ পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে তিন দিন পরপর লিকুইড ক্লিনার দিয়ে প্যান বা কমোড পরিষ্কার করুন। অনেকে কাপড় কাচার গুঁড়া সাবান দিয়ে প্যান বা কমোড পরিষ্কার করে, এটা ঠিক নয়। আসলে এসব স্থানে সব সময় এন্টিসেফটিক ব্যবহার করাই শ্রেয়। না হলে জীবাণু থেকেই যাবে আর পরিণতিতে অসুস্থ হবেন আপনি।
৩. দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বেসিনের ওপর পানি পড়ে হলুদ দাগ হয়ে যায়। গুঁড়া সাবানের সঙ্গে স্নানঘর পরিষ্কারের লিকুইড মিশিয়ে বেসিন পরিষ্কার করতে পারেন। বেসিন যদি সাদা রঙের হয় তাহলে কমোড পরিষ্কার করার লিকুইড ছিটিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। তারপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে ফেলুন। দেখুন কী চমত্কার কাজ হয়েছে। তবে সাবধান, এটা শুধু সাদা রঙের বেসিনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্য রঙের বেসিনে ব্যবহার করলে রং নষ্ট হয়ে যাবে।
৪. পানির ফোঁটা পড়ে অনেক সময় আয়নায় দাগ পড়ে যায়। এক্ষেত্রে খবরের কাগজ ভিজিয়ে মুছে নিন আয়নাটি। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের পর অবশ্যই শুকনো কাপড় দিয়ে আয়না মুছে রাখুন।
৫. স্নান ঘরের চারপাশ প্রতিদিন পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে সপ্তাহে একদিন অবশ্যই চারপাশের টাইলস ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে মুছে নিন। কেননা সারা সপ্তাহ ব্যবহারে গোসলের পানি, কাপড় ধোয়া পানি ছিটে টাইলস অপরিষ্কার হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের অনেক এলাকার পানিতে আয়রন থাকে। সেক্ষেত্রে মেঝে ও দেয়ালের টাইলস হলুদ হয়ে যায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের লিকুইড পওয়া যায়, তা দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন মেঝে ও দেয়াল।
৬. সাবানদানিতে সাবান জমতে জমতে শক্ত হয়ে যায়। সাবানদানি কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে তার পর কাপড় পরিষ্কারের ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন। তবে অনেক সাবানদানি আছে যা সরাসরি পানি ভিজানো যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে কাপড় ভিজিয়ে শক্ত করে নিংড়ে তা দিয়ে মুছে নিন।
৭. বাথরুমের পাইপ দিয়ে তেলাপোকাসহ বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় আসে। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন রাতে বাথরুমের পাইটসহ কমোড বা প্যানে গরম পানি ঢালুন। মাঝে মাঝে পানিতে কাপড় কাচা সোডা মিশিয়ে নিন। এতে তেলাপোকারর উত্পাত কম হবে।
৮. বাথরুমের স্যাঁত্স্যাঁতে ভাব দূর করতে ভেতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। এখনকার অনেক বাড়ির বাথরুমেই এ্যাজস্ট ফ্যান লাগানো থাকে, না হলে জানালা খোলার ব্যবস্থা থাকে। সেক্ষেত্রে বাথরুম ব্যবহারের পর কিছুক্ষণ ফ্যান ছেড়ে বা জানালা খুলে রাখুন। ভ্যাপসা ভাব দূর হবে।
৯. বাথরুমে অবশ্যই সুগন্ধি রাখুন। এতে দুর্গন্ধ দূর হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি শুকনো ফুল পাওয়া যায়। একটি বাটিতে রেখে তা বাথরুমের শুকনো স্থানে রেখে দিন। দেখবেন যেন পানি না লাগে। তবে অনেক সময় বাথরুম অজানা দুর্গন্ধে ভরে যায়। সেক্ষেত্রে ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ বাথরুমে রাখুন, গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
১০. বাথরুমে অপ্রয়োজনীয় বালতি, মগ, ঝাড়ু, সেন্ডেল দিয়ে ভরিয়ে রাখবেন না। বাসায় যদি বাড়তি জায়গা থাকে, তাহলে এসব জিনিস ব্যবহারের পর বাথরুমের বাইরে রাখুন। এতে বাথরুম পরিষ্কার করতে সুবিধা হবে আর এর ফলে পরিবেশও থাকবে সুন্দর।
মনে রাখবেন, বাথরুম আপনার ব্যক্তিত্বের অন্যতম পরিচয় বহন করে। বাসায় আসা অতিথি কিংবা নিজের জন্যও অবশ্যই বাথরুম পরিষ্কার রাখা জরুরি।