Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বর্ষপূর্তিতে মুরসির বিরুদ্ধে ফের উত্তাল মিসর : মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি নাকচ করলেন মুরসি

এএফপি
পরের সংবাদ»
দ্বিতীয় বছরে পা দিচ্ছে মুসলিম ব্রাদারহুডের সরকার। আর এদিনেই মিসরে ন্যাশনাল সালভেশন ফ্রন্টসহ (এনএসএফ) বিরোধীদের ডাকে হতে চলেছে মহাসমাবেশ। আন্দোলনের নাম দেয়া হয়েছে তামারোদ বা বিদ্রোহী।
তাহরির স্কয়ার, ইত্তিহাদিয়া ভবনের সামনে আবার তাঁবু পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ এর মধ্যেই এসে জড়ো হয়েছেন। শনিবার রাতের হিসাব, তাহরির স্কয়ারে তাঁবুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫০। ইত্তিহাদিয়া ভবনের সামনে ১৮। কায়রোয় টানটান উত্তেজনা। রণক্ষেত্রের চেহারা।
ফের উত্তাল মিসর। দানা বাঁধছে উদ্বেগ আর আতঙ্ক। রোববার মিছিল যাবে প্রেসিডেন্ট ভবন অভিমুখে। সেখানে গিয়ে তারা প্রেসিডেন্ট মুরসির ওপর থেকে আস্থা ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেবেন। দাবি করবেন অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এর মধ্যেই মুরসির ওপর অনাস্থা এনে দেড় কোটি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। রাস্তায় রয়েছেন মুরসির সমর্থকরাও। জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা। রাস্তায় চলছে সেনা টহল।
আলেকজান্দ্রিয়া শহরে শুক্রবার সরকারবিরোধীরা ব্রাদারহুডের একটি দফতরে হামলা চালায়। সে সময় এক মার্কিন নাগরিকসহ দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন। নিহত মার্কিন নাগরিক বয়সে তরুণ। বয়স একুশ। ছোট একটি ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় অজ্ঞাত কেউ তার বুকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত অপর ব্যক্তি গুলিতে মারা যান। এক বিবৃতিতে ব্রাদারহুড জানিয়েছে, শুক্রবার আলেকজান্দ্রিয়াসহ সারাদেশে তাদের আটটি দফতরে হামলা চালানো হয়েছে।
গত সাতদিনে সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মার্কিন নাগরিকদের মিসর সফরের ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কর্তা ছাড়া অন্যান্য কূটনীতিকদের মিসর ছাড়তে বলেছে মার্কিন প্রশাসন। আগাম সতর্কতা হিসেবে দক্ষিণ ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌসেনাদের ‘প্রস্তুত’ থাকতে বলেছে পেন্টাগন।
মুরসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিসরের অর্থনীতির সঙ্কট আরও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মিসর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বেড়েছে অপরাধের হার। মানুষ তাই আবার রাস্তায়।
এদিকে সরকারবিরোধীদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ দাবি নাকচ করে দেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পদত্যাগের দাবিতে কায়রোর তাহরির স্কয়ারে জড়ো হচ্ছেন সরকার বিরোধীরা।
সাক্ষাত্কারে মুরসি বলেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের এক বছর না যেতেই পদত্যাগ দাবি করাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কাজেই বিরোধীরা যদি মনে করে আরেকটা আন্দোলন করে সরকারকে ফেলে দেয়া হবে, তাহলে তারা ভুল করছে। এখানে দ্বিতীয়বারের মতো আর কোনো বিপ্লব হবে না।
মুরসি আরও বলেন, কাজেই মেয়াদ শেষের আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করাটা অযৌক্তিক। আন্দোলনকারীদের এ ধরনের দাবি সরকার কখনও মানবে না বলে তিনি দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ মুরসির আজ এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। আর এক বছর পূর্তির এ দিনেই কায়রোর তাহরির স্কয়ারে তার পদত্যাগের দাবিতে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হচ্ছেন।
আড়াই বছর আগে এখান থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল। যার পরিণতিতে ক্ষমতা হারাতে বাধ্য হন এক সময়ের প্রতাপশালী এ প্রেসিডেন্ট।
বিরোধীদের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সরকার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। রোববারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার ক্ষমতায় এসে একের পর এক জনস্বার্থবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। কাজেই এ মুহূর্তে তার পদত্যাগ করা উচিত। বিরোধীরা সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও দাবি জানায়। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে তাদের একটি আবেদনে ইতোমধ্যে আড়াই কোটিরও বেশি লোক সমর্থন জানিয়েছে।
কাজেই সরকারের উচিত কালবিলম্ব না করে এ মুহূর্তে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা।