Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৬ মে ২০১৩, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ১৫ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 হুদার কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পিডিবি সরাচ্ছে না খুঁটি, পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নেই : ঝিমিয়ে পড়েছে রংপুরের চার লেন সড়কের কাজ

রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
পিডিবির মূল রাস্তা থেকে বিদ্যুতের খুঁটি না সরানো এবং চাহিদা অনুযায়ী অর্থের জোগান না থাকায় রংপুর নগরীতে প্রায় ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটারের চার লেন সড়কের কাজ ঝিমিয়ে গেছে। আগামী জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত শুক্রবার যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সে ঘোষণার বাস্তবায়নও কখনও সম্ভব নয় বলে সংশিল্গষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, অধিগ্রহণ করা জমির টাকা সময় মতো এলে চলতি বছরের শেষের দিকে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সিটি বাজার থেকে পায়রা চত্বর পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে অধিগ্রহণ করা জমি উদ্ধারে মাসখানেক আগে জেলা প্রশাসন কাজ শুরু করলেও সে জমি উদ্ধার হয়নি এখনও। টাকাও রয়েছে বাকি। এমনকি পায়রা চত্বর থেকে লালবাগ পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। বহাল তবিয়তে আছে রাস্তার দু’ধারে বড় বড় বহুতল ভবন। এছাড়া চার লেনের ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই পিডিবি’র সংযোগ লাইন এবং বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো এলাকায় রাস্তার দু’ধারে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে দায়সারাভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছে মাত্র। এতসব কাজ বাক িথাকলেও মাত্র তিন মাসে কীভাবে শেষ করা সম্ভব এবং যোগাযোগমন্ত্রীর ঘোষণা কতটুকু বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে নগরজুড়ে। নগরবাসীর দাবি, নগরীর চার লেন নিয়ে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য নয়, বরং দ্রুত এ সড়কের কাজ শেষ করতে যা করা প্রয়োজন, তা-ই করতে হবে। তা না হলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে নগরবাসী।
রংপুর সওজ বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর নগরীর ভেতরে চার লেন সড়কের কাজ ২০১১ সালের ২০ মার্চ উদ্বোধন করেন তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। রাস্তার কাজ শুরু হয় ৩০ নভেম্বর। এদিকে কাজ শুরুর ২ বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র মাটি খোঁড়া আর কিছু কিছু জায়গায় মাটি ভরাট এবং আরেক রাস্তার দু’ধারে কিছু পাথর ফেলা ছাড়া তেমন কোনো কাজই দেখছে না রংপুরবাসী। ওই সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং মূল নগরীর ভেতরে দোকানপাট ভাঙার কাজ থমকে আছে। পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেয়ায় তারা এখনও মূল সড়ক থেকে তাদের বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেয়নি। সরিয়ে নেয়ারও কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি সিটি করপোরেশন ও বিটিসিএলের টাকাও রয়েছে বাকি। সব মিলে রংপুর চার লেন সড়কের কাজ গেছে ঝিমিয়ে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, চার লেনের পুরো ১৬ কিলোমিটার ৬৫ ফুটের রাস্তা হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির ব্যবসা-বাণিজ্যের এলাকায় ৬৫ ফুটের কম রয়েছে। তা আর কখনও বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও ধারণা করছে নগরবাসী।
সওজ’র একটি সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি তাদের বিদ্যুতের খুঁটি না সরানোর কারণে কাজ জোরেশোরে করা যাচ্ছে না। চাহিদার কিছু টাকা তাদের দেয়া হলেও তারা এখনও খুঁটি সরানোর কাজ শুরুই করেনি। তবে পিডিবি তাদের খুঁটি না সরালেও খুঁটি বাদ রেখে অন্য জায়গায় কাজ হচ্ছে বলে দাবি করছে সওজ। এদিকে পিডিবির একটি সূত্র বলছে, চার লেন সড়কের কাজে পিডিবির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। অর্থিক সমস্যার কারণে মূল রাস্তা থেকে খুঁটি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক বিভাগ এবং পিডিবির এ রশি টানাটানিতে থমকে আছে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজ।
সওজ জানিয়েছে, পিডিবি খুঁটি সরানো ও তাদের অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৭ কোটি টাকার হিসাব দিয়েছে। আমরা তাদের দিয়েছি ৩০ লাখ টাকা। আগামী মাসে আরও ২ কোটি টাকা দেয়া হবে। বিটিসিএল তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ আড়াই লাখ টাকা দাবি করলেও আমরা তাদের ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এছাড়া ৬৮ লাখ টাকা দাবি করে ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশন ও বিটিসিএল তাদের সব কাজ প্রায় শেষ করলেও পিডিবি খুঁটি সরানোর কাজই শুরুই করেনি।
রংপুর সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম জানান, যে টাকা পেয়েছি, তা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজ অব্যাহত আছে। টাকা না পাওয়া এবং পিডিবি তাদের খুঁটি না সরানোর কারণে কাজের অগ্রগতি যাচ্ছে না।