Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের প্রতিবাদ : সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
সারাদেশে সভা-সমাবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। পৃথক বিবৃতিতে নেতারা বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা দেশে জরুরি অবস্থার শামিল। একদলীয় বাকশাল কায়েমের জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
জামায়াতে ইসলামী : সরকার সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ করে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যে কোনো নাগরিকের মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করার অধিকার আছে। এই অধিকার হরণ করার এখতিয়ার কারও নেই। সরকার এ অধিকার হরণ করে মৌলিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারকে পদদলিত করার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তারই সর্বশেষ ধাপে সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সরকার তার প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার জন্য হত্যা, গুম, গণগ্রেফতার, গণনির্যাতন ও গণমামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সরকারের অপকর্ম যাতে জনগণের সামনে প্রকাশিত না হয়, সে জন্য একের পর এক জাতীয় পত্রিকা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। এখন সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে সরকার কার্যত একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করল। মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ভূলুণ্ঠিতকারী এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রেখে দেশকে স্বৈরশাসকের কবল থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে আরও সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, দেশে কী জরুরি অবস্থা চলছে যে, এক মাস কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না? এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী কোনো সাংবিধানিক অধিকার রাখেন? তাহলে কোন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন? কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের আচরণ চলতে পারে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারই সবচেয়ে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্র লঙ্ঘন করছে। তাছাড়া দেশে এমন কোনো অস্বাভাবিক অবস্থা নেই যে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
অপর দিকে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য ‘উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্যোগের কারণে এক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করছে সরকার’ সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি দুর্যোগের জন্য হয়, তাহলে তো সরকার জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেনি। গণতন্ত্রের নামে সরকার দেশে যা করছে তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে চলতে পারে না। বিরোধী দলগুলোকে দমন করতেই সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, সারাদেশে সভা-সমাবেশের ওপর সরকারের এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দেশে জরুরি অবস্থা জারির শামিল। সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের জন্য দেশে এই ‘জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে। এ সিদ্ধান্ত জনগণের সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। দেশের জনগণ কোনো অবস্থায়ই সরকারের গণবিরোধী এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
তিনি গতকাল বিকালে খেলাফত মজলিসের জরুরি নির্বাহী সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক এম কে জামান, অধ্যাপক আবদুল হালিম, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা নোমান মাযহারী, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।