Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ সরকারের

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এগুলোতে যাতে আপত্তিকর কোনো বিষয় দেখা না যায় তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গতকাল তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ কথা জানান।
এদিকে ভিওআইপি বন্ধের নামে ইন্টারনেটে আপলোডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ ব্যান্ডউইডথ বা গতি কমিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ কারণে ইন্টারনেট সেবাদানকারী ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে।
গতকাল তথ্যমন্ত্রী জানান, এ প্রযুক্তি চালুর পর ফেসবুকের আপত্তিকর বিষয় বাদ দেয়া সহজ হবে। ফলে এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না। তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে আপত্তিকর বিষয়গুলো আটকানোর প্রযুক্তিগত কাজ শুরু হবে।
ফেসবুকটুইটারসহ অন্যান্য সাইটে আপত্তিকর বিষয় নিয়ন্ত্রণের পর বাংলাদেশে বন্ধ রাখা ইউটিউব খুলে দেয়া হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। ইসলাম ও হজরত মোহাম্মদকে অবমাননা করে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের ভিডিও ফুটেজ সরিয়ে নিতে চিঠি দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ইউটিউব সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। এর আগে ২০১০ জালের মে মাসে প্রায় ৬ মাস বন্ধ রাখা হয়েছিল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক। এছাড়াও সরকারবিরোধী প্রচারণার কারণে সোনার বাংলাদেশ ব্লগসহ বেশকিছু ব্লগ ও কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রামুর সহিংসতার ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি সম্প্রতি আদালতে দেয়া তাদের প্রতিবেদনে ফেসবুক-টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ চালানোর সুপারিশ করে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইসলামের নবী ও ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তিকারীদের শনাক্তে গঠিত কমিটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেয়।
ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশনা তুলে নিতে বিটিআরসির ই-মেইল পাননি সংশ্লিষ্টরা : ভিওআইপি বন্ধের নামে ইন্টারনেটে আপলোডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ ব্যান্ডউইডথ বা গতি কমিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ কারণে ইন্টারনেট সেবাদানকারী ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে। যদিও বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত ১৬ মে রাত ১১টা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে ওই নির্দেশনা তুলে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, গতকাল দুপুর পর্যন্ত ওই ই-মেইল সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি। বিটিআরসি বলছে, ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে নির্দেশনা প্রত্যাহার করে করা ই-মেইল আইআইজিগুলোর কাছে পৌঁছেনি। তারা আবার ই-মেইল করেছেন।
জানা গেছে, বিটিআরসির নির্দেশে ইন্টারনেটে কোনো তথ্য বা ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ বা গতি কমিয়ে দিতে বলা হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার মূল মাধ্যম আইআইজি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যান্ডউইডথ কমাতে বলা হয়েছে।
বিটিআরসির পরিচালক (স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা) সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা কীভাবে হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিটিআরসি গত ১৫ মে রাতে সাময়িকভাবে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ নির্দেশ দেয়। ওই চার ঘণ্টা তিনটি মোবাইল ফোন কোম্পানির ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু রাত ১১টার পরই ইন্টারনেটের ওপর এ বাধা উঠিয়ে দিতে আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-মেইল পাঠানো হয়।
বিটিআরসির দাবি, এ নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু আইআইজি ও আইএসপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলছেন, নির্দেশনা বাতিলের কোনো চিঠি বা ই-মেইল তারা পাননি। এর কারণ হিসেবে বিটিআরসির একটি সূত্র জানিয়েছে, ই-মেইল না পাঠানোর নেপথ্যে মূলত বিটিআরসির কর্মকর্তাদের গাফিলতিই দায়ী। তাদের অবহেলার কারণে সময়মত ওই ই-মেইল পাঠানো হয়নি।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির বক্তব্য হচ্ছে, তারা ই-মেইল পাঠালেও ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে আইআইজি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই নির্দেশনা পৌঁছায়নি। এজন্য বিটিআরসি দুঃখ প্রকাশ করছে।
চিঠি বা মেইল পাওয়ার কথা অস্বীকার করে আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করেছে, গত ১৬ মে সন্ধ্যায় কয়েকটি আইআইজিকে আইএসপির জন্য আপলোড ব্যান্ডউইডথ ৯০ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশ করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এতে ইন্টারনেট-সেবা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে থাকে। রোববার দুপুরেও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আপলোড গতি সীমিত রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।