Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভারতের কারাগারে বন্দি সুখরঞ্জন বালীর সন্ধানে রিট : প্রকাশিত প্রতিবেদন হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে সুপ্রিমকোর্ট চত্বর থেকে ডিবি পুলিশের হাতে অপহরণের শিকার সুখরঞ্জন বালী ‘ভারতের কারাগারে বন্দি’ শীর্ষক দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের হলফনামা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ। বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার বালীর সন্ধান চেয়ে করা রিটকারীর আইনজীবীকে দুই সপ্তাহের সময় দেন। গতকাল আবেদনের ওপর শুনানিকালে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। তখন আদালত সংবাদের কপি জমা দিতে বললে আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক । তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসিম। আদালত থেকে বের হয়ে এসে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবেদনটি শুনানির জন্য আজ (রোববার) কার্যতালিকায় ছিল। বালীকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আদালতে দাখিলের জন্য এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছিল। আদালত আমাদের দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।’
গত বছরের ৫ নভেম্বর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ডিবি পুলিশের হাতে অপহরণের শিকার হন সুখরঞ্জন বালী। পরদিন ৬ নভেম্বর সুখরঞ্জন বালীর বন্ধু আবুল কালাম আজাদ হেবিয়াস কর্পাস রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে গুম হওয়া সুখরঞ্জন বালীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাইকোর্টে হাজির করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে ১৩ নভেম্বর বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। এরপর ১৫ নভেম্বর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চে নতুন করে আবেদনটি দায়ের করা হয়। ওইদিন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ আবেদনটি শুনতে রাজি হননি। পরে নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে তিনি শুনানির জন্য বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। গতকাল আবেদনটি বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। সম্প্রতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সুখরঞ্জন বালী ভারতের কলকাতায় দমদম কারাগারে রয়েছেন’। গতকাল বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, র্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকার জেলা পুলিশ সুপার, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা), শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কারা মহাপরিদর্শক, জেল সুপার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ও ঢাকার জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়।
প্রসঙ্গত, অপহরণের পর থেকে সুখরঞ্জন কোথায় আছেন কীভাবে আছেন জানা যাচ্ছিল না। তিনি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের তালিকাভুক্ত সাক্ষী ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে সুখরঞ্জনের ভাই বিষা বালীকে হত্যা করেছে মাওলানা সাঈদী। এ অভিযোগ প্রমাণিত বলে ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীকে ফাঁসির আদেশও দিয়েছে। তবে গুম হওয়ার আগে ৪ নভেম্বর সুখরঞ্জন এক সাক্ষাত্কারে আমার দেশকে বলেন, তার ভাই হত্যার সঙ্গে মাওলানা সাঈদী জড়িত নয়। তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ তাকে ট্রাইব্যুনালে আসতে দেয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন সুখরঞ্জন। এর পরদিন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসেই ট্রাইব্যুনালের গেটে অপহরণের শিকার হন তিনি।