Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সংবিধান সংশোধনের ইঙ্গিত : তত্ত্বাবধায়ক নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা হবে - সৈয়দ আশরাফ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে, এমনটা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবে, সেটা নিয়েই বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। আলোচনার পর প্রধান ঠিক করা হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে যা রয়েছে, সেটাই যদি স্থির থাকত, তাহলে আলোচনার প্রয়োজন হতো না।
গতকাল আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হচ্ছেন—আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচিত এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আশরাফ বলেন, আমরা কখনোই বলিনি শেখ হাসিনাই হচ্ছেন আগামী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান। আমরা তো নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার কথা বলেছি। এখানে তো কোনো ব্যক্তির নাম নেই। এটা যে কেউ হতে পারেন এবং আলোচনা করেই ঠিক করা যেতে পারে। কেন আমি হলে অসুবিধা আছে?
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কোনো অসাংবিধানিক ব্যবস্থা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বর্তমান সংবিধানের আওতায় কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশে আর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তথা ওয়ান ইলেভেন, অর্থাত্ ২০০৭-০৮-এর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে সংবিধান সমুন্নত রাখা হবে। বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থাই হচ্ছে সংসদীয় গণতন্ত্রের অপরিহার্য অনুকরণীয় পথ। সংবিধান সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিতে দেশের সব গণতান্ত্রিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়াসংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন, সংসদে এসে তাদের দাবি পেশ করার কথা বলেছেন। সেখানে সবকিছু নিয়েই আলোচনা হবে। কিন্তু শর্ত দিয়ে কোনো আলোচনা হলে তা ফলপ্রসূ হবে না।
আশরাফ বলেন, একজন প্রবীণ রাজনীতিক (ড. কামাল হোসেন) বলেছেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে আলোচনা হবে। আমাদের জানামতে, সেখানে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই যে বসে কোনো আলোচনা করা যাবে।
সংসদে বিএনপি দাবি জানালে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার তা খারিজ করে দেবে কিনা—জানতে চাইলে আশরাফ বলেন, তাদের প্রস্তাব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে আলোচনা হবে। আলোচনায় ভোটাভুটি আসবে কেন। ভোটাভুটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী দেননি। সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচনা হবে।
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া আলোচনার প্রস্তাবকে কখনোই গুরুত্ব দেননি। আগে একবার তিনি বলেছিলেন, তলে তলে আলোচনা হবে না। আবার প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবের পর তিনি তা তুচ্ছ করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে হেফাজতের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের ঢাকায় এনে রাজপথে বসালেন। তাকে মনে রাখতে হবে, অগণতান্ত্রিক পথে সরকার উত্খাত করা যাবে না। আর গণতন্ত্র না থাকলে দেশের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এজন্যই সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আশা করি, বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি উপলব্ধি করবেন। আর আগামী নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছানোই হবে উত্তম পথ। খালেদা জিয়া নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় আসবেন।
বিরোধী দল বিএনপির আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, প্রাচীনকালে ডাকাতদের চরদখলের মতো দিন-তারিখ ঠিক করে সরকার উত্খাত হয় না। এটা কোনো সিরিয়াস রাজনীতি নয়। আমাদের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও (মরহুম আবদুল জলিলের ৩০ এপ্রিলের ট্রাম কার্ড) একবার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা নেত্রীর (শেখ হাসিনা) বক্তব্য ছিল না।
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাফাই সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে অপহরণের অভিযোগ ও তাকে ভারতের কারাগারে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তবাহিনী তাকে আটক করে। পরে ভারত সরকার অবৈধ প্রবেশের কারণে তাকে জেলে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ দলীয় সংগঠন ও সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের অবিলম্বে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংগঠনকে অতি দ্রুত সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সুসংগঠিত করতে হবে। যেসব জেলা-উপজেলায় সম্মেলন অসমাপ্ত রয়েছে, অবিলম্বে সেগুলোও শেষ করতে হবে। শিগগিরই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে বের হবেন বলেও জানান তিনি।
সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত সবার ওপরই কার্যকর হবে
আগামী এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব সময় সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা যায় না। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে প্রাণহানি বেশি না হলেও অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রয়োজন। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক মাস সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু বিরোধী দলের ওপর নয়, সরকারি দলের ওপরও কার্যকর হবে। এসব দুর্যোগের সময় সবার প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্গতদের সাহায্য করা। এজন্য সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নূহ উল আলম লেনিন, মাহবুবউল আলম হানিফ, আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।