Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সাভার গণহত্যা : রানা প্লাজার সামনে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষা থামছে না : নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

সাভার প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সাভারে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন অভিশপ্ত রানা প্লাজার নয়তলা ভবন ধসে পড়ার ২৭ দিন পরেও নিখোঁজদের সন্ধানে তাদের স্বজনদের অপেক্ষা থামছে না। গতকালও অনেক স্বজনকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের ফাঁকা জায়গা ও ভবনের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের চারপাশে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেখেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করতে না পারলেও এখনও প্রচুর কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন ধসে পড়া ভবনের ওই স্থানে। তারা অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবিও তুলছেন। আসছেন এখনও যারা স্বজনদের খুঁজে পাননি বা যেসব স্বজনহারা লোক নিহতদের বেতন-ভাতা পাননি, তাদের অনেকেই। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে গতকাল এসেছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে আবুল হোসেন, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে শারমিনসহ অনেকে। সবাই এসেছেন রানা প্লাজার সামনে। তারা সবাই প্রিয়জনের লাশের সন্ধানে এসেছেন। যারা এখনও স্বজনের সন্ধান পাননি তারা ছবি ও ঠিকানা লেখা নোটিশ নিয়ে ভিড় করছেন রানা প্লাজার সামনে। যদি কেউ কোনো সন্ধান দিতে পারেন এ আশায় সেখানেই ঘোরাফেরা করছেন তারা।
খুলনার দাকোপ থেকে এসেছেন আবির হোসেন ও সাফায়াত। তারা খোঁজ করছেন তাদের বাবা আবুল কাসেম ভুঁইয়াকে। আবুল কাসেম ভুঁইয়া রানা প্লাজায় রাজমিস্ত্রির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। কুয়াকাটার সিদ্দিকুর রহমান তার সহকর্মী জাহাঙ্গীরের লাশ খুঁজে পাননি। জাহাঙ্গীর রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় ইথার টেক্স গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতেন। অবশ্য এসব নিখোঁজ ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনরা ডিএনএ টেস্ট করতে দিয়েছেন বলে জানান তারা।
সাভারে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন : ধসে পড়া রানা প্লাজার নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধন ও সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন, গার্মেন্ট শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক গার্মেন্ট শ্রমিক ফোরাম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কশপ ফেডারেশনসহ ১৮টি শ্রমিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ, গার্মেন্ট শ্রমিক, রানা প্লাজায় নিহত নিখোঁজদের স্বজন, আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজিত এ মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, এরই মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা রানা প্লাজার সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে চাঁদা আদায় শুরু করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
একই সঙ্গে ভবন ধসের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে রানা প্লাজার স্থানে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের নামের তালিকা সংবলিত করে একটি স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপনের দাবি জানান তারা।
এছাড়া ভবন ধসের ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকদের নামের সঠিক তালিকা প্রকাশ, রানা প্লাজার মালিক ও কারাখানা মালিকদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেগুলো আহতদের সুচিকিত্সা ও পুনর্বাসন এবং নিহত শ্রমিকদের জীবনের সমপরিমাণ (২০ লাখ) টাকা প্রদান, আহত শ্রমিকদের বেতন দেয়ার সময় নেয়া পরিচয়পত্র ফেরত প্রদানের দাবি জানান।
তদন্ত কমিটির অগ্রগতি নেই : এদিকে রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় গঠিত হয়েছে অনেক তদন্ত কমিটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে অপরাপর কমিটির সদস্যদের কার্যক্রম তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান ঢাকা জেলার এডিসি (রাজস্ব ) মনোজ কুমার সরকার। কমিটির সদস্য সচিব সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শহীদুল ইসলাম। গঠিত এ কমিটি একবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভবন ধসের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে : রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ভবন মালিক রানার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্র ও ইমারত আইনে সর্বমোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, এর মধ্যে দুটি মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুটি মামলা তদন্ত করছে ঢাকা জেলা পুলিশ। তদন্তে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের দেখতে গিয়ে সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতালে গত শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এসব কথা বলেন। নিখোঁজদের সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভবন ধসের ঘটনায় নিখোঁজদের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতিমধ্যে যাদের লাশ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি তাদের ডিএনএ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এবং যাদের আত্মীয়-স্বজন নিখোঁজ রয়েছে তাদের ডিএনএ’র সাথে ম্যাচ করে বাকি লাশগুলো হস্তান্তর করা হবে। শনিবার সকাল ১১টায় রানা প্লাজায় আহতদের দেখতে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন এবং প্রত্যেককে একটি করে শাড়ি, লুঙ্গি ও নগদ দুই হাজার করে টাকা প্রদান করেন। এ সময় অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এনামুর রহমান, সাভার থানার ওসি আসাদুজ্জামান প্রমুখ।