Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সংলাপে অতিউত্সাহী বিএনপি রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
রাজনীতিতে সংলাপ নাটকের অধ্যায় আপাতত শেষ হয়েছে। এখন চলছে নাটক-পরবর্তী সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক লাভক্ষতির হিসাব-নিকাশ। আগামী নির্বাচনের আগেই পরস্পরকে ধরাশায়ী করার নতুন কৌশল আঁটতে ব্যস্ত দুই পক্ষই। সংলাপ-সংলাপ খেলার পর কিছুটা হলেও স্বস্তির ঢেঁকুর গিলছে সরকার। বড় ধরনের একটি ধাক্কা সামাল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। সভা-কর্মসূচিতে বক্তৃতায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পক্ষান্তরে, সংলাপ নাটকে বেশ ক্ষতির মুখেই পড়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। কোনো চিঠি না পেয়েই আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে সরকারের সংলাপ নাটকে অতি উত্সাহী হয়ে ওঠায় এখন নির্বিকার এ জোটের নেতারা। উত্তপ্ত রাজপথ ছেড়ে নেতাকর্মীরাও দিকনির্দেশনাহীন। কারাভোগ, মামলা আর সরকারি চাপ সামলে কোনো কর্মসূচিই পালন করতে পারছে না বিএনপি। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন ঘটেছে তাদের। সাম্প্রতিক সংলাপ নাটকে দলটির অতি উত্সাহকে কৌশলে কাজে লাগিয়ে আন্দোলন সামাল দিয়েছে সরকার। আর এতে বিএনপি ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথে লড়াইয়ের সময়ে সংলাপে অতি উত্সাহ দেখানো বিএনপির জন্য বিজ্ঞতার পরিচায়ক হয়নি; বরং এটা রাজনৈতিক অপরিপকস্ফতা প্রমাণিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পরই এমন উত্সাহ দেখানো যেত বলে মনে করেন তারা।
প্রসসঙ্গত, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারবিরোধী আন্দোলন যখন ঐতিহাসিকভাবে তুঙ্গে, তখন গদি রক্ষায় সরকার ‘সংলাপ নাটককে’ টেক্কা হিসেবে ব্যবহারের কৌশল নেয়। গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী সংসদের ভেতরে-বাহিরে যে কোনো স্থানে সংলাপে রাজি বলে ঘোষণা দেন। নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে এ সংলাপে বসতে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে সংলাপের প্রস্তাবসংবলিত চিঠি দেয়া হবে বিএনপিকে।
সরকারের এই ফাঁদে পা দিয়ে বিএনপি আরও এক ধাপ এগিয়ে সংলাপে ব্যাপক আগ্রহ দেখায়। এমনকি বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া তার বাসায় চায়ের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রীকে। গত ৪ মে মতিঝিলে ১৮ দলীয় জোটের বিশাল সমাবেশ থেকে তিনি নির্দলীয় সরকারকাঠামো নিয়ে আলোচনার জন্য সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান এবং ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
এরপর দিন ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ এবং গভীর রাতের আঁধারে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের গণহত্যায় সরকার ব্যাপক বেকায়দায় পড়ে। এ গণহত্যা ও দুটি টেলিভিশন বন্ধের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আর তখনই সরকারনিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় অপপ্রচার ও বড় দুই দলের সংলাপ-নাটক দিয়ে আড়াল করে দেয় গণহত্যা আর বিরোধী জোটের আলটিমেটাম। এর পর থেকে বিএনপি কিংবা ১৮ দলীয় জোটকে রাজধানী ঢাকায় কোনো কর্মসূচিই করতে দেয়নি পুলিশ। সরকারের এমন ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের মুখেও বিএনপির রাজনীতিও সংলাপমুখী হয়ে ওঠে। সংলাপ-নাটকে চাপা পড়ে যায় আন্দোলনের গতিপথ।
এরই মধ্যে গত ১০ মে থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত দুই দলের সংলাপ প্রস্তাব নিয়ে চার দিন ঢাকা সফর করে। সে সময় সরকার সংলাপে অংশ নেয়ার আগ্রহ দেখায়। বিএনপির উত্সাহ ছিল অতিমাত্রায়। এমনকি ১৪ মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংলাপেই সঙ্কটের অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কিন্তু বাস্তবে আওয়ামী লীগ তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েনি। ১৫ মে থেকেই প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের এজেন্ডা অনুযায়ী সংলাপে অংশ নিতে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করে। পঞ্চদশ সংশোধনীর পর সংবিধানে সংযোজিত বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য তারা বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে গিয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সভা ডেকে সংসদের বাইরে কোনো সংলাপ হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধ ও বৃহস্পতিবার পৃথক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে সংলাপের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারা মেনেই আগামী সাধারণ নির্বাচন হবে। আর সেই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্লামেন্টে আসেন, বসেন। যা বলার বলেন। সংলাপ প্রস্তাব দিয়ে বিএনপিকে কোনো চিঠি দেয়া হবে না বলে বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। আর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের আলোচনার চেয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে একাধিক জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ডেকে তিনি নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এমনকি মহাসেনের মতো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের দিনেও বৃহস্পতিবার তিনি নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে আবারও জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আর যা-ই হোক সংসদের বাইরে কোনো সংলাপ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সংলাপ যদি হতে হয়, পার্লামেন্টের ভেতরে হবে।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে বিএনপি ক্ষতির মুখে পড়েছে। আন্দোলনের গতি থমকে গেছে। বিএনপি নতুনভাবে নেতাকর্মীদের যাতে উজ্জীবিত করতে না পারে, সে জন্যও সরকার বেপরোয়া গ্রেফতার ও রিমান্ডে নির্যাতন চালাচ্ছে। সিনিয়র নেতারা জামিনে পেলেও কারা ফটক থেকে আবার গ্রেফতার করে নতুন মামলায় কারাবন্দি রাখা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট একটি দুর্বল ও কঠিন সময় পার করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।