Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে শতরাউন্ড গুলিবিনিময় : সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

সিলেট অফিস
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ছাত্রলীগের দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষে গতকাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী টিলাগড় এলাকা। কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করা নিয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান ও বরখাস্ত হওয়া সাবেক সভাপতির পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের দুই পক্ষ বন্দুক, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক ও ছাত্রলীগের পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের ছবি তোলার সময় প্রথম আলোর আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদসহ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও চিত্রগ্রাহককে ধাওয়া করা ও মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্থ তার পক্ষের কর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এ সময় কলেজের পার্শ্ববর্তী টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নেয় জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পক্ষ। দুপুর ১২টার দিকে হিরণের পক্ষে একদল কর্মী ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় ক্যাম্পাসে থাকা পঙ্কজের পক্ষ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হিরণের পক্ষ থেকেও পাল্টা গুলি ছোড়া হয়। এরপর ধাওয়-পাল্টা ধাওয়ার সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের পাঁচজন আহত হন। এর মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মী মিঠু তালুকদার, উজ্জ্বল ও তুষারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমসি কলেজ ও টিলাগড়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের পঙ্কজ ও হিরণ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কয়েক দিন আগে পঙ্কজ গ্রুপকে হটিয়ে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় হিরণ গ্রুপ। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে পঙ্কজের গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের দখল পুনরুদ্ধারে গেলে হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটোছুটি শুরু করে। বন্ধ হয়ে যায় টিলাগড় এলাকার দোকানপাট। বর্তমানে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নিপু গ্রুপ। ক্যাম্পাসে নিপু গ্রুপের কর্মীরা লাঞ্ছিত করে সাংবাদিক আহাদ ও নওশাদকে। এ সময় তারা তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা তাদের ক্যামেরা ভেঙে ফেরত দেয়। প্রসঙ্গত, পঙ্কজ এমপি গ্রুপ এবং নিপু আজাদ-রনজিত গ্রুপ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ বলেন, বরখাস্ত হওয়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পঙ্কজ একদল সশস্ত্র বহিরাগতকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। ছাত্রলীগ তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধাওয়া করে তাদের ক্যাম্পাসছাড়া করেছে।’ পঙ্কজের দাবি, ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া তার পক্ষের নিরীহ ছাত্রদের ওপর সশস্ত্র হামলা করার প্রস্তুতি ঠেকাতে গিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র তার প্রতিপক্ষরা বহন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা : প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্রধারীরা বেসরকারি টেলিভিশন ‘সময়’ টিভির প্রতিবেদক ও চিত্রগ্রাহককে মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাংচুর করে। সময় টিভির চিত্রগ্রাহক নওশাদ আহমেদের হাত থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেন ছাত্রলীগের ওই পক্ষের কর্মীরা। ক্যামেরা উদ্ধার করতে গিয়ে সময় টিভির প্রতিবেদক আবদুল আহাদকে মারধর শুরু করলে উপস্থিত কয়েকজন সংবাদকর্মী তাকে উদ্ধার করেন।