Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা! : সারাদেশে এক মাস ও ঢাকায় অনির্দিষ্টকাল সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
দেশে অঘোষিতভাবে জরুরি অবস্থা জারি করেছে আওয়ামী সরকার। বেশ কিছু দিন ধরে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে জল্পনা কল্পনা চললেও গতকালই এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর গতকাল বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে এবং চট্টগ্রামে অপর এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং সারাদেশে এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় একই ঘোষণা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিরোধী দল বিএনপিকে ঢাকায় কয়েক দফায় সমাবেশ করতে দেয়নি সরকার। এরপর আরও একাধিক সংগঠনকেও সমাবেশ ও মানববন্ধন করতে বাধা দেয়া হয়েছে। তারও আগে সরকার গায়ের জোরে বহুল প্রচারিত দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর বিরোধী দল সমর্থক দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কার্যত দেশে জরুরি অবস্থাই জারি করা হলো। জরুরি অবস্থার অন্যতম অনুষঙ্গ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ।
জরুরি অবস্থায় গণমাধ্যমে সেন্সরশিপও আরোপ করা হয়। সেই ব্যবস্থাও দেশে বহাল আছে। এ কারণে শাপলা চত্বরের গণহত্যার মতো স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণহত্যার খবরও প্রচার করেনি দেশের গণমাধ্যমগুলো। সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন টিভি স্টেশন সিএনএন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই জানিয়েছে, সিএনএনসহ বিদেশি গণমাধ্যমকে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। তারা ভিসা চাইলে ভিসা অফিসার জানায়, প্রতিবেদন প্রচারের আগে তা বাংলাদেশ সরকারকে দেখাতে হবে এবং সরকারের মনঃপূত না হলে সেই রিপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রভাবশালী টিভি স্টেশন আলজাজিরাও একই পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের খবর প্রচার করছে। সোশ্যাল মিডিয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
গতরাতে বিবিসি জানায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকায় রাজনৈতিক দলের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর একথা নিশ্চিত করে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোনো দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্রমবর্ধমান জনরোষ ও জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের ব্যাপারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসন্ন রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদল। তারা একে অসাংবিধানিক এবং বাকশাল প্রতিষ্ঠার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক অন্য দলগুলো সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অবনত মস্তকে মেনে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকায় ১৪ দলের পূর্বঘোষিত এক
সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে।
আগামী এক মাস কোনো দলকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না —মিরসরাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : আমাদের মিরসরাই প্রতিনিধি জানান, আগামী এক মাস কোনো দলকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
গতকাল চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় জোরারগঞ্জ নতুন থানা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমাবেশের অনুমতি নিয়ে যারা সমাবেশকে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দেন, জনসাধারণের জানমালের ওপর অত্যাচার, গাড়ি ভাংচুর, মালামাল লুট করে তাদের যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমাবেশ করার অধিকার স্বীকার করা সত্ত্বেও আগামী এক মাস পর্যন্ত কোনো দলকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অনুমতি নিয়ে বিরোধী দল ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। সমাবেশের নামে গাড়ি ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও, দোকানপাটে আগুন, মসজিদে হামলা ও পবিত্র কোরআনে আগুন দেয়, তাদের প্রতিহত করা হবে।
সমাবেশের অনুমতি নিয়ে যারা সমাবেশকে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দেয়, তাদের চরিত্র গত ৫ মে দেশবাসী দেখেছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত হেফাজত ইসলামের ওপর ভরসা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকার উত্খাতের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু ১০ মিনিটে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ৫ মে ঢাকায় সমাবেশ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত হেফাজত ইসলামকে পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছে। কিন্তু ইসলাম রক্ষা মাওলানা শফী সাহেবের একার দায়িত্ব নয়। ইসলাম রক্ষার নামে তারা ৯৬২টি কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দিয়েছে।
সংলাপের জন্য সংসদকে উপযুক্ত স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংলাপের জন্য সরকার সব সময় প্রস্তুত। এ জন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের প্রয়োজন নেই। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলকে যোগ দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবিধানিক অধিকার সব সময় রক্ষা করা যায় না —সৈয়দ আশরাফ : সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সাংবিধানিক অধিকার সব সময় রক্ষা করা যায় না। সাভারে দুর্ঘটনা ঘটেছে, দক্ষিণাঞ্চলে ঝড়ের কারণে তেমন একটা প্রাণহানি না হলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রয়োজন। এ জন্য সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা শুধু বিরোধী দলের জন্য নয়, সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও এই সময় সভা-সমাবেশ করতে পারবে না।
গতকাল দুপুরে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থানকারী হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরিয়ে দেয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমাবেশের জন্য তিন দফা আবেদন করেও অনুমতি পায়নি। তা ছাড়া কয়েক দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রেস ক্লাবের সামনে সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনের রেওয়াজ থাকলেও সেখানে অস্থায়ী নিশেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক নির্দেশনায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের অনুমতি ছাড়া প্রেস ক্লাবের সামনে কোনো কর্মসূচি পালন করা যাবে না। এর পরও শনিবার বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে মাহমুদুর রহমান মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ নামের একটি সংগঠন তাদের কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। গতকালও প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় কোনো সংগঠনকে কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি।
রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা : সরকারের এ সিদ্ধান্তে নিন্দা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু গতকাল বলেছেন, সরকার বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ ও মিছিল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে দিয়ে সংবিধানবিরোধী আচরণ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ১৯৭৫ সালকেও হার মানিয়েছে।
অন্যদিকে, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সভা-সমাবেশের বিরুদ্ধে সরকারি নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ বন্ধ করার সরকারের আচমকা সিদ্ধান্তে আমি বিচলিত হয়েছি। সারা দেশের মানুষও জরুরি অবস্থা অথবা একদলীয় শাসনের আতঙ্কে রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের পরিপন্থী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মিটিং-মিছিল করার অধিকার সবারই আছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার কেড়ে নেয়ার এখতিয়ার কারও নেই।
বাকশালের নমুনা পাওয়া যাচ্ছে —হাফিজউদ্দিন খান ও সৈয়দ আবুল মকসুদের প্রতিক্রিয়া : গতকাল রেডিও তেহরান জানায়, আগামী এক মাস রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থী। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ হওয়া উচিত।
বিশিষ্ট কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেক সৈয়দ আবুল মকসুদ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দেশে একদিনের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে না। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ। দেশে এমন ঘটনা ঘটেনি যাতে একদিনের জন্যও সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকতে পারে। সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে ক্রমাগত গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে; যা গণতান্ত্রিক চেতনা, রীতিনীতি ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রের পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, সরকার এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে যদি ছয় মাস নিষিদ্ধ করে তাহলে তাদের বাধা দেবে কে? দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের উচিত এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি বেশি করে সভা-সমাবেশ করা। ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ প্রতিরোধ না হলে ভবিষ্যতে এ নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।
তিনি আরও বলেন, ‘এ সরকার যে আচরণ করছে তা গণতান্ত্রিক নয়। তারা তাদের খুশিমতো রাষ্ট্র চালাচ্ছে। সভা-সমিতি করা, সংবাদ প্রকাশ করা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সাংবিধানিক এ অধিকার সংকুচিত করার অর্থ হলো সংবিধানকে লঙ্ঘন করা। এখন সরকার যে কাজ করছে তা সংবিধান পরিপন্থী। দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির উচিত সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হাফিজউদ্দিন খান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সভা-সমাবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে, আইন লঙ্ঘন না করে, ততক্ষণ তাতে বাধা দেয়া যাবে না।’
বিরোধীদলকে আন্দোলন থেকে বিরত রাখার কৌশল হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে যদি এক মাস কোনো সভা সমাবেশ বন্ধ থাকে, এরপর বর্ষার জন্য কেউ সভা-সমাবেশ করতে পারবে না।’
হাফিজউদ্দিন খান আরও বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন হতে পারে; কিন্তু সে সুযোগ সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। সংবাদপত্রে এর বিরুদ্ধে লেখালেখি করা যায় এবং টেলিভিশন টকশোতে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সেসবও বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে দুটি টেলিভিশন ও একটি সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের অনেক পদক্ষেপে বাকশালের নমুনা পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দেশের মানুষ এখন চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু না হলেও, সব গণমাধ্যম বন্ধ না হলেও সরকারের অনেক কর্মকাণ্ডে বাকশালের নমুনা পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারি দলের সাধুবাদ : এদিকে আগামী এক মাস সারাদেশে রাজনৈতিক দলের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ১৪ দল। সরকারের সিদ্ধান্ত স্বাগত জানিয়ে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি তাত্ক্ষণিকভাবে স্থগিত করে। গতকাল বিকালে মুহাম্মদপুর টাউনহল মাঠের পাশে ১৪ দলের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে অংশ নিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিলসহ আসতে থাকে। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে সমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ১৪ দল আগামী এক মাস তাদের মিছিল-সমাবেশ বন্ধ রাখবে। এ সময় মঞ্চে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক উপস্থিত ছিলেন।