Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৯ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

স্পট ফিক্সিং : হতাশা বাড়ছে ক্রিকেটে

স্পোর্টস ডেস্ক
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে আটক হয়েছে ভারতের তিন ক্রিকেটার। ক্রমান্বয়ে বাজিকর চক্রের এই প্রভাব বিশেষ করে উপমহাদেশে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ায় হতাশা বাড়াচ্ছে। খেলোয়াড়দের গ্রেফতার করার সঙ্গে জড়িত পুলিশ বলছে, ওই তিন ক্রিকেটার দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নির্দেশনাই শুধু বাস্তবায়ন করেছে। মূল হোতারা মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। ক্রিকেটপাগল উপমহাদেশে তারা যদি মাঠের খেলাকে প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে সেখান থেকে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করতে পারবে। এদিকে ভাষ্যকাররা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমেই বেড়ে যাওয়া এই তালিকায় যদি অতীতে তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত করা না যায়, তাহলে এটিকে নির্মূল করা যাবে না।
ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় ইতিহাসবিদ বরিয়া মজুমদার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘স্পট ফিক্সিং ক্যান্সারটি ক্রমেই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। যদি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায়, তাহলে এটিকে প্রতিরোধ করা যাবে না।’ যেসব ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, বাকি জীবনের জন্য তাদের এই খেলা থেকে বিতাড়ন করা দরকার। পেসার শান্তকুমারান শ্রীসান্থসহ আটক তিন খেলোয়াড় বৃহস্পতিবার বলেছেন, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার সময় এক একটি খারাপ বোলিংয়ের বিপরীতে লেনদেন হয়েছে ১০ হাজার ডলার। টুর্নামেন্টের ভিত কাঁপিয়ে তোলার মতো দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার শীর্ষ তিন আম্পায়ারকে গোপন টিভি ক্যামেরার মাধ্যমে হাতেনাতে ধরা হয় ম্যাচ প্রভাবিত করার গোপন বৈঠক থেকে। উপমহাদেশের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তারা। গত বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরটিতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ওই অভিযোগের কারণে বাংলাদেশের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার শরিফুল হককে নিষিদ্ধ করা হয়। সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটির অবসান ঘটেছে পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটারকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট। শ্রীলঙ্কা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে বাজি ধরা অবৈধ। কিন্তু আড়ালে থেকে বাজিকররা ঠিকই তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচ ছাড়াও রান সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রতিটি ওভার, এমনকি অতিরিক্ত রান নিয়েও তারা বাজিতে মেতে উঠছে হরহামেশা। তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের বাজি ধরার প্রবণতা নির্দিষ্ট ম্যাচটি প্রভাবিত করতে উত্সাহিত করছে। বৃহস্পতিবারের ওই গ্রেফতার মিশনের সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘উপমহাদেশে বাজিকরদের সিন্ডিকেট ও তাদের অংশীদারদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেটি একটি ব্যাপার। ক্রমেই বাজিকরদের টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হচ্ছে ক্রিকেট। আমরা এখনও চেষ্টা করছি, নগদ টাকার সঠিক প্রবাহের পরিমাণটি বের করতে। তবে আমাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে যেটি জানা গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, দুবাইভিত্তিক একটি মাফিয়া চক্র বাজিকরদের নির্দেশনা নিয়ে ওই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যেখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদর দফতর।’ আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ রিচার্ডসন বৃহস্পতিবারের ওই আটকের ঘটনার পর বলেছেন, ওই খেলাটির পরিচালনা পরিষদ এবং এর সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘ভ্রাম্যমাণ দল দিয়ে বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে ভাষ্যকাররা চিহ্নিত করেছেন, ক্রীড়াঙ্গনের কিছু নামকরা ব্যক্তিত্বদের, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির বদনাম থাকলেও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে তাদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রায় এক দশক আগে পাকিস্তানের একটি আদালত দুর্নীতির জন্য জরিমানা করেছিল পাকিস্তানি বোলার ওয়াসিম আকরাম ও মুস্তাক আহমেদকে। এ সময় আদালত তাদের দেশটির নেতৃত্বে না বসানোরও পরামর্শ দেয়। তবে তারা দু’জনই বর্তমানে আইপিএল দলগুলোর পরামর্শক। পিচের অবস্থা বাজিকরদের আগাম জানিয়ে দেয়ার বিনিময়ে অর্থ নেয়া অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি তারকা শেন ওয়ার্ন নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের, যে দলটি ২০০৮ সালের টি-টোয়েন্টিতে জিতে নেয় আইপিএলের প্রথম শিরোপা। আকরাম এবং ওয়ার্নরাই এখন টেলিভিশনের নিয়মিত পণ্ডিত। এদিকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হলেও ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত বছর তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ইএসপিএনের সিনিয়র এডিটর শারদা উগরে বলেন, ‘অতীতে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আপসহীনতা দেখাতে পারেনি।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কাজ করার সময় এসেছে। বর্তমান দুর্নীতির ঘটনাগুলো তাদের জন্য পরীক্ষামূলক।’ এসব ঘটনায় হতাশা চলে এসেছে সমর্থকদের মাঝেও। অজয় দিওয়ান নামের এক সমর্থক বলেন, ‘আমরা টিকিট কেটে মাঠে যাই খেলা দেখার জন্য এবং খেলোয়াড়দের উত্সাহ জোগানোর জন্য। এখন দেখছি তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে।’