Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কেমন বাজেট চাই ২০১৩-১৪ : আগামী বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ সুশাসনের ঘাটতি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
আর্থিকখাতে সুশাসনের অভাবে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ব্যাংকে লুটপাট ও এমএলএম নামে ডেসটিনিসহ বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃক কোটি কোটি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশ থেকে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি চলে গেছে। অধিক সুদে ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্পের নামে ভর্তুকি সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং রফতানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্পে বারবার দুর্ঘটনার কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই আগামী বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ও সার্বিক খাতগুলো বাস্তবায়ন বেশ কষ্টকর হবে। গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি ও এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘কেমন বাজেট চাই ২০১৩-১৪’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা
বলেন।
রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্র্যাকের নির্বাহী মাহবুব আলম, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনী বছরে দেখা গেছে প্রবৃদ্ধি প্রায় দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এ বছরে আশা করছি ৫ দশমিক ৮ থেকে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। এছাড়া চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি কমবে না বরং বাড়বে বলেও তিনি জানান।
আর্থিক খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সরকারের দুর্বলতা ছিল। যার কারণে অনেকগুলো জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তারপর দেশের আমদানির ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ অর্থের জোগান সরকারি ব্যাংকগুলোই দিচ্ছে। তাছাড়া সাপ্লাইয়ার ক্রেডিট বৃদ্ধির ফলে অর্থের ওপর সরকারের দখল বেড়েছে।
পদ্মা সেতু অর্থায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। এতে হয়তো অন্যান্য খাতে যে হারে বরাদ্দ বাড়ার কথা ছিল সে হারে বাড়বে না। সবখাতে ৫ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, ৪ বছরের বাজেটের আকার দ্বিগুণ হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ করা অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে।
জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভর্তুকি থাকবেই। এটি দারিদ্র্যবিমোচন ও বৈষম্য হ্রাসের জন্য অনেক সহায়ক। কৃষিতে ভর্তুকি বাড়বে, তবে জ্বালানিতে ভর্তুকি কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিতে কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। সামনে সারের ভর্তুকি কার্ডের মাধ্যমে দেয়া হতে পারে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার উত্পাদন বাড়ানো ও সহজ আমদানি নীতি গ্রহণ করে সরবারহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া কৃষকের সুবিধার্থে আগামী জুলাই থেকে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সরবারহ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত সরকারের আমলে শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং খাত অনেক ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার আমলে ব্যাংকগুলোতে দলীয় লোকদের ব্যাংকের বোর্ড মেম্বার করা হয়েছে। যারা কোটি কোটি টাকার ঋণ কেনাবেচা করেছে। প্রকল্পের নামে সরকারের লোকজন কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাত্ করেছে।
আগামী বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু ছাড়াও ব্যাংকের রিক্যাপিটালাইজড করা, রাশিয়া থেকে কেনা অস্ত্রের মূল্য পরিশোধ করা এবং ২৫ শতাংশ সুদে সরকার যে ঋণ নিয়েছে তা পরিশোধে অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুতে আপনাদের দুর্নীতির দায় জনগণের ঘাড়ে চাপাবেন না। এছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন লুটপাটের ঘটনায় দেশ থেকে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি দেশ থেকে চলে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আগামী বাজেটে বড় সমস্যা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সুশাসনের ঘাটতি। সুশাসনের অভাবে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে। এছাড়া আমদানি কম যাওয়াতে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে। বাজেটে ঘোষণা সত্ত্বেও পিপিপি বাস্তবায়ন না হওয়াটা সরকারের বড় ব্যর্থতা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, জ্বালানি খাতের দুর্নীতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দেশের কারখানাসহ সাধারণ মানুষ গ্যাসের জন্য হাহাকার করছে। জ্বালানির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলবে। বড় বড় বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করা যায়নি বলে কাম দামে বিদ্যুত্ দেয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ কারখানা গড়ে তুলতে ৫–৬ শতাংশ সুদে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতাও বন্ধ করতে হবে।