সংসদের আগামী অধিবেশনে যোগ দিচ্ছে বিএনপি : মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার « আগের সংবাদ
১৭ মে ২০১৩, ২২:৫২ অপরাহ্ন

জাতীয় সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আপনাদের আহ্বানে নয়, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা সংসদে যাব। তবে কত দিন থাকব, তা আপনাদের আচার-আচরণের ওপর নির্ভর করবে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে
স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত যুব সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ কথা বলেন। গুম হওয়ার ১৩ মাসেও বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান না দেয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন খুলে দেয়ার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার স্ববিরোধী কাজ করছে। একদিকে সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে, আরেক দিকে বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেফতার করছে।
‘সংলাপ আর সংঘাতের রাজনীতি একত্রে চলতে পারে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, চলমান সমস্যার সমাধানে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরকার সংলাপের কথা বললেও তারা এ ব্যাপারে আন্তরিক নয়, তাদের সদিচ্ছা নেই। তাই সরকারকে বলব, স্ববিরোধী আচরণ বর্জন করে আন্তরিকতা নিয়ে আহ্বান করুন, আমরা সাড়া দেব। দেশি-বিদেশি চাপে সরকার সংলাপের কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মওদুদ বলেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের কথা বলছেন, অন্যদিকে তিনি নিজেই শর্ত জুড়ে দিয়ে বলছেন, সংবিধানের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। এটি তার স্ববিরোধী অবস্থান। ১৯৯৪ সালে নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট উত্তরণে কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব স্যার স্টিফেন নিনিয়ানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা বলেন, ওই সময়ে স্যার নিনিয়ান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দলের পাঁচজন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, ওই ধরনের প্রস্তাব নির্দলীয় সরকারের নয়, দলীয় সরকারের। আর তা তিনি মানেননি।
মওদুদ সরকারের উদ্দেশে বলেন, সংসদে আমাদের সদস্য সংখ্যা কম। তাই সংসদে গেলে যদি আমাদের সময় ও সুযোগ দেন, বিষোদগার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ না করেন, তাহলে আমরা চিন্তা করব কত দিন সংসদে থাকব।
‘জনসমর্থন এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, সমর্থন আপনাদের পক্ষে থাকলে ভয় কেন? নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে আপনার বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করুন।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, অর্থনৈতিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, গণশিক্ষা সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, নির্বাহী সদস্য হেলেন জেরীন খান, এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার ও স্বদেশ জাগরণ পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।

প্রথম পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X