Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

টেকনাফ উপকূলে উদ্ধার করা মৃতদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে : টেকনাফেই দাফন, মিয়ানমারের ‘রোহিঙ্গা মুসলমান’ বলে স্বীকার

আনছার হোসেন কক্সবাজার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের বঙ্গোপসাগর উপকূল থেকে উদ্ধার করা ভাসমান মৃতদেহের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টেকনাফের সমুদ্র উপকূল থেকে এসব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলোর মধ্যে ২৫টি শিশু ও ৬টি মহিলার। এর মধ্যে ৩টি কিশোরের মৃতদেহও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতুলী, লম্বরী, মিটাপানিরছড়া, দরগাহরছড়া, হাবিরছড়া ও রাজারছড়া, বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়খালীপাড়া ও সাবরাং ইউনিয়নের পতেলাপাড়া সমুদ্র উপকূলে ভাসমান মৃতদেহগুলো পাওয়া যায়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে টেকনাফেই জানাজা শেষে মৃতদেহগুলো দাফন করা হয়েছে।
কক্সবাজারস্থ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ফিরোজ সালাহউদ্দিন ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন। ওই সময় বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ড. কামরুজ্জামান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দিন, সহকারি পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) ফারুক আহমদও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন টেকনাফে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলোর ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মৃতদেহগুলো সাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের রোহিঙ্গা মুসলমান বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু মৃতদেহগুলো মিয়ানমারে নিতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে জানিয়ে লাশগুলো বাংলাদেশেই দাফন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিজিবির টেকনাফস্থ ৪২ ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, উপকূলে ভেসে আসা মৃতদেহগুলোর ব্যাপারে মিয়ানমারের মংডু নাসাকা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা মৃতদেহগুলো ডুবে যাওয়া ট্রলারের রোহিঙ্গা মুসলমানের বলে স্বীকার করেছে।
তিনি জানান, টেকনাফ পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে লাশগুলো দাফন করা হয়েছে।
টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ২৫টি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। সকালে আরও ৬টি মৃতদেহ পাওয়া যায়।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানিয়েছিলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া, দরগাহছড়া ও লম্বরী তুলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার সাগর উপকূলে ভাসমান মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।
তিনি জানান, পুলিশ যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে মিয়ানমার উপকূলে দুইশ’ রোহিঙ্গা মুসলিমকে নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটি সাইক্লোনের কবল থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিল।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতরের নারী মুখপাত্র বিদেশি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়ে ছিলেন, ১৩ মে রাতে পউকতাউ শহর থেকে রওনা দেয়ার পর নৌকাটি নিখোঁজ হয়।
উদ্ধার হওয়ার মৃতদেহগুলো নিখোঁজ সেই হতভাগা রোহিঙ্গা মুসলমানদের বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমারের ‘নাসাকা’ বাহিনী।