পরকীয়ার জেরে জগন্নাথ ভার্সিটিতে কর্মচারী খুন

স্টাফ রিপোর্টার « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ১৭ মে ২০১৩, ২২:৫২ অপরাহ্ন

পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনায় গতকাল সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীপন্থী নেতা ইকবাল হোসেনের ছুরির আঘাতে মো. কামাল হোসেন (২৫) নামে এক কর্মচারী খুন হয়েছে। এ ঘটনায় কর্মচারী সমিতির এ নেতাকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এদিকে পল্টনের চামেলীবাগ এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আলী আবজাল সেলিম (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের পিয়ন হারুনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। এ ঘটনা ক্যাম্পাসের সর্বত্রই আলোচনা হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে কামাল হোসেন আপত্তিকর অবস্থায় তাদের বিজ্ঞান অনুষদের পেছনে দেখতে পায়। এ ঘটনা যাতে ক্যাম্পাসে প্রকাশিত না হতে পারে, সে লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইকবাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কামালকে শহীদ মিনারের সামনে আসতে বলে। এ সময় তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইকবাল উত্তেজিত হয়ে কামালের পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয় মসজিদের সহকারী ইমাম আনোয়ার হোসেন জানান, কামাল হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় বেলা একটায় তার মৃত্যু হয়।
হারুনের বাসার পাশে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, হারুনের স্ত্রী ইকবালকে মোবাইলে বলেছে, কামাল বৃহস্পতিবার রাতে যে ঘটনা দেখেছে তা জানাজানি হলে আমার আর রক্ষা নেই। আমার ঘর-সংসার ভাঙবে। ক্যাম্পাসে এ নিয়ে বিচার হবে। এরপর আপনার সঙ্গে আমার আর সম্পর্ক রাখা সম্ভব হবে না। এ ঘটনা যাতে কেউ না জানতে পারে, সেই লক্ষ্যে কামালকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলেন। হত্যা করার পরিকল্পনা মোবাইলে কথা বলার সময় এ কর্মচারী শুনতে পান। তিনি আরও বলেন, ইকবালের মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করলে এ খুনের রহস্য বের হয়ে আসবে।
কামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (এমএলএসএস) হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবার নাম মো. আমির হোসেন। চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার পাইরচইল গ্রামে তার বাড়ি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক আমার দেশ-কে বলেন, মৃত্যুর আগে কামাল পুলিশকে জানিয়েছে, রসায়ন বিভাগের পিয়ন হারুনের স্ত্রীর সঙ্গে ইকবালের পরকীয়া সংক্রান্ত কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইকবাল ছুরিকাঘাত করে। ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইকবালের অপকর্ম : ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন পুলের সহকারী কর্মচারী। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। ২০১২ সালে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে নিবার্চন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ এবং ছাত্রলীগের যোগসাজেশে অবৈধভাবে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নেন। ক্যাম্পাসের আশপাশে ছাত্রলীগের পক্ষে বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাট ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির টাকা উত্তোলণ করে থাকেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে মাদকদ্রব্যের ব্যবসাও করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি পরিবহন পুলের কর্মচারী হলেও নিয়মিত অফিস করেননি বলে জানা যায়।
এদিকে পল্টন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর ভূঞা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে চামেলীবাগ এলাকার ১৯ নম্বর চন্দ্রমল্লিকা অ্যাপার্টম্যান্টের আটতলার ৮/ডি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সেলিমের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যার পর ওই ফ্ল্যাটে কাজের মেয়ে কাজ করতে এসে দুর্গন্ধ পয়ে দরজায় কড়া নাড়তে থাকে। কারও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের ফ্ল্যাটে বিষয়টি অবহিত করে। সেসব ফ্ল্যাটের লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে বিছানা থেকে সেলিমের পচাগলা লাশ উদ্ধার করে। লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানান, বনিবনা না হওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে সেলিমের স্ত্রী কনিকা মাহফুজ আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যায়। সর্বশেষ গত ১৩ মে সেলিমকে বাসায় ঢুকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেলিমের বড় ভাই শফিউল আজম জানান, সেলিমের স্ত্রী কনিকা তার দুই সন্তানকে নিয়ে নিকটাত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। প্রিন্টিং ব্যবসায়ী সেলিম ওই ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন। তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার কারপাশডাঙ্গা গ্রামে।

প্রথম পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X