Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রানা প্লাজা : সাক্ষাত্কারে জিওসি : আটকেপড়ারা বলেছেন এখান থেকে বের হব না : বেহেশতে আছি

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আবারও চমকপ্রদ তথ্য দিলেন রানা প্লাজার উদ্ধার কাজের সমন্বয়কারী এবং নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। তিনি বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকেপড়া জীবিত লোকজন বের হতে চাননি। উদ্ধারকারীদের তারা বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তারা ‘বেহেশতে’ আছেন।
বাংলাভিশনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি এসব উদ্ভট মন্তব্য করেন। গতকাল সাক্ষাত্কারটি প্রচারিত হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালে নানা মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। দুর্ঘটনাস্থলে যখন মাত্র কয়েকশ’ স্বেচ্ছাসেবী জীবন বাজি রেখে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছিলেন তখন সেখানে তিনি স্থানীয় এমপি মুরাদ জংয়ের ‘লাখ লাখ কর্মী’ দেখতে পেয়েছিলেন।
অথচ এই মুরাদ জং হলেন রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মুরাদ জংকে প্রধানমন্ত্রীও এড়িয়ে চলেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তা নিয়ে হাসান সারওয়ার্দী সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুধু সরকার সমর্থকদের নামই উল্লেখ করেছিলেন।
বাংলাভিশনকে হাসান সারওয়ার্দী বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকেপড়া লোকজন উদ্ধারকারীদের বলেছে, আমি যাব না। এ জগত ভালো। এখান থেকে বের হতে চাই না। এখানে গার্মেন্ট মালিকদের অত্যাচার নেই, স্বামী মারে না। এখানে হানাহানি নেই।’
তারা আরও বলেছেন, ‘এটা বেহেশত। তোমাদের জগত্ খারাপ। সেখানে অনেক কষ্ট।’
হাসান সারওয়ার্দীর এমন দাবির কথা জীবিত উদ্ধার হওয়া কোনো ভাগ্যবান নারী-পুরুষের মুখ থেকে শোনা যায়নি।
বরং তারা বলেছেন, তারা জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। নতুন জীবন পেয়েছেন মন্তব্য করে তারা আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেছেন ।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে অন্তত এক হাজার ১৩০ জন নিহত হন। এছাড়া বহু লোক পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে দু’ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ধসে পড়ার ২০ দিন পর গত ১৩ মে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়। উদ্ধার কাজের ধীরগতি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী, ভিকটিমদের স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট নানামহল ক্ষোভ প্রকাশ করে।