হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান উপেক্ষা : সুখরঞ্জন বালীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করছে ভারত

স্টাফ রিপোর্টার « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ১৭ মে ২০১৩, ২২:৫২ অপরাহ্ন

ভারতের কারাগারে সন্ধান মেলার পর গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত বাংলা-দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে পুশব্যাকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় আদালতের দণ্ডাদেশ অনুযায়ী ১১০ দিনের কারাদণ্ড শেষে তাকে বাংলা-দেশে পুশব্যাকের প্রস্তুতি চলছে।
যদিও তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে বাংলাদেশে না পাঠানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাউটস ওয়াচ। তাদের এ আহ্বান উপেক্ষা করেই বালীকে পুশব্যাকের প্রস্তুতি চলছে বলে পশ্চিমবঙ্গের কারা দফতর সূত্রে জানা গেছে এমনটি দাবি করা হয়েছে একটি জাতীয় দৈনিকে।
এরআগে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকের দীর্ঘদিন পর ভারতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় সুখরঞ্জন বালীর সন্ধান মিললে বাংলাদেশে এ নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে যায়।
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী নিখোঁজ সুখরঞ্জন বালী এবং দমদম কারাগারে বন্দি সুখরঞ্জন বালী একই ব্যক্তি। সুখরঞ্জন গত ৫ নভেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে নিখোঁজ হন। সাঈদীর আইনজীবীদের অভিযোগ, তাকে ট্রাব্যুনালের গেট থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। সুখরঞ্জন শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী থাকলেও পরে তিনি পক্ষ পরিবর্তন করে সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী হতে রাজি হন। তবে দমদম কারাগারে বন্দি সুখরঞ্জন এ ব্যাপারে কারা দফতরের কাছে কোনো কিছু বলতে রাজি হননি বলে কারা সূত্র জানিয়েছে। কারা দফতরের কর্মকর্তরা তার কাছ থেকে প্রকৃত সত্য জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তবে তাকে আইনি সহায়তা দেয়ার নাম করে এক মহিলা দমদম কারাগারে গিয়ে সুখরঞ্জনের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে। তিনিই আসলে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধি হিসেবেই সুখরঞ্জন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন নথি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগর এলাকা থেকে সুখরঞ্জনকে গ্রেফতার করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
অবশ্য ‘অপহরণের’ পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছিল বলে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজকে দেয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন সুখরঞ্জন বালী। পরে তাকে স্বরূপনগর থানা হেফাজতে পাঠানো হয়। তবে সেসময় নথিতে সুখরঞ্জন বালার নাম সুখরঞ্জন বালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বসিরহাট আদালতে তার যে নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তা হলো নাম সুখরঞ্জন বালা, বাবার নাম প্রয়াত ললিত রঞ্জন বালা, গ্রাম : পাড়ারহাটি, থানা গঙ্গারামপুর, জেলা পিরোজপুর, বাংলাদেশ। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় ২৫ ডিসেম্বর। পরদিন তাকে বসিরহাট আদালতে হাজির করে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়। বসিরহাটের আদালত সুখরঞ্জনকে ১১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়। সেই করাদণ্ডের মেয়াদ কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে। তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, বালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার বালীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করার আগ পর্যন্ত তাকে যেন বাংলাদেশে হন্তান্তর করা না হয়। এদেশে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওই আহ্বান উপেক্ষা করেই সুখরঞ্জন বালীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে।

প্রথম পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X