Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মহাসেনের প্রভাব : ফসলের ব্যাপক ক্ষতি : চট্টগ্রাম পটুয়াখালী পিরোজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ধকল কাটিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম। মহাসেন আতঙ্কে বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও ইপিজেড গতকাল থেকে ফের পুরোদমে চালু হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় দু’হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়া, পিরোজপুরের জিয়ানগর, জামালপুরের বকশীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তাদের বেশিরভাগই কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাননি। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :
চট্টগ্রামে ২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ধকল কাটিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম। মহাসেন আতঙ্কে বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও ইপিজেড গতকাল থেকে ফের পুরোদমে চালু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া লোকজনও ফিরে গেছেন নিজ নিজ বাসাবাড়িতে।
তবে দুর্বল হয়ে পড়ার পরও মহাসেনের আঘাতে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আংশিক কিংবা পুরোপুরিভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২ হাজার কাঁচা
ঘরবাড়ি। কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় হারিয়ে অবস্থান করছেন খোলা আকাশের নিচে। ফসল এবং লবণ মাঠেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আঘাত হানার আশঙ্কায় গত বুধবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব এলার্ট-৩ জারি করে কর্তৃপক্ষ। ওই সময় বন্দরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় বহির্নোঙরে। এতে বন্দর হয়ে পড়েছিল জাহাজশূন্য। বহির্নোঙর ও জেটিতে বন্ধ হয়ে যায় পণ্য লোডিং-আনলোডিং। একই দিন বিকাল ৪টা থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেড। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়টি সীতাকুণ্ড উপকূল অতিক্রমের সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ত্রিপুরার দিকে চলে গেলে স্বস্তি ফিরে আসে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে।
বৃহস্পতিবার বিকালেই এলার্ট-৩ প্রত্যাহার করে নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ জেটি ও বিভিন্ন শেডে থাকা পণ্য ডেলিভারি দেয়ার কাজ শুরু করে। কিন্তু জেটিতে কোনো জাহাজ না থাকায় আমদানি-রফতানি পণ্য ওঠানামার কাজ ওইদিন শুরু করা যায়নি। গতকাল দুপুরে জোয়ার আসার পর ফের জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়তে শুরু করে। দুর্যোগের আশঙ্কায় ২১টি জাহাজকে জেটি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। এই জাহাজগুলোকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গতকাল আবার জেটিতে প্রবেশ করানোর কাজ শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের কাজকর্ম প্রায় স্বাভাবিক দাবি করে সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, গতকাল দুপুরে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার আসার পর জেটিতে জাহাজ ভিড়তে শুরু করে। মহাসেনের কারণে যেসব জাহাজ জেটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল, সেগুলোকেই প্রথমে জেটিতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে প্রায় ৪২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গতকাল সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি চালু হয়েছে। এয়ারপোর্ট ম্যানেজার উইং কমান্ডার রবিউল হোসেন জানান, ঢাকা থেকে আসা রিজেন্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে বিমান ওঠানামা শুরু হয়। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেড বন্ধ থাকলেও গতকাল সকাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড বাতাসে চট্টগ্রামের তিনটি উপকূলীয় উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় অন্তত দু’হাজার কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক।
গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ধানের ক্ষেত লণ্ডভণ্ড : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে স্মরণকালের সবচেয়ে ভারি বর্ষণে বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার কৃষকের হাজার হাজার একর জমির কাঁচা-পাকা ইরি-বোরো ধানের ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ফলে কৃষকের মনে নতুন ধান ঘরে তোলার অনাবিল আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে বিষাদে।
মহাসেনের প্রভাবে বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় একটানা প্রবল বর্ষণের পর আবার গতকাল সকালে ভারি বর্ষণে কৃষকের কাঁচা-পাকা ধানের ক্ষেতগুলো এখন পানিতে টইটুম্বুর। কোনো কোনো স্থানে সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে কাঁচা-পাকা ধানের ক্ষেত।
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন একমাত্র ইরি-বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এ দুই উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মোট ১৪ হাজার ২২২ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরোসহ আউশ ধান, শাক-সবজি, পাট ইত্যাদি আবাদ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি প্রবল বর্ষণে ১২টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৬৫ হেক্টর জমির ইরি-বোরোসহ আউশ ধান, শাক-সবজি, পাটের ক্ষেত সব অথৈ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জিয়ানগরে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি : পিরোজপুরের জিয়ানগরে মহাসেনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অর্ধশত আহত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসেনের আঘাতে কাঁচা ঘরবাড়ি, রবিশস্য, গাছপালা, পানের বরজ, কলাবাগান, মাছের ঘেরসহ প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কলাপাড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি : ‘মহাসেন’-এর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা। বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে হাজার হাজার মানুষ। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার অভাবে অভুক্ত রয়েছেন লাখো মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট। তিন দিন ধরে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কুয়াকাটাসহ পুরো উপজেলা রয়েছে অন্ধকারে। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের এবং রাস্তাঘাট লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলেও গতকাল বিকাল পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন নির্ধারণ করতে পারেনি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান।
বকশীগঞ্জে ৫ শতাধিক পরিবার গৃহহারা : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। কালবৈশাখীর ছোবলে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার। ওই সময় ঘরচাপা পড়ে মারা গেছে বিনোদেরচর গ্রামের শাজাহান। বজ্রপাতে মারা গেছে শেখেরচর গ্রামের ছানোয়ার ও ঘাসিরপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামসহ ৩ জন। কালবৈশাখীর ছোবলে গৃহহারা এসব ক্ষতিগ্রস্ত লোক স্ত্রী ছেলে নিয়ে উন্মুক্ত আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করলেও সরকারিভাবে তাদের ভাগ্যে জোটেনি ১ কেজি চাল অথবা নগদ ১টি টাকাও।