শেরপুরে যৌতুকলোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার দুই সন্তানের জননী

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ১৭ মে ২০১৩, ২২:৩৮ অপরাহ্ন

বগুড়ার শেরপুরে যৌতুকলোভী স্বামীর নির্যাতনে দু’সন্তানের জননী খাদিজা আক্তার রেণু এখন হাসপাতালে। দাবি করা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় পাষণ্ড স্বামী এনামুল হক তাকে বেধড়ক পিটুনিতে শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে খাদিজা আক্তার রেণু হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ৩নং বেডে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আয়রা গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে তিনি। গত ১৩ মে রাতে জেলার গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়ায় নিজ বাড়িতে যৌতুকলোভী স্বামী এনামুল তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার রেণু গত ১৪ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে গাবতলী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
হাসপাতালে চিকিত্সাধীন খাদিজা আক্তার রেণু জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর আগে এনামুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এমনকি দীর্ঘ সংসার জীবনে তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু বিয়ের পরেই স্বামী এনামুল হক ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। একপর্যায়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এরপরও যৌতুকলোভী স্বামীর মন ভরেনি। তাই অবশিষ্ট টাকার জন্য খাদিজার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে গত ১৩ মে রাতে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত স্বামী এনামুল হকের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
গাবতলী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) লুত্ফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত এনামুল হককে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেষের পাতা এর আরও সংবাদ

সাপ্তাহিকী


উপরে

X