Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি করুণ : মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অপরাধের অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাক না কেন তাকে আইন-বহির্ভূত হত্যা করার অধিকার রাষ্ট্রের নেই। আজকের বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত এই ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একত্রিত হয়েছি।
গত শুক্রবার থেকে সিলেটের জাকারিয়া সিটি হলিডে রিসোর্টে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম এ কথা বলেন। সম্মেলনে ২২টি জেলার ৮৬ জন মানবাধিকার রক্ষাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানের সভাপতিত্বে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের এই সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান এবং পাক্ষিক চিন্তার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গৌতম দাস।
অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান বলেন, মানুষের পাশে থেকে অধিকার নাগরিকদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকার জন্মলগ্ন থেকেই নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে পতাকা ও মানচিত্র নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্র গঠনের কাজটা হয়নি।
গৌতম দাস বলেন, মানবাধিকার শব্দটির সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা জড়িয়ে আছে। রাষ্ট্র কনস্টিটিউট বা গঠন করতে হয়, এই লক্ষ্যে জনগণকে নাগরিকবোধে একত্রিত করতে পারলে সেই কনস্টিটিউটেড অবস্থাটি হবে একটি কনস্টিটিউশন লেখার ভিত্তি। মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য হতে হবে একটি দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার মূল কাজগুলো করা। মানবাধিকার কর্মীদের কাজ হলো নাগরিক ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিক বোধকে অর্থাত্ সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ইনসাফ বা ন্যায়বিচার—এই বোধ প্রত্যেক মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তোলা।
উদ্বোধনী বক্তব্যের পর সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম।
সম্মেলনের প্রথম কর্মাধিবেশনে মানবাধিকার রক্ষার্থে মানবাধিকার কর্মীদের চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন অধিকারের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম হাশমী, আদিলুর রহমান খান, গৌতম দাস, এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম।
আদিলুর রহমান খান বলেন, ’৭১-এর অসমাপ্ত মুক্তি সংগ্রাম শুধু একটি পতাকা ও একটি মানচিত্র পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর রাষ্ট্রকে যতটুকু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাও পরবর্তী সরকারগুলোর কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে নস্যাত্ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের সমাজে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
রেজাউল করিম হাশমী বলেন, অধিকারের কাজের মধ্যে ঝুঁকি রয়েছে। চারপাশে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো অধিকার তুলে ধরছে অথচ রাষ্ট্র এটাকে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বলে মনে করছে। ফলে মানবাধিকার কর্মীদের জন্য কাজটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।
এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর যে সব দেশের মানুষ স্বাধীন হয়েও মুক্তির স্বাদ পায়নি সে সব দেশের মানবাধিকার কর্মীদের আন্দোলন এক ও অভিন্ন। ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশ স্বাধীন করার জন্য। রাষ্ট্র গঠনের জন্য নয়। তাই ’৭২ সালের সংবিধানে বড় বড় কথা লেখা থাকলেও সেখানে শুভঙ্করের ফাঁকি থেকে গেছে। ৪২ বছর পরও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসানো নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। কিন্তু ’৭২-এর সংবিধান অনুযায়ী ১০ ভাগ অনির্বাচিত ব্যক্তিকে মন্ত্রীর ক্ষমতায় বসানোর নিয়ম ছিল যা এখনও বহাল আছে। তাই বর্তমান মন্ত্রিপরিষদেও অনির্বাচিত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
সম্মেলনের কর্ম অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা কর্মক্ষেত্রে তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সহায়ক কাজের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কথা বলেন।