Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বেলকুচি চৌদ্দগ্রাম ও নড়াইলসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে বহু আহত : চকরিয়ায় মার্কেট দখল নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে মহিলাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গতকাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। নড়াইলে ৩ সহোদরকে পিটিয়ে আহত করেছে মাদকসেবীরা। এছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়ায় মার্কেটের দখল নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মুলকান্দি গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে বেলকুচি হাসপাতাল এবং অন্যদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলকুচি সদর ইউনিয়নের
মুলকান্দি গ্রামের পরস্পর নিকটাত্মীয় নজরুল ইসলাম ও আলতাব হোসেনের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২৪ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘার মালিকানা নিয়ে প্রায় ২০ বছর যাবত বিরোধ চলে আসছিল।
গতকাল নজরুল বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ করার জন্য ট্রাক্টারসহ কয়েকজন ক্ষেতমজুর পাঠালে আলতাব হোসেন তার লোকজন নিয়ে তাদের মারপিট করে জমি থেকে বের করে দেয়। পরে আলতাব আরও বেশিসংখ্যক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নজরুলের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় নজরুলের বাড়ির লোকজন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের লাঠিসোটার আঘাতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে খাদিজা, আনিসা খাতুন, ইব্রাহিম, মোতালেব, জাহাঙ্গির, নুর আলম, আলাশি খাতুন, মনছুর আলীকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুল হক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। থানায় কেউ অভিযোগ না দেয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়নি।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় সাংবাদিক আবদুল জলিল রিপনের মা-বাবাসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষ তাদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে। পৌর এলাকার চান্দিশকরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
গতকাল থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক যুগান্তরের চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি রিপনের পরিবারের সঙ্গে পাশের বাড়ির সোহরাব উদ্দিন পাটোয়ারীর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার সোহরাব উদ্দিনের পরিবারের লোকজন দা ও লাঠিসোটা নিয়ে রিপনের মা রেহেনা আক্তারকে মারাত্মক জখম করে। তারা রেহেনার সঙ্গে থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রেহেনার স্বামী শফিকুর রহমান ও ছেলে ইকবাল হোসেন তাকে রক্ষা করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদেরও পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেহেনাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে সাংবাদিক রিপনের বাবা শফিকুর রহমান বাদী হয়ে সোহরাব উদ্দিন পাটোয়ারী, তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম, ছেলে সেলিম ও আবদুর রহিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এছাড়া প্রতিপক্ষের লোকজন সাংবাদিক পরিবারের লোকজনকে সুযোগমত প্রাণনাশ করার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
নড়াইল : মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় নড়াইলে ৩ সহোদরকে পিটিয়ে আহত করেছে মাদকসেবীরা। গতকাল শহরের মহিষখোলা আদিবাসীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন অরুণ মালী, তার ভাই মিলন ও খোকন। প্রতিপক্ষ লোহার রড, লাঠিসোঠা দিয়ে আঘাত করে। এতে খোকন গুরুতর আহত হয়। তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। আহত অরুণ জানান, দিপু ও বিসুর নেতৃত্বে একটি চক্র বেশ কিছুদিন যাবত এলাকায় মাদক সেবনসহ নানা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এর প্রতিবাদ করায় দিপু ও বিসুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর সদরের একটি মার্কেটের দখল নিয়ে বিবাদমান দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্েষর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পৌর শহরের চিরিঙ্গা-সোসাইটি এলাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে পৌর শহরের আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্স মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক মার্কেট মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের নামে গ্রেফতার করে রাতে ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পৌর শহরের বহুতল মার্কেট আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মালিকানা নিয়ে দু’ভাই আনোয়ার হোছাইন ও মোক্তার হোছাইন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষ থানা ও আদালতে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলাও দায়ের করে। সবর্েশষ গত বৃহস্পতিবার রাতে দু’ভাইয়ের পক্ষের লোকজন সশস্ত্রভাবে মার্কেট দখলে হামলা চালায়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মার্কেট মালিকের ভাই দেলোয়ার হোছাইনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে শহরজুড়ে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন মুহূর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় মার্কেটের সব দোকানপাট।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মার্কেট মালিকের ভাই দেলোয়ার হোছাইনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওসি আরও জানান, এখন পর্যন্ত বিবদমান কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।