Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সাভার ট্র্যাজেডি নিয়ে সেমিনারে বক্তারা : সুশাসনের অভাব ও লোভে গার্মেন্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
‘সাভার ট্র্যাজেডি, পোশাক শিল্প খাত ও ভবিষ্যত্ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে গতকাল বক্তারা বলেছেন, সুশাসনের অভাব, মালিকপক্ষের উদাসীনতা ও অতিমাত্রায় লোভের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে বারবার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
বক্তারা বলেন, পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকার যে বিলাসিতা করে অথচ লাখ লাখ শ্রমিকের জন্য তেমন কিছু্ই করা হয় না। সাভারের ভবনধসে গণহত্যার অভিযোগ এনে রানার বিরুদ্ধে হত্যামামলা না করে বরং তাকে বাঁচাতে কৌশল অবলম্বন করছে রাজনীতিকরা।
গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সাভার ট্র্যাজেডি, পোশাক শিল্প খাত ও ভবিষ্যত্ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন। পাক্ষিক শ্রমিক আওয়াজ নামে একটি সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে।
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তৃতা করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ ও শফিকুজ্জামান, সিডিপির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বিল্ডিং কোড প্রণনয়নকারী ড. ফিরোজ আহমেদ, পাক্ষিক শ্রমিক আওয়াজের সম্পাদক জাফর আহমেদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম প্রমুখ।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, সুশাসনের অভাব, মালিকপক্ষের উদাসীনতা ও অতিমাত্রায় লোভের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে বারবার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সাভারের রানা প্লাজা ভবনটি মালিকের লোভের কারণে বিল্ডিং কোড না মেনে ৯ তলা করা হয়েছিল। তৈরি করার সরঞ্জামাদি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ভবন নির্মাণের সময় পোশাক কারখানা করার পরিকল্পনা সেখানে ছিল না। ফাটল দেখা সত্ত্বেও মালিকরা শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করে। এসব ভবন নির্মাণ কৌশল ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের রয়েছে চরম উদাসীনতা। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ বিল্ডিং কোনো না কোনোভাবে বিল্ডিং কোড মানছে না।
তিনি আরও বলেন, ১২ হাজার ডলার বার্ষিক রফতানি দিয়ে যে পোশাক শিল্পের যাত্রা শুরু আজ তা বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই শিল্পে কাজ করছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। তার ৬০-৭০ শতাংশই নারী। মোট জিডিপিতে এই শিল্পের অবদান প্রায় পাঁচ শতাংশের সমান। সরকারের উচিত এই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। তা না হলে এই খাত অচিরেই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক শফিকুজ্জামান বলেন, ঘটনা ঘটলে আমরা এক্সাইটেড হয়ে পড়ি। কিন্তু আর একটা ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত আমরা নিশ্চুপ থাকি। পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকার যে বিলাসিতা করে অথচ লাখ লাখ শ্রমিকের জন্য তেমন কিছু্ই করা হয় না। সাভারের ভবনধসে গণহত্যার অভিযোগ এনে রানার বিরুদ্ধে হত্যামামলা না করে বরং তাকে বাঁচাতে কৌশল অবলম্বন করছে রাজনীতিকরা।
ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, আইন থাকলেও দেশে আইনের বাস্তবায়ন নেই। বিল্ডিং কোড থাকলেও তা মানছে না ভবন মালিকরা। তিনি বলেন, কমার্শিয়াল, ইন্ডাস্ট্রিজ সব বিল্ডিং আলাদা ডিজাইনে তৈরি করা উচিত। কিন্তু দেশে কোনো গার্মেন্টই সৃষ্টিশীল ডিজাইনে তৈরি করা হয় না। গার্মেন্টের নামে গুদামঘর তৈরি করা হয়।