Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

চড়া চালের বাজার : মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
ইরি জাতের নতুন ধানের চাল বাজারে ভরপুর। কিন্তু ভরা মৌসুমেও চাল আগের মতো চড়া দামেই বিক্রি হয়েছে। এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া দেশি পেয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবারহ কমতি নয় বরং মনিটরিংয়ের অভাবে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত দাম বৃদ্ধি করে বলেই পণ্যমূল্য যখন-তখন চড়াও হয়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও স্থানীয় দোকান ঘুরে দেখা যায়, চালের বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৪৮ টাকায় থেকে ৫০ টাকায়, নাজির শাইল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়, আটাশ ৩৮ টাকায়, পাইজাম ৩৪ থেকে ৪০ টাকায় ও মোটা জাতের স্বর্ণ চাল প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিসেম্বরের মৌসুম শেষ হওয়ার পর গত জানুয়ারি থেকে সরবরাহ ঘাটতির অভাবে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দু’মাসের আগের ৩৪ টাকার মিনিকেট চাল এখন বাজারে প্রতি কেজি ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চালের সবচেয়ে বড় মৌসুম শুরু হলেও এখনও চালের দাম কমেনি। তবে নতুন জাতের চালের দাম কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ানবাজারের এক বিক্রেতা বলেন, নতুন জাতের চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে। দু-এক সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি জানান। এদিকে ক্রেতা জানান, নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি করতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। তাই একেক সময় নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা চালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। রাজধানীর কমলাপুর, ফকিরাপুল, কারওয়ানবাজার ও মগবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে অধিকাংশ শাকসবজির দাম স্থিতিশীল ছিল। বাজারে প্রতিকেজি ঢেঁড়শ ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, করলা ২০ থেকে ২৫ টাকায়, পটোল ২২ থেকে ২৫, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ২৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, বরবটি ২০ টাকায়, শসা ২০ থেকে ৩০ টাকায় ও কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
দেশি পেয়াজের দাম গত সপ্তাহে আবার কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বাজারে পেয়াজ প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে দাম ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা। পেয়াজ বিক্রেতারা জানান, মৌসুম শেষ হওয়ায় দাম বাড়তির দিকে। পেয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে। এছাড়া বাজারে আদা ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, দেশি রসুন ৮০ টাকায় ও চায়না রসুন ৯০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ডিম ও মাংসের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও মাছের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বাজারে রুই, চিংড়ি, কাতলা ও বিভিন্ন দেশি জাতের মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে চিংড়ির দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ছোট চিংড়ি ৫০০ টাকায়, মাঝারি চিংড়ি ৭৫০ এবং বড় চিংড়ি ৯৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ছোট রুই ৩০০ টাকায়, বড় রুই ৪৫০ টাকায়, ছোট কাতলা ৩০০ টাকায়, বড় কাতলা ৪২৫ টাকায়, আইর ৬০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাগালের বাইরে থাকা ইলিশ মাছের দাম আরেক ধাপ বেড়েছে। বাজারে বড় জাতের ইলিশ প্রতি জোড়া ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে যার দাম ছিল ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মাছ বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীর বাজারে মাছ সরবরাহ হলেও এ সপ্তাহে অনেকটাই কম। মহাসেনের কারণে নদ-নদীগুলোতে জেলেরা মাছ ধরতে না পারায় সরবারহ কমে দাম বেড়েছে।
এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম হালি প্রতি ৩৪ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া গরুর মাংস ২৭০ থেকে ২৯০ টাকায় এবং খাসীর মাংস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।