Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খোলা আকাশের নিচে ক্লাস

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ও ফরিদপুরের মধুখালীতে স্কুল ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। বিস্তারিত খবর আমাদের প্রতিনিধিদের :
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ভাণ্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪০ বছরের পুরনো ভবনের ৩টি কক্ষ পরিত্যক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয় মাঠে খোলা আকাশের নিচে চলছে ক্লাস। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশেদ আলী জানান, ১৯৭৩ সালে ভাণ্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়ে ৬টি ভবনের ১০টি ক্লাসরুমে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৯৬২ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীই হচ্ছে পাত্রখোলা, দলই, শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের চা শ্রমিকের সন্তান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা মাত্র ৯ জন। এখানে প্রতি বছর পিএসসি ও জেএসসির পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা সমস্যা থাকার পরও বিগত জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
সম্প্রতি এই স্কুলের ৪০ বছরের পুরনো ভবনের ৩টি কক্ষের অসংখ্য স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। ওই ভবনের পাশের বিজ্ঞান কক্ষেও কয়েকটি ফাটল দেখা দিয়েছে। এই পুরনো ভবনে বিজ্ঞানাগার ও ধর্ম শিক্ষার ক্লাস চলতো। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বন্ধ করে রেখেছে। ফলে গত এক মাস ধরে বিদ্যালয় মাঠে খোলা আকাশের নিচে ধর্ম শিক্ষার ক্লাস পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ৭ মে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বশির জানান, শিক্ষা সম্প্রসারণে ভাণ্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় ধর্ম শিক্ষার ক্লাস খোলা আকাশের নিচে চলছে। বিদ্যালয় পিটিএ সভাপতি মো. সবুজুর রহমান মেম্বার বলেন, জরুরি ভিত্তিতে এ বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ জরুরি। এছাড়া বিদ্যালয়টি নিরাপত্তার জন্য পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।
সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি মো. সানোয়ার হোসেন বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আলাপকালে মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল মজিদ বলেন, এরই মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে অবহিত করার জন্য বলেছেন। এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ত্বরিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী জানান।
মধুখালী (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে অবস্থিত মধুখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই কক্ষ বিশিষ্ট দোতলা একটি বিল্ডিংয়ে ফাটল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সেটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম শফিক। এদিকে বিল্ডিংটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ নিতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। ১৯৩৫ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক হলেও কক্ষের সংকুলান না হওয়ায় সেটি ধরে রাখার বিষয়ে চিন্তিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী। এ স্কুল থেকে ২০১১ সালে জিপিএ-৫ পায় ১৫ জন এবং বৃত্তি লাভ করে ১৩ জন। ২০১২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন এবং বৃত্তি লাভ করে ১৭ জন।
আজ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময়ে কথা হয় প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ৫টি শ্রেণীতে মোট ১ হাজার ৩৭৩ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তাদের জন্য মোট ১২টি কক্ষ প্রয়োজন।
কিন্তু আছে মাত্র ৮টি কক্ষ। গত বছর ৬ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘর ঝঁকিপূর্ণ বিধায় ভেঙে ফেলা হয়। যে কারণে গত ১৯৯৩ সালে নির্মিত টিনশেড ঘরটির টিনের চাল ফেলে ২০১২ সালে ছাদ ঢালাই দেয়া হয় এবং চলতি বছর জানুয়ারিতে ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় সুধীজনের অর্থায়নে দোতলার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম শফিক জানান, ওই দোতলা ভবনের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর কে বা কারা আবেদন জানালে জেলা প্রশাসক আমাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক তিনি উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করান।
তিনি আরও জানান, ভবনের রডের সাইজ, পরিমাণ ও প্লান পাওয়া সম্ভব হয়নি। ভবনের নিচ তলায় বিভিন্ন অংশে ফাটল ও জরাজীর্ণ থাকায় ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে গত ১৯৯৪ সালে মডেল স্কুলে উন্নিত করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৭৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ভবনের সংকুলান না হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকমণ্ডলী বড় চিন্তিত ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত্ নিয়ে।