Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আন্দোলনের মুখে জর্ডান ছাড়তে বাধ্য হলেন ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত

রয়টার্স, এএফপি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
জর্ডানে অবস্থিত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত দানিয়েল নিউওয়া জর্ডান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জর্ডান সরকারের গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ মুমেনি বলেছেন, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত সে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ইসরাইলের সঙ্গে সিরিয়া, লেবানন, মিসর ও জর্ডানের সীমান্ত রয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক না থাকলেও মিসর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া, ইসরাইলের সঙ্গে মিসর ও জর্দানের শান্তিচুক্তি রয়েছে। ১৯৯৪ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগে তাদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক বজায় ছিল। ইসরাইল ও জর্ডান ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গড়ে তোলে। উত্তর আফ্রিকাসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে স্বৈর সরকারবিরোধী গণআন্দোলন শুরু হওয়ার পর খুব দ্রুত তিউনিশিয়ার বিন আলি এবং মিসরের হোসনি মোবারক সরকারের পতন ঘটে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও স্বৈরসরকার বিরোধী গণআন্দোলন চলছে। চলমান এসব ঘটনা ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চলমান গণজাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জনগণের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী চেতনা। স্বৈরসরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার সময় প্রতিবাদী জনতা ইসরাইলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে তাদের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেছে। এসব দেশের জনগণ ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যও সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে। ইসরাইলের বিরোধিতার ক্ষেত্রে জর্ডানের জনগণও পিছিয়ে নেই। জর্ডানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা গত দুই বছর ধরে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে এবং অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইসরাইল এর আগেও জর্ডানে তাদের দূতাবাস পুরোপুরি খালি করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের অযাচিত মন্তব্য ও আচরণের কারণে জর্ডানের জনগণ ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। বিশেষ করে ইসরাইল সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের জন্য বিকল্প আবাসনের প্রস্তাব দেয়ায় জর্ডানের জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ইসরাইল জর্ডানকে ফিলিস্তিনিদের জন্য বিকল্প ভূমির প্রস্তাব দিলে এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও জর্ডানের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটেছে। গত কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত জর্ডান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি ইহুদি অভিবাসীরা আল-আকসা মসজিদ অবমাননা করায় এবং ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা চালানোর কারণেও জর্ডানের জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
জর্ডানের সংসদ সদস্যরাও ইসরাইলি এসব আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জনগণ ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলায় গত সপ্তায় সংসদ সদস্যরা আম্মান থেকে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তাকে জর্ডান ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে গণজাগরণ দেখা দেয়ায় ইহুদিবাদী ইসরাইল ক্রমেই এ অঞ্চলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ইসরাইলের সঙ্গে জর্ডানের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ইসরাইল জর্ডানকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি স্থাপনের প্রধান মাধ্যম বলে মনে করে। এ অবস্থায় জর্ডানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেলে এ অঞ্চলে ইসরাইল আরও বেশি দুর্বল ও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে বলে তেলআবিবের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।