Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ১৮ মে ২০১৩, ২০১৩, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সিরিয়াকে এম-৩০০ দোয়ার লক্ষ্য ইসরাইল নয় : ল্যাভরভ, আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একমত যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক

রয়টার্স, প্রেস টিভি, বিবিসি
পরের সংবাদ»
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ জন্য দু’দেশ সিরিয়ায় সাহায্য-সমর্থন দিয়ে যাবে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসব কথা বলেছেন।
ওবামা বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে যাবেন। এ সময় তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এরদোগান বলেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং আমি বৈঠকে একমত হয়েছি যে, আসাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এটাই হবে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ এবং আমরা সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। এর আগে, গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিরিয়ার চলমান সমস্যার সমাধান করবেন বলে একমত হন। ওবামা বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ওবামা বলেন, ‘বিদ্রোহীদের সমর্থন দিতে আমরা আসাদ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা দু’পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আসাদের ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’ সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার বিষয়ে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, ‘আমাদের কাছে রাসায়নিক হামলার প্রমাণ আছে কিন্তু এ বিষয়ে আমরা আরও নিশ্চিত হতে চাই।’ সমস্য সমাধানে কূটনৈতিক এবং সামরিক দু’ধরনের সমাধানই রয়েছে বলে জানান ওবামা। এরদোগান জানান, বর্তমানে তুরস্কে চার লাখেরও বেশি সিরিয়ান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান তিনি।
সিরিয়া বিষয়ে ওবামা অত্যন্ত সতর্কভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, সিরিয়ার সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উদ্যোগে একটি শান্তি সম্মেলন করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার সমস্যায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি ওবামা। প্রথম থেকেই বিভিন্ন যুক্তিতে সিরিয়ার সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে সিরিয়ার সঙ্কট সমাধানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন দুই নেতা। সম্মেলনে ওবামা বলেন, আমাদের যা করতে হবে তা হলো ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। সমস্যা সমাধানে সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীদের আলোচনার টেবিলে আনতে হবে—এ বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার ওপর দুই নেতাই জোর দেন। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইসরাইলি বিমান হামলার সঙ্গে সিরিয়াকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেছেন, সিরিয়ার সামরিক গবেষণা কেন্দ্রে ইসরাইলি বিমান হামলার অনেক আগেই দামেস্ককে এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
লেবাননের আল-মায়েদিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ল্যাভরভ এসব কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিরিয়াকে বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মস্কো শুধু আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে; নতুন করে কোনো চুক্তি করেনি। যেসব দেশের আগ্রাসনের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে বিমান হামলা প্রতিরোধ করার জন্য।’
ল্যাভরভ বলেন, এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির চুক্তি করে মস্কো কোনো আইন লঙ্ঘন করেনি এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে নিজের ভাব-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চায় না।
বিবিসির কাছে সিরিয়ায় গ্যাস হামলার প্রমাণ : এদিকে সিরিয়ায় গত মাসে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার প্রমাণ বিবিসিকে দেখিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলার বর্ণনা দেয়ার পাশাপাশি ভিডিও দেয়া হয়েছে বিবিসিকে। যেগুলো দৃশ্যত সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার নিশ্চিত খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিবিসির এক সংবাদদাতা উত্তরাঞ্চলীয় সারাকেব শহর পরিদর্শনকালে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরকারি হেলিকপ্টার থেকে বিষাক্ত গ্যাসভর্তি অন্তত দুটি রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
২৯ এপ্রিল আলেপ্পোর দক্ষিণ-পশ্চিমের এ শহরটি সরকারি বাহিনীর গোলা ও বোমা হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তাররা বিবিসির সংবাদদাতা আয়ান পনেলকে বলেন, তারা শ্বাসকষ্টে ভোগা ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তাদের কেউ কেউ বমি করছিল। এক নারী পরে মারা যান।
বিষাক্ত গ্যাস হামলার এ সব লক্ষণের বর্ণনা আরও পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়েছে বিবিসির কাছে দেয়া বেশ কিছু ভিডিওতে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যাসত্য নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি। হামলাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা নিয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও তুরস্কে পরীক্ষা চলছে।
রাসায়নিক হামলার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় খতিব নামের এক সিরীয় বিবিসিকে বলেন, ‘অবস্থাটা ভয়াবহ ছিল। শ্বাসরুদ্ধকর একটা গন্ধ ছিল। যা শোকা যায় না। আমি দেখতেও পাচ্ছিলাম না। তিন/চার দিন ধরে আমি কিছু দেখতে পাইনি।’ হামলার শিকার হন খতিবের স্ত্রীও।
ওই নারীর চিকিত্সক জানান, তার যে লক্ষণ দেখা গেছে তাতে এটি অরগ্যানোফসফেটের বিষক্রিয়া বলেই মনে করছেন তিনি। এর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সিরিয়া সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত জোরালোভাবেই নাকচ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, সিরিয়ায় সত্যিই রাসায়নিক অস্ত্র হামলা হয়ে থাকলে দেশটিতে বিদেশি আগ্রসন চালানোর পট প্রস্তুত হবে।