Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১১ ফাল্গুন ১৪১৯, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিবিসি সংলাপে শাহরিয়ার কবির : জামায়াতের বিচারের জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষে রিট করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আগামীতে নির্বাচনে নিজেদের পক্ষে আনতে জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলা চলছে। জামায়াত নিষিদ্ধ করার অনেক আগেই সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। সরকার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে এখন রাজনীতি করছে। গত সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলা সংলাপে প্যানেল আলোচনায় এরকম মতামতও প্রকাশ করা হয়েছে। সংলাপে প্যানেল বক্তা ছিলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান।
মৌসুমি রূপা নামের এক দর্শক প্রশ্ন করেন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে যে ছয়দফা দাবি দেয়া হয়েছে তা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কী না? এর উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন, বাস্তবায়ন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। যে কোনো সময় জামায়াত নিষিদ্ধ হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল যে কোনো সময় চাইলেই জামায়াতের বিচার করতে পারবে। এজন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি রিট করা হবে। জামায়াত সাংবিধানিক দল তবে সংবিধানবিরোধী কাজ করলে আদালত তাদের নিষিদ্ধ করতে পারবে।
এলিনা খান বলেন, শাহবাগ সত্যিকার অর্থে জনজাগরণ। যত দ্রুত সম্ভব সংসদে উথাপন করলে বাস্তবায়ন সম্ভব। শাহবাগের দাবিগুলো যদি আইন সম্মত হয় তবে আমার ব্যক্তিগত সমর্থন আছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন জামায়াত নিষিদ্ধ হলে রাজনীতিক ঝুঁকি হবে কী না জানতে চাইলে এলিনা খান বলেন, নিষিদ্ধ হলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হবে। এ বিষয়টি বিবেচনা আনতে হবে। দর্শকের মধ্যে অনেকেই মত দেন জামায়াত নিষিদ্ধ বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা নেয়ার।
দশর্কদের কয়েকজন প্রশ্ন করেন জামায়াত নিষিদ্ধ হলে তাদের জনশক্তি বিএনপিতে যোগ দিতে চাইলে বিএনপি কী করবে? জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি সরকারের কাজ। তারা নিষিদ্ধ হলে আওয়ামী লীগেও যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, সরকার জামায়াত নিষিদ্ধ ব্যাপারে এরই মধ্যে আইনে পাস করেছে। কিন্তু আইনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। এই আইনটি সরকারই স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে আমরা বিবেচনা করব। আইনটি নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সরকার জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলছে। কারণ এ খেলা ’৯৬-এ হয়েছে এখনও চলছে। কাজেই সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এই প্রশ্নের জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, প্রজন্ম চত্বর থেকে যে ছয়দফা দাবি, তা মানা সম্ভব। অচিরেই সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে রাজীব হত্যার বিচারে সরকার চেষ্টা করছে। জামায়াত নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গ মন্ত্রী বলেন, একটা রিট পেন্ডিং আছে। আরেকটা রিট দায়ের হলে একত্রে শুনানি হবে। এছাড়া সংশোধিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনেও জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যাবে। গোলাম আযম বা কামারুজ্জামানের রায়ে ফাইন্ডিংস হয়, তবে ট্রাইব্যুনাল ২০(২) ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড ও নিষিদ্ধ করতে পারবে। সংসদে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে তাই যে কোনো অপশনে জামায়াত নিষিদ্ধ করা যাবে। ছয়দফা দাবি বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উত্তরে জয়নুল আবেদীন বলেন, সংশোধনী আইনে ট্রাইব্যুনাল জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দিতে পারে না। তবে সরকার যদি আবেদন করে তবেই নির্দেশ দিতে পারে।
আমিরুল ইসলাম নামে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করলে তাদের জনবলকে কীভাবে দমন করবেন?
এর উত্তরে কামরুল ইসলাম বলেন, সংসদের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে জামায়াতের জনসমর্থন আছে কি-না। মাত্র দু’টি আসন পেয়েছে। তাদের আচরণ খুবই খারাপ। তাদের নিষিদ্ধ করতে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণ নেই। তাদের কারণে আমরা রাজনৈতিক ঝুঁকিতে আছি। জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে জনমত তৈরি করতেই এতদিন আমরা সময় নিয়েছি।
মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে জয়নুল আবেদীন প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি কী আইনমন্ত্রী নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে জামায়াত মতিঝিলে সমাবেশ করছে। আর আপনি বলছেন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনি আইনের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন।
একজন দর্শক প্রশ্ন করেন জামায়াত নিষিদ্ধের আগে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করা ঠিক কি না?
এর উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন, এটি আইনি বিষয়। যদি ইসলামী ব্যাংক জঙ্গি কাজে অর্থায়ন করে তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। তবে মনে রাখতে হবে জামায়াত আইনি সংগঠন। সভা সমাবেশ করার অধিকার তাদের আছে। তারা যদি সভা সমাবশে করতে চায় তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। তবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এমন সময় এক দর্শক মন্তব্য করেন, শাহরিরার কবির বলেছিলেন, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে। দর্শক প্রশ্ন রাখেন তাহলে মানবতাবিরোধী অপরাধে সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে কেন? সরকারের মধ্যে অনেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তাদের কেন বিচার হচ্ছে না?
শাহবাগের আন্দোলনে বিএনপি কেন সমর্থন দিল না, একজন দর্শকের প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, এটি বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু শাহবাগের আন্দোলনের নেতৃত্বের বিষয়টি বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে।
এলিনা খান বলেন, শুধু জামায়াত নয়, সরকার ও বিরোধী দলে অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে। তাদের বিচার করতে হবে। জামায়াত এমন একটি দল যাদের দুই দলই কাজে লাগায়। তারা সরে গেলেই তাদের জনসমর্থন থাকবে না।
কামরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী জামায়াত কোনো সখ্য নেই। সত্য কথা হলো ’৯৬-এ জামায়াত আওয়ামী লীগ এক দাবিতে আন্দোলন করেছে কিন্তু একত্রে নয়। তিনি বলেন, আজকে যাদের বিচার হচ্ছে সরকারের মধ্যে যদি কোনো যুদ্ধাপরাধী থাকে আমাকে প্রমাণ দেন কালকের মধ্যে বিচার শুরু করব।
সঞ্চালক আকবর হোসেন শেখ হাসিনা ও গোলাম আযমের একত্রে ছবির বিষয়টি তুললে আইন প্রতিমন্ত্রী এর প্রমাণ চান। রাজীবের ব্লগে যে লেখা তা তার কিনা তা অনুসন্ধানে দুই একদিনের মধ্যে তথ্যানুন্ধান কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান কামরুল ইসলাম।