Amardesh
আজঃঢাকা, শুক্রবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৯ মাঘ ১৪১৯, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত্ আসছে না ; ‘তবু প্রেম কিছুতে না মানে পরাভব’

পরের সংবাদ»
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘বিজলি শুধু চমক আভা হানে, নিবিড়তর আঁধার টেনে আনে।’ কিন্তু ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিদ্যুত্ বাংলাদেশে ক্ষণিক চমক আভা হানার জন্যও আসছে না। ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং ভারতের কয়েকটি মিডিয়ায় দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সাড়া না দেয়ায় ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুত্ সরবরাহের পরিকল্পনা আটকে গেছে। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার এটা কেন করছে তা আমাদের জানা নেই। আমি বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি।’ অথচ ত্রিপুরার পালাটানায় ভারতের পক্ষে বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন সম্ভবই হতো না, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সেখানে অতি ভারি যন্ত্রপাতি নেয়া না গেলে। ভারতপ্রেমে বিভোর বাংলাদেশ সরকার কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ভারতকে আশুগঞ্জে একতরফা ট্রান্সশিপমেন্ট চালু করতে দিয়েছে। আশুগঞ্জ থেকে অতি ভারি যন্ত্রপাতি স্থলপথে ত্রিপুরায় নেয়ার জন্য তিতাস নদীর মাঝে বাঁধ নির্মাণ করতে দিয়েছে। তখন বলা হয়েছিল ত্রিপুরায় উত্পাদিত বিদ্যুত্ থেকে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশ সরকার এটাকে তাদের বিরাট সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছিল। তখন ভারতের পক্ষ থেকেও মিঠা কথা একেবারে কম বলা হয়নি। তবে কার্যোদ্ধার হয়ে যাওয়ার পর দিল্লি যে চোখ পল্টি দিয়েছে তা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় পরিষ্কার হয়ে গেছে।
ত্রিপুরার পালাটানায় যে বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে তার উত্পাদন ক্ষমতা ৭০০ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুত্ কীভাবে বণ্টন করা হবে তা ঠিক করে দিয়েছে দিল্লি। এর মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের ভাগে যা পড়েছে রাজ্য সরকার তার থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বাংলাদেশকে দিতে চায়। কিন্তু দিল্লির অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে, ভারত বিদ্যুত্ দেবে অথবা বিদ্যুত্ সরবরাহ করবে বলে যা বোঝানো হয় তার অর্থ হচ্ছে ভারত ডলারের বিনিময়ে বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুত্ বিক্রি করবে; এক্ষেত্রে দান-অনুদানের কোনো প্রশ্ন নেই। অথচ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক বাবু বছরখানেক হদ্দমদ্দ চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে দিল্লির অনুমতি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এখন ক্ষান্ত দিয়েছেন। অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কথা না রাখার খেলা নতুন নয়। তাই দিল্লির কর্তা ব্যক্তিদের চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে—সে কথা বলা যাবে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘যেতে নাহি দেব’ কবিতায় লিখেছেন, ‘দণ্ডে দণ্ডে পলে পলে টুটিছে গরব, তবু প্রেম কিছুতে না মানে পরাভব।’ এই কবিতার আলোকে আমরা শুধু প্রশ্ন তুলতে পারি—কবিগুরু কি তার কল্পনায় টের পেয়েছিলেন যে, একদিন বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নেবে, সেই রাষ্ট্রে মহাজোট সরকার গঠিত হবে এবং দণ্ডে দণ্ডে পলে পলে প্রতারণার শিকার হয়েও সেই সরকারের ‘ভারত প্রেম’ কিছুতেই পরাভব মানবে না?