Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দোষ স্বীকার করলেন ল্যান্স আর্মস্ট্রং

রয়টার্স, বিবিসি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
১৯৯০ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি শক্তিবর্ধক ওষুধ নেয়া শুরু করেন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত তা গ্রহণ করতেন। শক্তিবর্ধক ওষুধ নেয়ার কথা এবার নিজের মুখেই স্বীকার করলেন ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’ জেতা সাবেক সাইক্লিস্ট ল্যান্স আর্মস্ট্রং। বিশ্বখ্যাত উপস্থাপক অপেরাহ উনফ্রের অনুষ্ঠান ‘উইথ উনফ্রে’তে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি সরাসরি দোষ স্বীকার করে নেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘ভীত’ এবং ‘গভীরভাবে দ্বিধান্বিত চরিত্র’ বলে বর্ণনা করেন। এই আমেরিকান জানান, ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি শক্তিবর্ধক ওষুধ নেয়া শুরু করেন এবং ২০০৫ সাল (এবছরই তিনি তার শেষ ট্যুর ডি ফ্রান্স শিরোপা জেতেন) পর্যন্ত তিনি নিয়মিত তা গ্রহণ করতেন। মাদক নেয়ার ব্যাপারে এতদিন পর্যন্ত তিনি কেন ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলে গেছেন, উইনফ্রের এমন প্রশ্নের জাবাবে আর্মস্ট্রং বলেন, ‘আমি জানি না। বেশিরভাগ মানুষের জন্য হয়তো এটা অনেক দেরি হয়ে গেছে এবং এটা আমারই ভুল ছিল। আমি পরিস্থিতিটাকে এমনভাবে দেখছি যে, এটা অনেক বড় মিথ্যা যেটা আমি অনেক বার বলেছি। এটা এমন নয় যে, আমি না বলেছি এবং এটা থেকে মুক্তি পেয়ে গেছি। যখন আমি এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি সত্যিটা জানতাম। আমি যা বলেছি সেটা সত্য নয় এবং এখন এটা চলে গেছে।’ বৃহস্পতিবার আর্মস্ট্রংকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং তার সব অর্জনও কেড়ে নেয়া হয়। তিন দিন আগে আর্মস্ট্রংয়ের শহর টেক্সাসের আস্টিনে সাক্ষাত্কারটির প্রথম পর্ব ধারণ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর এটা প্রচার করা হয়। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আবারও খেলায় ফিরে আসা আর্মস্ট্রং অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার আরেক নাম ছিলেন। সম্পতি ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ফেরা ভারতের তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিংও চিকিত্সা চলাকালে বার বার বলেছিলেন, আর্মস্ট্রংয়ের কাছ থেকেই তিনি লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। দোষ স্বীকার করলেও এই সাইক্লিস্ট মনে করেন, সাইকেলিংয়ের সঙ্গে মাদক এতটাই জড়িত যে, নিয়ম ভঙ্গ না করলে তিনি যা অর্জন করেছেন সেটা করা তার পক্ষে সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, ‘আমি মাদক নেয়ার প্রথা চালু করিনি। কিন্তু আমি ওই প্রথা বন্ধ করারও চেষ্টা করিনি। মাদক প্রথা নিয়ে কথা বলা কঠিন। আমি আর কাউকে দোষারোপ করতে চাই না।
কারণ আমি এখানে এসেছি নিজের ভুল স্বীকার করতে।’ মাসখানেক আগে যুক্তরাজ্যের ডোপিংবিরোধী প্রতিষ্ঠান আর্মস্ট্রংয়ের মাদক গ্রহণের ব্যাপারে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে তাকে সবচেয়ে বেশি পরিশীলিত, পেশাদার ও সফলভাবে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে বলা হয়, খেলাধুলায় এমনটা আগে কখনও হয়নি।
নিজের মুখে দোষ স্বীকার করার কারণে আর্মস্ট্রংকে বেশ কিছু আইনি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি যে অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন সেগুলো ফেরতও দিতে হতে পারে।