Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এশিয়া সফর সংক্ষিপ্ত করলেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী আবে : আলজেরিয়ায় জিম্মি নাটকের অবসান : নিহত ৩০

রয়টার্স, বিবিসি
পরের সংবাদ»
ব্যাপক রক্তপাত আর জীবনহানির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আলজেরিয়ার আমেনা গ্যাস কমপ্লেক্সের শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি নাটক। ৩৬ ঘণ্টা ধরে চলা এ অপহরণের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সেনা অভিযানে মারা গেছে ৩০ জন জিম্মি এবং ১১ জন জঙ্গি। অবশ্য, এর আগে নানা সূত্র থেকে নিহতের সংখ্যা ৫০ বলে জানানো হয়েছিল।
নিহত পণবন্দিদের মধ্যে ১৫ জনের নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানা গেছে। এর মধ্যে আটজন আলজেরিয়ার নাগরিক, বাকিরা বিদেশি। বিদেশিদের দু’জন ব্রিটিশ, দু’জন জাপানি এবং একজন ফ্রান্সের নাগরিক। এছাড়া, পণবন্দিদের মধ্যে আমেরিকা, নরওয়ে, স্কটল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও রোমানিয়ার নাগরিক ছিল। সেনা অভিযানে স্কটল্যান্ডের দু’জন মুক্ত হয়েছে। এর আগে, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বলেছিল, পণবন্দির ঘটনায় চার বিদেশি নাগরিক মারা গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গ্যাস ক্ষেত্রের যেখানে সেখানে লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আলজেরিয়ার তথ্যমন্ত্রী মুহাম্মাদ সাঈদ দাবি করেছেন, অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর জিম্মিদের উদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরু হয়। আর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাহু ওলদ কাবিলা জানিয়েছেন, লিবিয়া থেকে গেরিলা গিয়ে গ্যাসক্ষেত্রে এ অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহত গেরিলাদের মধ্যে দু’জন লিবিয়ার নাগরিক। বাকিরা মিসর, ফ্রান্স, মালি ও তিউনিশিয়ার নাগরিক। অপহরণকারীদের আল কায়দা সদস্য বলে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মোখতার বেলমোখতার নামে এক ব্যক্তি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি আফগানিস্তানে রুশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন বলে জানা যায়। সেনা অভিযানে ওই এলাকার প্রখ্যাত গেরিলা কমান্ডার তাহার বেন চেনেবও মারা গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে বুধবার গেরিলারা হঠাত্ করেই গ্যাস ক্ষেত্রটিতে ঢুকে পড়ে এবং বহু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পণবন্দি হিসেবে আটক করে। এর মধ্যে অন্তত সাতজন মার্কিন নাগরিকসহ ৪১ জন বিদেশি নাগরিক ছিল। অপহরণ ঘটনার কারণ হিসেবে মালিতে ফ্রান্সের সামরিক অভিযানকে দায়ী করা হচ্ছে। গেরিলারাও বলেছে, মালিতে বিমান হামলা চালানোর জন্য আলজেরিয়া সরকার ফরাসি বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।
এদিকে, গ্যাস কমপ্লেক্স থেকে পণবন্দি উদ্ধারে আলজেরিয়া যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে সে সম্পর্কে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর যে বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল ঘটনার ব্যাপকতায় তিনি তা বাতিল করেন। গতকাল তার এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বক্তৃতা করার কথা ছিল। অন্যদিকে, জিম্মিদের উদ্ধারে মার্কিন সরকার আলজেরিয়াকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেও আলজিয়ার্স তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত ১১ জানুয়ারি আফ্রিকার দেশ মালিতে ফ্রান্স সরকার সামরিক অভিযান শুুরু করে। বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এ অভিযান শুরু হলেও চারদিন পর ফ্রান্স ঘোষণা করে মালিতে সেনা সংখ্যা আটশ’ থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার করবে। গতকাল থেকে ফরাসি সেনারা মালিতে স্থল অভিযান শুরু করেছে।
আলজেরিয়ার এ ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, মালিতে সেনা অভিযানের যৌক্তিকতা প্রমাণ হয়েছে আলজেরিয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। এদিকে ব্রিটেন বলেছে জিম্মি নাটকের নিরসন এখনও হয়নি। পররাষ্ট্র দফতর থেকে বলা হয়েছে, আকেনা গ্যাস ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী ঘটনার অবসান এখনও হয়নি। আলজেরিয়া সরকার কতজন হতাহত হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানায়নি। অপরদিকে জিম্মি সঙ্কটের কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তার এশিয়া সফর সংক্ষেপ করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। জাপানের মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব ইয়োশিদি সুগা আলজেরীয় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।