Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কলাপাড়ায় বন উজাড়, চলছে পুকুর খনন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পরের সংবাদ»
কলাপাড়ায় বিশাল বন উজাড় করে চলছে পুকুর খনন কাজ। অর্থের জোগান দেয়া হচ্ছে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প থেকে। পরিবেশের ক্ষতি করে প্রভাবশালীরা কাজ করায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। প্রশাসন নীরব থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ।
জানা গেছে, উপজেলার বাবলাতলায় পুকুর খননের লক্ষ্যে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অধীনে মাটি ভরাটের প্রকল্প গ্রহণ করে উপজেলা পরিষদ। প্রকল্পে ২১৫ জন শ্রমিক দৈনিক ১৭৫ টাকা মজুরিতে ৪০ দিন কাজ করার কথা রয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। প্রকল্পের সিপিসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নবগঠিত বালিয়াতলী ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার মর্জিনা বেগমকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পূর্ব পাশে বেড়িবাঁধের বাইরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের ভেতর চতুর্ভুজের মতো করে সীমানা দেয়া হয়েছে। তার মধ্যের মাটি কেটে চার থেকে পাঁচ ফুট নিচু করা হয়েছে। ওই মাটি সীমানার চার পাশে ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। আর বনের ভেতর বিশাল ছৈলা, কেওড়া গাছ দাঁড়িয়ে আছে। ওইসব গাছের মূলের চতুর্দিক থেকেও মাটি কাটা হয়েছে। গাছগুলো উপচে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় বহু মানুষ অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের লোকজন পুকুর খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণ করা অন্তত দেড় একর বনের শত শত মাঝারি ও ছোট আকারের ছৈলা, কেওড়া এবং বিলুপ্তপ্রায় কেওড়া গাছ কেটে ফেলে। এরপর শুরু করে মাটি কাটার কাজ। বর্তমানে বড় বড় যেসব গাছ দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোও কেটে ফেলা হবে। নেতারা বলছেন, পুকুরের উত্তর পাশে ভিটা উঁচু করে সেখানে গরুর হাট বসানো হবে। আর তিনদিকে দোকানের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে। জায়গা বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন শুরু করে দিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা আরও বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ শ্রমিকের কাজ করার কথা রয়েছে তা করানো হচ্ছে না। এতে হতদরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মোসা. মর্জিনা বেগম বলেন, ‘শ্রমিকের সঙ্কটের কারণে হাজার হিসাবে মাটি কাটানো হচ্ছে। গাছ কাটা হচ্ছে কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সিপিসি আমি হলেও কি করা হচ্ছে তা আমি কিছুই জানি না। সত্যি কথা বলতে কি, মূলত কাজ করছে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভগ্নিপতি মজিবর তালুকদার, সালাউদ্দিন মাস্টারসহ আওয়ামী লীগের নেতারা।’কলাপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা খোন্দকার ইয়াকুব আলী বলেন, ‘পানি উন্নায়ন বোর্ডের অধিগ্রহণ করা জমিতে প্রাকৃতিকভাবে বন সৃষ্টি হয়েছে। সেকারণে গাছ কাটা বাঁধা দেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।’
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের সুবিধার জন্য গরুর হাটের কাজ করা হচ্ছে। যদি বনের গাছ কাটা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউদ্দিন জানান, ‘আমাদের অধিগ্রহণ করা জমিতে পুকুর খনন এবং বন উজাড় করার ঘটনা আমার জানা নেই। সে কারণে না জেনে এখন কিছুই বলতে পারব না।’