Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বড় জয়ে শুরু ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের

দেলোয়ার মাসুম
পরের সংবাদ»
যেমন ধারণা করা হচ্ছিল, তেমনই হলো। বিপিএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরের গতকাল উদ্বোধনী ম্যাচে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সামনে পাত্তাই পেল না খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। খুলনার বিপক্ষে ৬২ রানের বিশাল জয় নিয়ে এবারের বিপিএলেও শুভসূচনা করেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন গ্ল্যাডিয়েটর্স।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় তার দল। বিপিএল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। দলীয় ১৭ রানেই গ্ল্যাডিয়েটর্সের ইংলিশ ওপেনার যশোয়া কোব পেসার ডলার মাহমুদের বলে বোল্ড হলেও উইকেটের অপর প্রান্ত ধরে রাখেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দ্বিতীয় উইকেটে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে ৩৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি।
দলীয় অর্ধশতকের সময় ডলার মাহমুদের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন আশরাফুল। এর আগে ১১ বলে চারটি চার ও এক ছক্কার সাহায্যে ২২ করেন তিনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে গ্ল্যাডিয়েটর্সের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে তোলেন এনামুল হক ও ওয়াইস শাহ। অল্প সময় ব্যাট করে ৯০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলে এ জুটি। দলীয় ১৪০ রানে এই জুটির দাড়ি টানেন ডলার মাহমুদ। তার বল খেলতে গিয়ে নাবিল সামাদের তালুবন্দি হন এনামুল হক বিজয়। উইকেট ছাড়ার আগে অবশ্য কাজের কাজটি করে যান দেশের তরুণ এ ক্রিকেটার। ৩৯ বলে ৫০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন এনামুল। এবারের বিপিএলে এটা প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। এ ইনিংস খেলতে গিয়ে চারটি চার ও তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান এনামুল। উইকেটের এক প্রান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আগলে রাখেন গ্ল্যাডিয়েটর্সের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার ওয়াইজ শাহ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৬৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন তিনি। এ জুটি গড়ার পথে মারমুখী ভঙ্গিতে ব্যাট চালিয়েছেন ওয়াইজ ও সাকিব। দ্রুতগতিতে দলীয় স্কোরকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যান তারা। ইনিংসের শেষ বলে ফরহাদ রেজার বলে শাহরিয়ার নাফিসের তালুবন্দি হন ওয়াইজ। এর আগে ৪৮ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। তার এ ইনিংসটি চারটি চার ও ছয়টি বিশাল ছক্কা দিয়ে সাজানো। ১৪ বলে দুই চার ও এক ছক্কাসহ ২৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন সাকিব আল হাসান। খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের সবচেয়ে সফল বোলার পেসার ডলার মাহমুদ। চার ওভার বল করে ৪০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। একটি উইকেট নেন ফরহাদ রেজা।
জয়ের জন্য ২০৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ১৪২ রানেই থেমে যায় খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের চাকা। এ জন্য ৮টি উইকেট হারাতে হয় খুলনাকে। ৩৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে মোটামুটি ভালো একটি সূচনা এনে দেন নাজিমউদ্দিন ও রিকি ওয়েসেলসের ওপেনিং জুটি।
তবে পরের সারির ব্যাটসম্যানদের অসারতায় এ সূচনা কোনো কাজে আসেনি। স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল দুই সেট ব্যাটসম্যান নাজিমউদ্দিন (২৭) ও ওয়েসেলসকে (৩০) উইকেটছাড়া করলে খেলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় গ্ল্যাডিয়েটর্স। নামের প্রতি মোটেও সুবিচার করতে পারেননি শাহরিয়ার নাফিস (৫), মিথুন আলী (০), মিজানুর রহমান (৮)। খুলনার ছয় ব্যাটসম্যানের রান ছিল দুই অংকের নিচে। উইকেট ছাড়ার আগে অধিনায়ক ফরহাদ রেজা করেন ১৭ রান। ২৫ বলে চারটি চারসহ ২৯ রান আসে আসিফ আহমেদের ব্যাট থেকে। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বোলারদের মধ্যে চার ওভার বল করে ৯ রান দিয়ে এক মেডেনসহ চারটি উইকেট নেন স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল। কুসল সামারাভিরা লকুয়ারাচ্ছি দুটি এবং সাকিব আল হাসান একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ওয়াইজ শাহ। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৬২ রানের বড় জয় পাওয়ায় দারুণ উল্লসিত গ্ল্যাডিয়েটর্স শিবির। রানের দিক থেকে বিপিএলে এটা কোনো দলের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স : ২০৪/৪ (২০ ওভার)। ওয়াইজ শাহ ৮৪, এনামুল হক ৫০, সাকিব ২৭*, আশরাফুল ২২ ও কোব ১৭।
বোলিং : ডলার মাহমুদ ৪০/৩ ও ফরহাদ রেজা ৪২/১।
খুলনা রয়েল বেঙ্গলস : ১৪২/৮ (২০ ওভার)। ওয়েসেলস ৩০, আসিফ ২৯, নাজিমউদ্দিন ২৭ ও ফরহাদ রেজা ১৭।
বোলিং : মোশাররফ ৯/৪, লকুয়ারাচ্চি ২৯/২ ও সাকিব ২৭/১।
ফল : ৬২ রানে জয়ী ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স।