Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

‘আর্গো’ সত্যি না কল্পনা?

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
১৯৭৯ সালের পণবন্দি সঙ্কটের সময় ছ’জন মার্কিন কূটনীতিককে উদ্ধার করে সিআইএ’র এজেন্টরা। সেই কাহিনীর চিত্ররূপ এবার গোল্ডেন গ্লোব মাতিয়েছে। ইরান অবশ্য আগেই বলেছে, কাহিনীটা বিকৃত। হলিউডের সঙ্গে ঐতিহাসিক সত্যের সম্পর্ক কি অথবা কতটা—তা নিয়ে বিতর্কও এসে পড়েছে এর মধ্যে। ‘আর্গো’ ছবিটি গত সপ্তাহান্তে দুটি গোল্ডেন গ্লোব জেতে। ওদিকে আবার চারটি অস্কারেরও মনোনয়ন পেয়েছে।
কিন্তু ছবিতে যে সত্যের ঠিক অপলাপ নয়, সত্যকে মনোরঞ্জনের খাতিরে কিছুটা কেটে-ছেঁটে, সাজিয়ে-গুছিয়ে নেয়া হয়েছে—তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন ছবির চরম মুহূর্তে অর্থাত্ ক্লাইম্যাক্সে ইরানি গার্ডরা কূটনীতিকদের বিমানটির পাশ দিয়ে গাড়িতে করে দৌড়াচ্ছে বিমানটির আকাশে ওড়া রোখার জন্য, বাস্তবে যা কোনোদিন ঘটেনি।
তেহরানে কানাডা দূতাবাস ওই মার্কিন কূটনীতিকদের আশ্রয় দেয় এবং ইরান থেকে তাদের নিরাপদে বের হয়ে আসার ব্যবস্থা করে। ছবিতে কানাডার এ ভূমিকাও নগণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত ফাজলামো করার করেছেন সিআইএ এজেন্ট টোনি মেন্ডেজ, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বেন অ্যাফ্লেক স্বয়ং।
মার্ক লিজেক ছিলেন মুক্তিপ্রাপ্ত ছয়জন কূটনীতিকের মধ্যে একজন। তিনি বলছেন, থ্রিলারের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য ঘটনাগুলোকে যে কিছুটা নাটকীয় করতে হবে, সেটা তিনি বোঝেন। কেন্ টেইলর ছিলেন সে সময় তেহরানে কানাডার রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেছেন, ছবিটা তো বেশ মজারই হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, কানাডা তখন শুধু হাত-পা গুটিয়ে দর্শক হয়ে বসে ছিল না। সিআইএ ছিল কানাডার জুনিয়র পার্টনার, বলছেন টেইলর। বলতে কি, সিআইএ এজেন্ট মেন্ডেজের বয়স এখন ৭০। তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার প্রদানের সময়ও উপস্থিত ছিলেন।
সিআইএ’র অতি গোপন ফন্দি এবং সে সঙ্গে ছবির কাহিনী হলো—আটক কূটনীতিকরা ভান করছেন যে, তারা হলিউডের একটি ফিল্ম ক্রুর অঙ্গ, একটি সায়েন্স ফিকশন ছবি তোলার জন্য তেহরানে এসেছেন। চিত্রনাট্যের কল্যাণে পরে কূটনীতিকদের দুটি দলে ভাগ করা হয়নি, সবাইকে রাষ্ট্রদূত টেইলরের বাড়িতেই রাখা হয়েছে। পরে কূটনীতিকদের বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার পথে বাজারে ক্ষিপ্ত জনতার দৃশ্য, বিমানবন্দরে গাড়ির দৌড় ইত্যাদি—এ সবই উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
ওদিকে ইরান ফিল্ম করছে বিশজন মার্কিন পণবন্দিকে মার্কিন দূতাবাসের হাতে তুলে দেয়ার ব্যাপারে। মোট কথা, পণবন্দি সমস্যা ইতিহাস হয়ে গেলেও ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বের আজও সমাধান হয়নি। সূত্র : ডিডব্লিউ