Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এমপিওভুক্তির দাবি : শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষকদের কর্মসূচি স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তিন মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। এর মধ্যে যদি দাবি পূরণ না হয়, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আবার রাজপথে নামবেন।
গতকাল বিকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্যজোটের সভাপতি এশারত আলী বলেন, আমরা আশা করব শিক্ষামন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে দাবি পূরণে সফল হবেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, এমপিওভুক্তির বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ তিন মাসে এ বিষয়টি নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে বলেও মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এশারত বলেন, মন্ত্রী সরকারের অর্থসঙ্কট রয়েছে বলে জানিয়েছেন। কীভাবে এ অর্থসঙ্কট কাটিয়ে ওঠা যায়, সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন মন্ত্রী।
এদিকে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। আমি এ ব্যাপারে জানতাম। আজ তাদের সঙ্গে আলোচনা করলাম। আগামী তিন মাস আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলব। এপ্রিলে শিক্ষকদের সঙ্গে আবার বসব।
বৈঠকে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এশারত আলী। বৈঠকে শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক নেতারা জানান, লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বিনাবেতনে চাকরি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অচিরেই এমপিওভুক্ত না হলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিম্নগামী ও একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এর ফলে সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাব পড়বে। এছাড়া শিক্ষকদের আত্মাহুতির বিষয়টিও বাড়তে পারে।
এমপিওভুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা। নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করাসহ চার দফা দাবিতে ৭ জানুয়ারি থেকে কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। গত বছর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। ১ সেপ্টেম্বর তাদের কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এরপর শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়ার পর কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। ওই বৈঠকও পরে স্থগিত করা হয়। এসব ঘটনার পর গত ৩০ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি মেনে নিতে সরকারকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় ৭ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের মরিচের গুঁড়ামিশ্রিত রাসায়নিক স্প্রেতে অসুস্থ হওয়া পটুয়াখালীর মাদরাসা শিক্ষক মো. সেকান্দর আলী মারা যান। আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। ৯ জানুয়ারি বুধবার প্রেস ক্লাবের সামনে ও পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ মিনারে দু’দফায় পুলিশ মরিচের গুঁড়ামিশ্রিত রাসায়নিক স্প্রে সেকান্দর আলীর সরাসরি নাক, মুখ এবং চোখে প্রবেশ করলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হয় তার। চিকিত্সকের শরণাপন্ন হয়েও বাঁচানো যায়নি সেকান্দর আলীকে। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সংগঠনের শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের ছোড়া মরিচের গুঁড়ামিশ্রিত রাসায়নিক স্প্রে ও তরল কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের কারণেই সেকান্দর আলীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজশাহীর নন-এমপিও কর্মচারী সাইফুল ইসলাম (৪২) স্ট্রোক করে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।