Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আলোচনা সফল হওয়ায় ড. কাদরির অবরোধ প্রত্যাহার : তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নিল পাকিস্তান সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশের মহাজোট সরকার জনগণের কাছে বিপুলভাবে জনপ্রিয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিলেও নির্বাচনকালে প্রায় একই মডেলের সরকার ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
আলজাজিরা ও পিটিআই জানায়, বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি ঘোষণা দিয়েছে যে, নির্বাচনের ৯০ দিনে সংসদ ভেঙে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। তিন মাস তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো সত্ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এজন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে। এছাড়া নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে পরিবর্তন আনা হবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে। তবে এসব কিছু করা হবে দেশটির শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করেই।
পিপিপি সরকারকে এসব দাবি মেনে নিতে বাধ্য করেছে পাকিস্তানের ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ রাজনীতিকখ্যাত ধর্মীয় নেতা তাহির-উল-কাদরি। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও
গ্রহণযোগ্য করতে তিনি যেসব দাবিতে ইসলামাবাদ অচল করে দিয়েছিলেন, তার সবই মেনে নিয়েছে সরকার।
সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, কাদরির সঙ্গে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হন ১০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দল। প্রায় ৫ ঘণ্টা আলোচনার পর ৫ দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আলোচনা শেষে কাদরি এবং সরকারের প্রতিনিধি দল একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরে সরকারের প্রতিনিধি দলটি ‘ইসলামাবাদ লংমার্চ ডিক্লারেশন’ নামের খসড়া ঘোষণাপত্রটি প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফের কাছে হস্তান্তর করেন এবং আশরাফ তাতে স্বাক্ষর করেন। সরকারের সূত্রগুলো জানান, সবশেষে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি খসড়া ঘোষণাপত্রটির অনুমোদন দেন।
একে পাকিস্তানের ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তান সরকার। চুক্তি স্বাক্ষরের পর কাদরি ইসলামাবাদে সংসদ ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে তার সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আলোচনা শেষে নারী, শিশুসহ হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ড. কাদরি বলেন, ‘আজ পাকিস্তানের জনগণ এবং লংমার্চকারীদের বিজয়ের দিন। আপনাদের ত্যাগ সুফল বয়ে এনেছে।’ লংমার্চ সফল করার জন্য তিনি তার সমর্থকদের অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। তবে কাদরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ঘোষণা ও চুক্তি না মানলে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা আবার রাস্তায় নামবে।
আলোচনায় উভয়পক্ষ সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয় যে, আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেয়া হবে এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, লংমার্চের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের মামলা তুলে নেয়া হবে।
এর আগে ড. কাদরি জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদগুলো ভেঙে দিয়ে নতুন করে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। এ সময় তিনি একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনেরও দাবি করেন। লংমার্চের প্রথম দিকে পাকিস্তানে সরকার কাদরির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলন এবং লংমার্চের প্রভাব ইসলামাবাদের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে সরকার আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিলেও বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করছেন যে, এ ব্যবস্থা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।