Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জ্বালানির দাম বাড়ার পর চাল ও ভোজ্যতেলের আবারও মূল্যবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
চালের দাম কেজিতে আবারও ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আগের সপ্তাহেও বেড়েছিল কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা। দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা বাড়ল। ভোজ্যতেলের মধ্যে সুপার অয়েলের দাম লিটারে ১৫ টাকা ও সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ১৬ টাকা বাড়ার পর ফের লিটারে ২ টাকা বেড়েছে। এছাড়া পুরো শীতেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শীতকালীন শাকসবজি। জ্বালানি তেলের দাম
বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচসহ যাবতীয় খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে যার দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। তার আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। মধ্যম মানের
এসব মিনিকেট চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা। আর দু’সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৮ টাকা। বাজারে যে মানের নাজিরশাইল চাল কেজিতে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে তার দাম ছিল ৪০ টাকা। আর একটু ভালোর মানের এ জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে যার দাম ছিল ৪৫ টাকা। মিনিকেট চালের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুটি ও পারি চালের দামও কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের ব্যবহার্য মোটা গুটি চালের দাম কেজিতে এক টাকা বেড়ে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ জাতের চালের দাম আগের সপ্তাহেও ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ টাকা হয়। একটু ভালো মানের গুটির চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। দু’সপ্তাহের ব্যবধানে এ জাতের চালের দামও কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে।
বাজারে চালের সঙ্কট না থাকলেও ব্যবসায়ীরাই সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন, মিল মালিক ও আড়তদাররা চালের দাম বাড়াচ্ছেন। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে তারা দাম বাড়িয়েছেন। এদিকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের এক পাইকারি চাল বিক্রেতা জানালেন সব ধরনের চালের দাম বাড়ছে। মিনিকেট চালের দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পাইকারি বাজারেই বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ওই ব্যবসায়ী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহনের ভাড়া ২ হাজার টাকা বেড়েছে। আগে যেখানে আমরা এক ট্রাক চাল আনতে ভাড়া দিতাম ১৭ হাজার টাকা, এখন সেটা দিচ্ছি ১৯ হাজার টাকা। এক ট্রাকে একবারে ৩০০ বস্তা চাল আনা যায়। ফলে চালের দাম কিছুটা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, চালের সব চেয়ে বড় বাজার কুষ্টিয়া ও রাজশাহী। এখান থেকে দাম নির্ধারিত হয়ে আসে। তবে চালের দাম বাড়লে কৃষক লাভবান হবেন বলেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেন। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে চালসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। কয়েক ক্রেতা বলেন, সারাদেশের চালের বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। ব্যবসায়ীরা সরকারের নজরদারির বাইরে রয়েছেন বলে বাজার প্রায়ই অস্থির হয়ে ওঠে।
এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম আবারও লিটারপ্রতি ২ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে লিটারপ্রতি ১৬ টাকা বেড়ে দাম হয় ১২৬ থেকে ১২৮ টাকা। তার আগে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১১০ থেকে ১১২ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে সুপার অয়েলের দাম। এ জাতের এক লিটার সুপার অয়েল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৮০ টাকা। পাম অয়েলের দামও লিটারপ্রতি ৪ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত তেলের দাম নতুন করে বাড়েনি। বাজারে এক লিটার বোতলজাত তেল ১৩৫ থেকে ১৩৮ টাকা আর ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৬৬৫ থেকে ৬৭০ টাকায়। মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তেলের দাম বাড়িয়েছেন বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ব্যবসায়ীরাই কারসাজি করে দাম বাড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। ট্যারিফ কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, ডলারের মূল্য পতন হওয়ায় আমদানি খরচও কিছুটা কমে এসেছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম কম। তাই তেলের দাম বাড়ার জন্য যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। কমিশন আরও জানায়, ব্যবসায়ীদের সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে ১৫ শতাংশ মুনাফা ধরেও খোলা সয়াবিন তেলের দাম হওয়া উচিত সর্বোচ্চ ১১৫ টাকা লিটার।
এদিকে শীতের মৌসুমেও কমেনি কোনো ধরনের শাকসবজির দাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে সরবারহ প্রচুর থাকলেও অধিকাংশ শাকসবজির দাম ৪০ টাকার ওপর। বাজারে প্রতি কেজি শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, টমেটো ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ও গাজর ৪০ থেকে ৬০ টাকায়, কাঁকরোল, কচু, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটোল ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, ফুলকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায়, বাঁধাকপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় ও বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, ধনেপাতা কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়, লেবুর হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ৫ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রাজধানীর বাজারে স্থানভেদে সব ধরনের শাকসবজির দামেই কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি রয়েছে।
এছাড়া বাজারে আলুর দাম কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। মসুরের ডাল মানভেদে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা মসুরের ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।
বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও বেশ চড়া রয়েছে মুরগি, মাংস ও মাছের দাম। বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ডিমের দাম হালিপ্রতি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে গরুর মাংস ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, খাসির মাংস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে মাঝারি মানের এক জোড়া ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। এছাড়া আকারভেদে ইলিশ কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে দেশি ছোট রুই ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, বড় রুই ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়, বিদেশি রুই ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, দেশি কাতলা ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়, বিদেশি কাতলা ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়, চিংড়ি আকারভেদে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায়, শিং ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়, কৈমাছ ২২০ থেকে ৩৫০ টাকায় এবং শোল মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।