Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সুন্দরবনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪ : মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনসহ গুলিবিদ্ধ ১৫

শরণখোলা ও মংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
পূর্ব সুন্দরবনের গহিনে বনদস্যু মর্তুজা বাহিনীর সঙ্গে দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে ৪ দস্যু নিহত এবং দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও
মুক্তিযুদ্ধে ৯নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন ও আরও অন্তত ১৪ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ভদ্রারা ও চরাপুটিয়া এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে আটটা এবং দুপুর সাড়ে বারোটায় পৃথক দুটি বন্দুকযুদ্ধ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও মেজর (অব.) জিয়ার ভাই কামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলেদের বরাত দিয়ে দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের নেতা ও জিয়ার ভাগ্নে শাহানূর রহমান শামিম জানান, জিয়া গতকাল সকাল ১০ টার দিকে মংলা থেকে দুটি মিনি কার্গো এমভি রকি রেখা ও সাখি-২ নিয়ে দুবলায় যাওয়ার সময় সুন্দরবনের ভদ্রা ও চরাপুটিয়া ফরেস্ট অফিসের মধ্যবর্তী বগি এলাকায় দস্যু মর্তুজা বাহিনীর হামালার মুখে পড়েন। এ সময় তিনি কার্গো সাখি-২ এ অবস্থান করছিলেন।
দুবলার চর থেকে মোবাইল ফোনে মেজর জিয়ার ভাই কামাল উদ্দিন আরও জানান, শুক্রবার সকালে মংলা থেকে ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন নিজস্ব লোকজন নিয়ে ট্রলারে দুবলার উদ্দেশে রওনা হন। পথে বনের টিয়ারচরের কাছে চরাপুটিয়া এলাকায় পৌঁছলে বনদস্যু মর্তুজা বাহিনী তার ট্রলারে অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের লোকজনও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী এ গোলাগুলির একপর্যায়ে ৪ দস্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এছাড়া দস্যুদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মেজর (অব.) জিয়া মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথায় শটগানের গুলি লাগে। পরে তাকে স্পিডবোটে করে দুবলার চরে নিয়ে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা চলছে বলে জানা গেছে। নিহত দস্যুদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
অপরদিকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুবলার চরাঞ্চল থেকে লোকালয়ে ফেরার পথে ভদ্ররা এলাকায় জেলেদের একটি বহরে হামলা চালায় দস্যু মর্তুজা বাহিনী। জেলেদের জিম্মি করে লুটপাটকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দস্যু শীর্ষ বাহিনী। এ সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ দুই দস্যু বাহিনীর মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে অন্তত ১৪ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত জেলেদের উদ্ধার করে দুবলার আলোর কোল এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে অন্য জেলেরা। এদের মধ্যে সালাম নামের এক জেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কমান্ডার লে. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বন্দুকযুদ্ধ ও হতাহতের খবর পেয়ে বিকালে কোস্টগার্ডের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
মর্তুজা বাহিনীর হামলায় মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের চেয়ারম্যান জিয়া গুলিবিদ্ধ : মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের চেয়ারম্যান ও সন্দুরবনের দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন দস্যুদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বেলা সাড়ে বারোটার দিকে দস্যু বাহিনী গুলিবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে তার সঙ্গীরা ও মেজর জিয়া পাল্টা গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে মেজর জিয়া মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে মর্তুজা বাহিনী পিছু হটে। পরে তাকে সঙ্গীয় জেলেরা দুবলায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার কথা।
জিয়ার সফরসঙ্গী জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী গুলি বিনিময়কালে ৪ দস্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো লাশ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে গোছা সুন্দরবনজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জেলেরা জানান। সাধারণ জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে।