Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জিয়াউর রহমানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম কমল। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে দলের সমন্বয়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বাণী দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের
মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে রাজনৈতিক ঐকতানে নিয়ে আসা ও সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কারণে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে আখ্যা পান। তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯-দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের প্রিয় দল হিসেবে ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ’৯১ সালের পঞ্চম সংসদ ও ষষ্ঠ এবং অষ্টম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। স্বৈরশাসক এরশাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ’৮৬ সালের তৃতীয় ও ’৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে।
’৭১ সালে তার স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ’৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহি-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়—তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার। হরণ করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ জিয়াউর রহমানেরই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃহত্ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন।
জিয়াউর রহমান একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, অন্যতম সেক্টর কমান্ডার। তার দরাজ কণ্ঠেই স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ হানাদার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তত্কালীন সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে।
কর্মসূচি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে দু’দিনের কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। আজ ভোরে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের পক্ষ থেকে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাব) উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
ড্যাবের উদ্যোগে নয়াপল্টনে সকাল ৯টায় মেডিকেল ক্যাম্প হবে। এটি উদ্বোধন করবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। আগামীকাল (রোববার) বিকাল ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোকচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা, পোস্টার, লিফলেট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
তরিকুল ইসলামের বাণী : বিএনপির সমন্বয়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি গতকাল এক বাণীতে বলেন, এদেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দিশারী হয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। স্বাধীনতা-উত্তর দুঃসহ স্বৈরাচারী দুঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্ত, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অপরাজনীতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করে স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিল দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে—তখন জাতির এক চরম সঙ্কটময় মুহূর্তে সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতার হাল ধরেন। ক্ষমতায় এসেই মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, নিশ্চিত করেন মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা। উত্পাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তার তীব্র গণতান্ত্রিক চেতনা এবং দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। শহীদ জিয়া ছিলেন আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন দেশপ্রেমিক। তাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীল নকশা বাস্তবায়নের কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য। শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তার প্রদর্শিত পথেই বর্তমানের অগণতান্ত্রিক শক্তি ও আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করতে হবে।
তরিকুল ইসলাম এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার এবং মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।