Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সা ক্ষাত্ কা র : কৃষকরা খরচের ১০ ভাগ লাভ পেলেও পেশা ছাড়তেন না

কৃৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুক
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেক কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন জানিয়ে কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুক বলেন, উত্পাদন খরচের ১০ ভাগ লাভ কৃষকরা পেলে তারা এ পেশা ছেড়ে যেতেন না। বর্তমানে তারা উত্পাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। তিনি আরও জানান, ফসল ওঠার পরই ধার ও ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে থাকেন চাষীরা। ঋণদাতারা ফসল ঘরে ওঠার আগে থেকে টাকা পরিশোধের তাগাদা দেন। ঋণের চাপ থাকায় চাষীরা ফসল মজুত না করে প্রায়ই পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। অনেক সময় কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় জমি ফেলে রাখেন। এ সমস্যার সমাধান কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে কৃষকরা কৃষিপণ্যের সঠিক দাম পাবেন।
কৃষিবিদ মো. মোসলেহ উদ্দিন ফারুক বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অর্থকরী ফসল উইংয়ে উপ-পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন।
পরিকল্পনা মোতাবেক উত্পাদন করা হয় না জানিয়ে কৃষিবিদ মো. মোসলেহ উদ্দিন ফারুক বলেন, আমাদের দেশে বাজারজাত ব্যবস্থাপনা বেশ দুর্বল। বিদেশে কিন্তু টার্গেট নিরূপণ করে ফসল ফলানো হয়। কতটুকু চাহিদা, কতটুকুই বা রফতানি করতে হবে—এসব দিকে লক্ষ্য রেখে ফসল উত্পাদন করায় বিশ্বের অনেক দেশের কৃষকরা ভালো আছেন। তাদের ভাত কাপড় স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। আমাদের দেশে এটা নেই বলেই কৃষক মানেই একজন হাড্ডিসার লোক—ওদিকে সংসারে রয়েছে অভাব-অনটন। তারা দিনগুলো পার করেন বড়ই কষ্টে। কৃষকরা উত্পাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেলেই তাদের অভাব-অনটন ঘুচবে, সেই সঙ্গে তাদের দিতে হবে স্বাস্থ্যসেবা। তিনি বলেন, উত্পাদিত ফসলে ২০ ভাগ লাভের মুখ দেখলে তারা তো দরিদ্র থাকতেন না। ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মহাজনের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে তারা লাভ করতে পারছেন না। যাদের জমি বেশি আছে তারা ৫০ ভাগ লাভ করেন, তাদের ক্ষতি হয় না। অরিজিনাল কৃষকরা দরিদ্রই রয়ে গেছেন। ‘কৃষক ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার জন্য কে দায়ী?’ এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক নেই বলেই কৃষক কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা সরকারকেই ঠিক করতে হবে। এজন্য কৌশলগত একটা নির্দেশনা থাকা দরকার। কৃষককে বাঁচানোর জন্যই এটা করতে হবে। এজন্য সব পেশাজীবীকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কৃষকদের লোকসানের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে কৃষককে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা দিতে হবে। আরেকটা ব্যাপার তা হলো সমন্বয়ের অভাব। যেমন কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি মন্ত্রণালয় খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়—এর একের সঙ্গে আরেকের সমন্বয় হলেই কৃষকের অবস্থা ভালো দিকে যাবে।
কৃষিবিদ মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, আমাদের দেশে প্রধান আয়ের উত্স কৃষি। এই কৃষির সঙ্গে জড়িত কৃষকরা। এক সময় তো কৃষকদের মধ্যে পুরনো ধ্যান-ধারণা ছিল। নতুন নতুন প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে গিয়ে কৃষিবিদরা বেশ পরিশ্রমও করছেন। উচ্চফলনশীল জাত নিয়ে গেলে এক সময় তারা তা বিশ্বাস করতে চাইতেন না। সার ব্যবস্থাপনার কথা বললে তারা ভয়ভীতি পেতেন। অনেক পরে হলেও কৃষকরা বুঝতে পেরেছেন, কৃষিবিদরা তাদের ভালো পরামর্শটাই দিচ্ছে। তবে প্রাইভেট কিছু কোম্পানির বীজ কিনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন।
কৃষিকর্মীরা কি কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেয়—এমন প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ উদ্দিন জানান, কৃষিকর্মীরা কৃষকদের সঠিক পরামর্শটাই দিচ্ছে। কিন্তু অনেক কৃষক সঠিক সময়ে পরামর্শ নেন না। পরামর্শ দিলেও অনেকে ওই পরামর্শ শোনেন না।
পাট প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাট নিয়ে কৃষকদের মধ্যে একটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। নতুনভাবে পাঠ চাষ শুরুও করেছিল। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে তারা এখন হতাশ। ‘সোনালি দিন আবার ফিরে আসবে’—এমন আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। তাই লোকসান দিয়ে কৃষক আবার ধান কিংবা অন্যান্য ফসল চাষাবাদে ফিরে এসেছেন।
‘আমাদের দেশ কি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে আছি। অল্প পরিমাণ চাল আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে যাতে খাদ্য সমস্যা না দেখা দিতে পারে এজন্যই হঠাত্ হঠাত্ বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হচ্ছে। অপরদিকে সাধারণ মানের চালও রফতানি করছি।
সাক্ষাত্কার গ্রহণ : লিয়াকত হোসেন খোকন