Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উত্পাদন খরচ না ওঠায় : রসুন চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বড়াইগ্রামের চাষীরা

হাসানুল বান্না উজ্জ্বল, বড়াইগ্রাম (নাটোর)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নাটোরের বড়াইগ্রামে গত কয়েক বছরে উত্পাদিত রসুন বিক্রি করে চাষীদের উত্পাদন খরচই ওঠেনি। এতে রসুন আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কৃষকরা। এ কারণে চলতি মৌসুমে উপজেলায় রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর বড়াইগ্রামে মোট ৭ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষ হয়েছিল। এবার সমপরিমাণ জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মাত্র ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর কম।
রয়না গ্রামের রসুন চাষী আবু বকর মণ্ডল জানান, প্রতি বিঘা জমিতে রসুন চাষে শ্রমিক খরচ, বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে রসুন আমদানি এবং সরকারিভাবে রসুন না কেনায় বিগত কয়েক মৌসুমে রসুনের ন্যায্য দাম পায়নি কৃষকরা। এ বছর ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে রসুনের মণ বিক্রি হয়েছে। ফলে বিঘাপ্রতি কৃষকের ১২-১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এতে রসুন চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই এবার চাষীরা রসুন আবাদের পরিবর্তে অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।
জালশুকা গ্রামের মাহবুবুর রহমান মবু জানান, গত বছর আমি ৮ বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছিলাম। কিন্তু উত্পাদিত রসুন বিক্রি করে লাভের পরিবর্তে লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়েছে। তাই এবার ৪ বিঘা জমিতে রসুন লাগিয়েছি। বাজিতপুর গ্রামের জসীমউদ্দিন জানান, গত মওসুমে দাম কম থাকায় রসুন বিক্রি করতে পারিনি। ঘরেই পড়ে রয়েছে। আবার জমিও পতিত থাকে। তাই জমি ফেলে না রেখে রসুন বীজ রোপণ করেছি। যদি দাম বাড়ে তাহলে খরচ উঠবে, নাহলে আর কিছু করার নেই।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ১৯৯৫-১৯৯৬ সাল থেকে এ এলাকার চাষীরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিনা হালে রসুন চাষ করে আসছেন। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া (বীজ) লাগানো হয়। এজন্য প্রচলিত নিয়মে জমি চাষ করার প্রয়োজন পড়ে না। এ পদ্ধতিতে আগাছাও কম জন্মে এবং সারের ব্যবহারও কম করতে হয়। উপরন্তু এ পদ্ধতিতে রসুনের ফলনও বেশি হয়। বিঘাপ্রতি রসুনের ফলন হয় ২০-২৫ মণ। বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, বড়াইগ্রামের দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটি রসুন চাষের জন্য বেশি উপযোগী। তাছাড়া ভালো দাম পাওয়ায় এ এলাকার চাষীরা ব্যাপকহারে রসুন আবাদ ঝুঁকেছিল। কিন্তু গত ২-৩ বছর ধরে দাম না পাওয়ায় কৃষকের আর্থিক লোকসান গেছে। তাই এবার বড়াইগ্রামে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।