Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নতুন কুঁড়িদের জিয়া

শা কি ল ও য়া হে দ
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিশুপ্রীতি ছিল সর্বজনবিদিত। তাদের সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যত্ নিয়ে তার ছিল নানা রকম চিন্তা-ভাবনা। কোমলমতি শিশুদেরকে নতুন কুঁড়ি নামে ডাকতে পছন্দ করতেন তিনি। বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ এই নতুন কুঁড়িদের হাতেই নির্মিত হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। শিশুদের কল্যাণে তিনি অনেক সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম বাংলাদেশের শিশুদের কল্যাণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগের পাশাপাশি তার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করতেন তিনি। তাই শিশুর সুস্বাস্থ্য, চিকিত্সা, পুষ্টি দেখভাল করার জন্য যেমন রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা করা হয়েছিল তার তত্ত্বাবধানে, তেমনি শিশুর সুশিক্ষালাভসহ সুকুমারবৃত্তির চর্চাও যেন ঠিকঠাকমত চলে, সেদিকে তিনি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। আমাদের দেশের শিশুরা হবে স্বাস্থ্যবান, মেধাবী, সুশিক্ষিত এবং নেতৃত্বের আসন গ্রহণে প্রস্তুত—এমনটাই স্বপ্ন দেখতেন তিনি। আজ এই শিশুবান্ধব রাষ্ট্রনায়কের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তার জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিতব্য আজকের লেখায় শিশুদের কল্যাণে তার মূল্যবান অবদান নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।
শিশু হাসপাতাল : বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার ছিল উদ্বেগজনক রকম বেশি। অপুষ্টি, রোগবালাইয়ের আক্রমণ, দারিদ্র্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে অসচেতনতার কারণে অসংখ্য শিশু অপরিণত বয়সেই মৃত্যুবরণ করত। এই সমস্ত হতভাগ্য শিশুর মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবার জন্য কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশে ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আগ্রহে এই হাসপাতালে দেশসেরা চিকিত্সক ও শিশু বিশেষজ্ঞরা নিযুক্ত হলেন। এই বিশেষায়িত হাসপাতালে শিশুদের সর্বোত্তম চিকিত্সাসেবা দেবার জন্য সম্ভাব্য সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলো। বাংলাদেশের অবহেলিত শিশুরা পেল তাদের নিজস্ব একটি হাসপাতাল, যেখানে শুধুই তাদের চিকিত্সা দেয়া হবে এবং তাদের রোগবালাই নিয়ে উচ্চমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকা শিশু হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিশু চিকিত্সার একটি বিশেষ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয় তারই উত্সাহে।
শিশু পার্ক : মাঠে-ঘাটে খেলে বেড়ানো বাংলাদেশের শিশুদের জন্য কোন বিনোদনমূলক পার্ক ছিল না, যেখানে গিয়ে শিশুরা প্রাণভরে খেলবে এবং নির্মল আনন্দ লাভ করবে। শিশুদের প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকা শহরের শাহবাগে স্থাপন করলেন দেশের প্রথম শিশু পার্ক। বিশ্বের জনপ্রিয় সব এমিউজমেন্ট পার্কের আদলে ঢাকা শিশু পার্কেও স্থাপন করা হলো বিশাল নাগরদোলা ও রোলার কোস্টারসহ মজার মজার সব আইটেম, যা এর আগে বাংলাদেশের শিশুরা দেখেনি। সারা দেশের শিশুদের জন্য বিরাট আকর্ষণের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল ঢাকার শিশু পার্ক। মা-বাবার সাথে ছুটির দিনে ছুটে আসতে লাগল শিশুরা তাদের প্রিয় পার্কে। লাফ-ঝাঁপ, হুটোপুটি-ছুটোছুটি, হা-হা-হি-হি, আরো কত কি! স্কুলশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে দূর-দূরান্তের শিশুরাও দল বেঁধে আসতে লাগল শিশু পার্কে হৈ-হুল্লোড় করতে। আজ এত বছর পর স্বীকার করতেই হবে যে, ঢাকা শিশু পার্ক ছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তরফ থেকে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য এক অনন্য উপহার। বহু বছর ধরে এই পার্কই ছিল ধনী-গরিব নির্বিশেষে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অফুরান আনন্দের উত্স। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা ভেবে তিনি ঈদ উত্সবের দিনে ঢাকা শিশু পার্ক উন্মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ যখন শিশু পার্কে নানা বয়সী শিশুদের উল্লাসে মাতোয়ারা হতে দেখি, তখন চোখে ভাসে এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি, যিনি তার ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে নিয়ে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখতেন।
শিশু একাডেমী : শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শিশু একাডেমী। এই একাডেমী থেকে শিশুদের উপযোগী করে রচিত নানা বিষয়ের ওপর বই প্রকাশ করা হতে লাগল। শিশুদের জন্য বিশেষ পত্রিকা প্রকাশ করা হলো, যেখানে শিশুদের জন্য রচিত নানা লেখার পাশাপাশি শিশুদের রচিত নির্বাচিত লেখাও প্রকাশের সুযোগ রাখা হলো। অভিনয়, ছবি আঁকা, আবৃত্তি, নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানোসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলো শিশু একাডেমীতে। জেলাপর্যায়ে শিশু একাডেমীর কার্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশ কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দেয়া হল দেশজুড়ে। সারা দেশের শিশুদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হল। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেদের বিশেষ গুণাবলী বা প্রতিভার উত্কর্ষ সাধন করতে শিশুরা উত্সাহী হয়ে উঠল। কেউ আঁকছে ছবি, কেউবা গাইছে গান, কেউ নাচছে নূপুর পায়ে, আবার কেউবা গলা কাঁপিয়ে আবৃত্তি করছে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা। শিশু একাডেমী তার আঙ্গিনায় এমনই উদ্দীপনার আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।
জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা : সারা দেশ থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা। শিশু একাডেমীর উদ্যোগেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হত একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে। স্কুল থেকে মহকুমা, মহকুমা থেকে জেলা, তারপর বিভাগ, সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হত এই প্রতিযোগিতায়। অসংখ্য প্রতিযোগী থেকে বাছাই করে প্রতিটি বিষয়ের সেরা প্রতিযোগী চলে যেত পরবর্তী পর্যায়ে। প্রতিযোগীর সংখ্যা যেমন অনেক, তেমনি দর্শক-শ্রোতার সংখ্যাও ছিল অনেক। প্রায় কয়েক মাস ধরে চলত এই প্রতিযোগিতার বিশাল আয়োজন। আবৃত্তি, একক অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, গান, নাচ—সব বিষয়ের ওপর এই প্রতিযোগিতা হত। গানের প্রতিযোগিতা হত কয়েকটি ভাগে, যেমন রবীন্দ্র, নজরুল, দেশাত্মবোধক, পল্লী, আধুনিক ইত্যাদি। নাচও তেমনি কয়েক ভাগে হত। প্রতিযোগিতার বিষয় অনেক, প্রতিযোগী অনেক, ধাপও অনেক। সব মিলিয়ে খুব জমজমাট এক প্রতিযোগিতা হত সারা দেশজুড়ে। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে নিতে হত যে কোন বিষয়ের সেরা পদক। শিশু একাডেমীর জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল এই প্রতিযোগিতা।
নতুন কুঁড়ি টেলিভিশন প্রতিযোগিতা : বাংলাদেশ টেলিভিশনে নতুন কুঁড়ি নামে নতুন প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার চালু করা এই অনুষ্ঠানটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সারা দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকত নতুন কুঁড়ির অনুষ্ঠান দেখার জন্য। ছোট ছোট শিশুরা নানা বয়স বিভাগে বিভক্ত হয়ে নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিত, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হত। বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকালবেলায় নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানটি বিশেষ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছিল, যারা পরবর্তীতে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সবিশেষ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। আজ নানা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন আঙ্গিকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম যখন চোখে পড়ে, তখন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কুঁড়ির প্রবর্তককে খুব করে মনে পড়ে।
কাব, বয়স্কাউট ও গার্ল-গাইড আন্দোলন : শিশু-কিশোরদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলীর পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাবার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কাব, বয়স্কাউট ও গার্ল-গাইড আন্দোলনকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তিনি এই লক্ষ্যে প্রতিটি স্কুলে স্কাউট দল গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রাইমারি স্কুলে কাব স্কাউট, হাই স্কুলে বয় স্কাউট ও মেয়েদের স্কুলে গার্ল গাইড দল গড়ে উঠতে থাকে তার উত্সাহে ও পৃষ্ঠপোষকতায়। এর মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন শিশু-কিশোররা সংগঠিত হবে এবং সমাজে বিরাজমান নানা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে গিয়ে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে শিখবে। বিশেষ ইউনিফর্ম ও ক্যাপ পরা, ব্যাজ লাগিয়ে সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ করা, ক্যাম্পুরি ও জাম্বুরিতে তাঁবুবাস করা এবং নিজের কাজ নিজে করতে শেখার মাধ্যমে এই শিশু-কিশোরেরা আরো পরিণত ও যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে বলে আশা করতেন রাষ্ট্রপতি জিয়া।
শিশুদের বিদেশভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ : বাংলাদেশের শিশুরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সাথে পরিচিত হবে এবং নিজেদের আরো প্রতিযোগিতা সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারবে বলে বিশ্বাস করতেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। তাই তিনি বিভিন্ন সময়ে শিশুদের জন্য এ ধরনের সফরের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতেন। রাষ্ট্রীয় সফরের সময় সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদেরকে। অনেককে বিভিন্ন দেশে নাচতে কিংবা গাইতে পাঠিয়েছেন জাতীয় সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে। শিশু চিত্রশিল্পীদের মাঝেমধ্যে বিদেশে অনুষ্ঠিত ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় পাঠিয়েছেন। স্কাউট আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের বিদেশে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পুরি, জাম্বুরিতে বা সম্মেলনে প্রেরণ করতেন। উদ্দেশ্য ছিল একটাই। তার প্রিয় নতুন কুঁড়িরা দেখবে, শিখবে এবং সম্ভব হলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।
মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বঙ্গভবনে সম্বর্ধনা প্রদান ও হিজবুল বাহারে সমুদ্র ভ্রমণ : রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বিশেষভাবে মূল্যায়ন করতেন। তার আমলে নিয়মিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারীদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ করা হত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজে উপস্থিত থেকে মেধাবীদেরকে সম্বর্ধনা দিতেন তিনি এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম বোধকে জাগ্রত করার চেষ্টা করতেন। মেধাবীদের সাথে নিয়ে হিজবুল বাহার নামক জাহাজে করে সমুদ্রভ্রমণে যেতেন। সেই সমুদ্রভ্রমণে সঙ্গী করা হত দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের, যাদের সংস্পর্শে এসে নবীন মেধাবীরা অনেক কিছু জানতে পারবে। হিজবুল বাহারে নিজেও সময় কাটাতেন তিনি নবীন মেধাবীদের সঙ্গে। নিজের ভাবনাগুলো ওদের বলতেন। ওদের ভাবনাগুলোও বোঝার চেষ্টা করতেন। আর কবে কোন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী মিশেছে নতুন কুঁড়িদের সাথে এমন করে?
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় : রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার লক্ষ্যে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তার শাসনামলে তার বিশেষ আগ্রহের কারণেই মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্রকে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে জাতির ভবিষ্যত্ নির্মাণের স্বার্থেই।
উপসংহার : ওপরে বর্ণিত অনুচ্ছেদগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তিমূল রচিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন তিনি সুনিপুণভাবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে দিয়েছিলেন যেখানে যেমনটা প্রয়োজন। নতুন কুঁড়িদের পরম যত্নে লালন করবার জন্যে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোটুকুও নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন। স্বাস্থ্যে, শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে কোথাও কোন ঘাটতি যেন না থাকে, সেই চেষ্টাটুকু করেছিলেন আন্তরিকভাবে। তার কীর্তিসমূহ সগৌরবে দাঁড়িয়ে থেকে তার অবদানের কথা সাক্ষ্য দেয়। জৈবিকভাবে অনুপস্থিত থেকেও তিনি ঠিকই বিরাজ করছেন তার প্রিয় নতুন কুঁড়িদের পাশে। শিশু পার্কের নাগরদোলায়, শিশু একাডেমীর অডিটোরিয়ামে কিংবা শিশু হাসপাতালের বারান্দায়—কোথায় নেই তিনি? চারপাশে তার হাতের ছাপ চোখে পড়ে আজো।
লেখক : সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি; সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল; মহাসচিব, এমবিএ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব)