Amardesh
আজঃ শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ৬ মাঘ ১৪১৯, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 বিশেষ আয়োজন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নির্মাতার কলাম : ‘অভিনেতারা কেউ ষাঁড়ের কাছে ভিড়তে চায় না’

« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
একটি ভালো সিরিয়াল নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়েই ‘গ্রেট মিসটেক’-এর ভাবনার সূত্রপাত। শুধু বিনোদন নয়, হাস্যরসের আঙ্গিকে মূল্যবোধের নাটক। প্রাথমিকভাবে আমাদের ভাবনা ছিল অতি সহজ। স্থূল বুদ্ধির দুই যুবক ট্যারা বাচ্চু আর তাবিজ মুন্না কোনো কিছু করতে গিয়ে যে মিসটেক করে ফেলে তা নিয়েই সিরিয়ালের কাহিনী গড়ে উঠবে। সেভাবে ৭ পর্ব লিখাও হয়। আমরা চ্যানেল ২৪-এ গ্রেট মিসেটক নির্মাণ বিষয়ে কথা বলতে যাই। আমাদের ভাবনায় সূচী ভাই নতুন মাত্রা যোগ করেন। গ্রেট মিসটেক সিরিয়াল নয়, গ্রেট মিসটেককে নিয়ে এক ঘণ্টার সিরিজ ড্রামা করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটাকে আমরা খুবই আন্তরিকভাবে গ্রহণ করি। চ্যানেল ২৪ থেকে ফেরার পথে ভাইয়া (জাহিদ হাসান) বলেন, ‘ইমরান একটা খেলা আছে।’ আমি বললাম, ‘কী রকম।’ ভাইয়া বলেন, ‘সবকিছুর ব্যাখ্যা সব সময় দিতে পারি না। তবে অনুভব করতে পারি গ্রেট মিসটেক হিট করবেই। তুই জানপ্রাণ দিয়ে লেগে যা।’ তবে গ্রেট মিসটেক লিখা ও নির্মাণের বিষয়ে আমাদের পুরো টিমের অন্যরকম আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। ভাইয়া, বুলু ভাই ও মীর সাব্বির আমাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। কখনও গল্প নিয়ে, কখনও সেট প্রপস নিয়ে। কারণ সিচুয়েশনাল কমেডির আয়োজন সব সময়ই বেশি লাগে, যা অমাদের নির্মাণ ব্যায়ের মধ্যে রাখা খুবই কঠিন।
গ্রেট মিসটেকে ট্যারা বাচ্চু ও তাবিজ মুন্নার বিভিন্ন মিসটেক থাকলেও সিরিজটি বিভিন্ন পর্ব নির্মাণের সময় আমরাও গ্রেট মিসটেক করে ফেলি। ইলেকশন পর্বের ভোটের নির্বাচনী প্রচারণায় দুই দলের মধ্যে তুমুল লড়াই। একদিকে বাঘ অন্য দিকে ষাঁড়। কিন্তু শুটিংয়ের সময় এমন বিশাল ষাঁড় নিয়ে আসে, তাকে কিছুতেই কন্ট্রোল করা যায় না। প্রচারণার মিছিল শুরু হলে হঠাত্ ষাঁড় ক্ষেপে গিয়ে লোকজন তাড়া করতে থাকে, গাড়ির গ্লাস ভেঙে তছনছ করে দেয়। মহা ঝামেলা বাধে, অভিনেতারা কেউ ষাঁড়ের কাছে ভিড়তে চায় না। কিন্তু ষাঁড়টাকে বাদও দেয়া যায় না। কারণ ষাঁড়কে নিয়ে বেশকিছু দৃশ্য শুটিং হয়েও গেছে। ষাঁড় পালক বললেন, ষাঁড়টাকে সব সময় ঘরের মধ্যে রাখা হয়। এত মানুষের শব্দ শুনে ভয় পেয়ে যাচ্ছে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শব্দ না করেই ভোটের প্রচারণার মিছিলের শুটিং করার। একটি বিনোদনধর্মী নাটক তখনই সার্থক হয় যখন দর্শকনন্দিত হয়। গ্রেট মিসটেক দর্শকদের ভালো লাগছে, টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টে এক নাম্বারে এসেছে—এটা আমাদের অনেক বড় পাওয়া। আমরা প্রতিশ্রুতিশীল, আগামীতে গ্রেট মিসটেকের আরও মজার মজার গল্প উপহার দেব। প্রতি শনিবার রাত ৯টায় চ্যানেল ২৪-এ গ্রেট মিসটেক দেখতে ভুলবেন না। এই আজকের পর্বের গল্প বিয়েকে কেন্দ্র করে।
সিরাজগঞ্জ শহর থেকে পালিয়ে গ্রামে আসে ট্যারা বাচ্চু ও তাবিজ মুন্না। গ্রামের রাস্তা দিয়ে দৌড়াতেই থাকে। দু’জনই ভীষণ ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত। হঠাত্ করেই চোখে পড়ে বিয়ে বাড়ির গেটে বড় করে লিখা ‘শুভ বিবাহ’। খাওয়া-দাওয়ার ধান্দায় তারা বিয়ে বাড়ির দিকে যেতেই পড়ে মহাবিপাকে। মেয়ের বাবা বরযাত্রী ভেবে সমাদর করতে থাকে। কারণ তাবিজ মুন্নার সঙ্গে পাত্রের অনেক মিল। মুন্না ভয় পেলেও মামা সান্ত্বনা দেয়, ‘ভাগিনা চিন্তা নাই, খাওয়া-দাওয়া করি। বিয়া তো রাতে, সুযোগ মতো কেটে পড়ব।’ বিয়ের পাত্রীকে দেখে মুন্নার ভীষণ ভালো লাগে, কিন্তু মিথ্যা পরিচয়ে তো বিয়ে করা যায় না। এরই মধ্যে আসল পাত্র চলে আসে। মামা-ভাগ্নে পড়ে যায় মহাবিপাকে।