Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২৫ পৌষ ১৪১৯, ২৫ সফর ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনায় আসুন : খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তলে তলে নয়, প্রকাশ্য আলোচনায় রাজি বিএনপি। কোনো ধরনের খোশগল্প করার সময় আমাদের নেই। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। গতকাল গুলশানে এক যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
তলে তলে বিএনপির সঙ্গে তত্ত্বাবধায় সরকার নিয়ে আলোচনা চলছে বলে এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বেগম জিয়া বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। সে
সময় তাদের সঙ্গে তলে তলে আলোচনা হয়নি, হয়েছে প্রকাশ্যে।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার যুবলীগ সভাপতি আলী আক্কাস রতনসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু ছাড়া আর কোনো বিষয়ে বিএনপি আলোচনা করবে না। অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনার মানসিকতা বা সময় কোনোটিই বিএনপির নেই। সংবিধান সংশোধন করে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করতে হবে।
মির্জা ফখরুলকে কারাগারে আটক রাখার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, কোনো প্রতিশোধ আমরা নেব না। তবে আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে যে অন্যায় আচরণ করেছে, আইনগতভাবেই তাদের অনেক শাস্তি পেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, টাম্প কার্ড দিয়ে সরকার পতন, গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা, একটির বদলে দশটি লাশ ফেলে দেয়া, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার প্রতিটি ঘটনায় হুকুমের আসামি করা যেত। কিন্তু আমরা তা করিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি নেতা রফিকুল মজুমদারের হত্যার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, রফিকুলকে শ্বশুর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। এ কি রাজনীতি। প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে। বিএনপির ভালো ভালো নেতাদের দেখে দেখে তারা হত্যা করছে। এ সময় তিনি ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের গুমের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, এই অবস্থায় মানুষ কীভাবে বাঁচবে। এই দুরবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য আন্দোলনের মাধ্যমে নিদর্লীয় সরকারের দাবি মানতে বাধ্য করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার বেশি অপকর্ম করে ফেলেছে। তাই তারা এখন ভয় পাচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জনগণ তাদের ভোট দেবে না।
এর আগে সেনবাগ যুবলীগের সভাপতি আলী আক্কাস রতনের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শতাধিক স্থানীয় নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। যোগ দিয়ে আলী আক্কাস আলী বলেন, দুঃখ লাগে এতদিন আওয়ামী লীগ করেছি, অনেক টাকা পয়সাও খরচ করেছি, কিন্তু সম্মান পাইনি। তাই জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছি। জীবন দিয়ে হলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার মতো একজন নগণ্য ব্যক্তিকে আপনার একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। খালেদা জিয়া বিএনপিতে যোগ দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাজাহান, সেনবাগের এমপি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।